অধীররঞ্জন চৌধুরীই তাঁর ‘গুরুদেব’। তাঁর হাত ধরেই রাজনীতিতে পা দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত অধীরকে তিনি মনে রাখবেন। এমনটাই দাবি করলেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। এমনকি, কংগ্রেসের সঙ্গে তিনি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন বলেও স্বীকার করে নিলেন বাইরন। ভোটের আগে তাঁর এই সমস্ত মন্তব্য নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বাম-সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে লড়েছিলেন বাইরন। তৃণমূল প্রার্থীকে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু জেতার পরেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি থেকে সেই বাইরনকেই টিকিট দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় তাঁর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার কয়েক দিন আগে অন্য সুর শোনা গেল সেই বাইরনের মুখে। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, অধীর তাঁর ‘দাদার মতো’ এবং সেই অধীরের সঙ্গে তিনি ‘স্বার্থপরের মতো বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন।
বাইরনকে অধীর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘সারা দেশ জানে, অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই আমি কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হয়েছিলাম। সেলিম (সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম) সাহেবের হাত ধরে প্রার্থী হয়েছিলাম। যেটা সত্যি, সেটা তো বলতেই হবে। আমি শুধু কংগ্রেস আর সিপিএমের ভোটে জয়ী হইনি। তা সম্ভব ছিল না। আমাকে বিজেপিও ভোট দিয়েছে। তৃণমূলের ভোটও পেয়েছি।’’ সাগরদিঘির মানুষের উদ্দেশে বাইরনের বার্তা, ‘‘আমি বাইরন বিশ্বাস নিজে বলছি, যদি বিজেপির প্রার্থী বা অন্য কোনও প্রার্থীকে আপনারা আমার থেকে ভাল বলে মনে করেন, তাঁকে জয়ী করুন। তাঁর কাছ থেকে পরিষেবা নিন। যদি মনে হয়, অন্য কেউ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে, বাইরন বিশ্বাসকে জয়ী করার দরকার নেই।’’
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কথা স্বীকার করে নিয়ে বাইরন বলেন, ‘‘আমি স্বার্থপর। বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। করিনি বলব না। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই। ওঁকে আমি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত স্মরণ করব। সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব। যে যা-ই বলুক, আমার কাছে ভগবানের পরেই ওঁর স্থান। ওঁকে দাদা হিসাবে শ্রদ্ধা করি। বড় হয়ে ছোট ভাইকে উনি কিছু বলতেই পারেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। আমি কিছু মনে করি না। বরং ওঁর কথা শুনলে আনন্দ পাই।’’
অধীর নিজেও এ বার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী। তিনি লড়ছেন বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। তৃণমূল প্রার্থী বাইরন কেন ভোটের আগে তাঁকে স্মরণ করলেন, তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, স্পষ্ট নয়। অধীর-স্তুতির মাধ্যমে কি এলাকার কংগ্রেস ভোট নিজের দিকে টানার চেষ্টা করলেন বাইরন? মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে তাঁর এই মন্তব্য অনেক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। অধীর নিজে বাইরনের বক্তব্য শুনে বলেছেন, ‘‘বিশ্বাসঘাতকতা স্বীকার করেছেন, ভাল কথা। বিশ্বাসঘাতক মানুষের যা করার কথা, আশা করি উনি তা-ই করবেন।’’
বাইরনকে নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সাক্ষাৎকারে অধীর জানিয়েছেন, বাইরনই ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। বিধায়ক হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেতার পর তৃণমূলের চাপ প্রতিরোধ করতে পারেননি। অধীরের কথায়, ‘‘ছেলেটা ভাল ছিল। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে ও তৃণমূলের চাপ প্রতিরোধ করতে পারেনি। আমার কাছে বার বার নিজেই টিকিট চেয়েছিল। আমরা যেচে টিকিট দিতে যাইনি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘তুই পারবি? তৃণমূল ভড়কি দেখালেই তো পালাবি। তোকে ব্যবসা কেড়ে নেওয়ার চাপ দিতে পারে।’ ও তা শুনে বলেছিল, ‘আমাকে কী প্রলোভন দেখাবে? আমার প্রচুর টাকা। আমিই ওদের দু’চার জন বিধায়ককে কিনে নিতে পারি।’ অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে জেতালাম। ও চাইত, ওর পাশে অনেক নিরাপত্তারক্ষী থাকুক। খোকাবাবু ওকে ডেকে নিয়ে বলল, তোমাকে নিরাপত্তারক্ষী দেব। ও চলে গেল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত