Advertisement

নবান্ন অভিযান

অধীর চৌধুরীই আমার গুরুদেব, বিশ্বাসঘাতকতা করেছি! ভোটের আগে হঠাৎ ‘উপলব্ধি’ তৃণমূল প্রার্থী বাইরনের, কিসের ইঙ্গিত

বাম-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে লড়েছিলেন বাইরন। তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন প্রায় ২৩ হাজার ভোটে। কিন্তু জেতার পরেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৩
(বাঁ দিকে) কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

অধীররঞ্জন চৌধুরীই তাঁর ‘গুরুদেব’। তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে পা দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অধীরকে তিনি মনে রাখবেন। এমনটাই দাবি করলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এমনকি, কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন বলেও স্বীকার করে নিলেন বাইরন। ভোটের আগে তাঁর এই সমস্ত মন্তব্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বাম-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে লড়েছিলেন বাইরন। তৃণমূল প্রার্থীকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু জেতার পরেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে সেই বাইরনকেই টিকিট দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় তাঁর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার কয়েক দিন আগে অন্য সুর শোনা গেল সেই বাইরনের মুখে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, অধীর তাঁর ‘দাদার মতো’ এবং সেই অধীরের সঙ্গে তিনি ‘স্বার্থপরের মতো বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।

বাইরনকে অধীর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘সারা দেশ জানে, অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই আমি কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হয়েছিলাম। সেলিম (সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম) সাহেবের হাত ধরে প্রার্থী হয়েছিলাম। যেটা সত্যি, সেটা তো বলতেই হবে। আমি শুধু কংগ্রেস আর সিপিএমের ভোটে জয়ী হইনি। তা সম্ভব ছিল না। আমাকে বিজেপিও ভোট দিয়েছে। তৃণমূলের ভোটও পেয়েছি।’’ সাগরদিঘির মানুষের উদ্দেশে বাইরনের বার্তা, ‘‘আমি বাইরন বিশ্বাস নিজে বলছি, যদি বিজেপির প্রার্থী বা অন্য কোনও প্রার্থীকে আপনারা আমার থেকে ভাল বলে মনে করেন, তাঁকে জয়ী করুন। তাঁর কাছ থেকে পরিষেবা নিন। যদি মনে হয়, অন্য কেউ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে, বাইরন বিশ্বাসকে জয়ী করার দরকার নেই।’’

Advertisement

কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কথা স্বীকার করে নিয়ে বাইরন বলেন, ‘‘আমি স্বার্থপর। বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। করিনি বলব না। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই। ওঁকে আমি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত স্মরণ করব। সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব। যে যা-ই বলুক, আমার কাছে ভগবানের পরেই ওঁর স্থান। ওঁকে দাদা হিসাবে শ্রদ্ধা করি। বড় হয়ে ছোট ভাইকে উনি কিছু বলতেই পারেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। আমি কিছু মনে করি না। বরং ওঁর কথা শুনলে আনন্দ পাই।’’

অধীর নিজেও এ বার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী। তিনি লড়ছেন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। তৃণমূল প্রার্থী বাইরন কেন ভোটের আগে তাঁকে স্মরণ করলেন, তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, স্পষ্ট নয়। অধীর-স্তুতির মাধ্যমে কি এলাকার কংগ্রেস ভোট নিজের দিকে টানার চেষ্টা করলেন বাইরন? মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তাঁর এই মন্তব্য অনেক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অধীর নিজে বাইরনের বক্তব্য শুনে বলেছেন, ‘‘বিশ্বাসঘাতকতা স্বীকার করেছেন, ভাল কথা। বিশ্বাসঘাতক মানুষের যা করার কথা, আশা করি উনি তা-ই করবেন।’’

বাইরনকে নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সাক্ষাৎকারে অধীর জানিয়েছেন, বাইরনই ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। বিধায়ক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেতার পর তৃণমূলের চাপ প্রতিরোধ করতে পারেননি। অধীরের কথায়, ‘‘ছেলেটা ভাল ছিল। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে ও তৃণমূলের চাপ প্রতিরোধ করতে পারেনি। আমার কাছে বার বার নিজেই টিকিট চেয়েছিল। আমরা যেচে টিকিট দিতে যাইনি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুই পারবি? তৃণমূল ভড়কি দেখালেই তো পালাবি। তোকে ব্যবসা কেড়ে নেওয়ার চাপ দিতে পারে।’ ও তা শুনে বলেছিল, ‘আমাকে কী প্রলোভন দেখাবে? আমার প্রচুর টাকা। আমিই ওদের দু’চার জন বিধায়ককে কিনে নিতে পারি।’ অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে জেতালাম। ও চাইত, ওর পাশে অনেক নিরাপত্তারক্ষী থাকুক। খোকাবাবু ওকে ডেকে নিয়ে বলল, তোমাকে নিরাপত্তারক্ষী দেব। ও চলে গেল।’’

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Bayron Biswas Congress Adhir Chowdhury TMC Murshidabad
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy