টিকিট না-পেয়ে রাজনীতি ছাড়বেন বলেছিলেন। কিন্তু গোসা ভাঙে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনে। দিন কয়েক আগে এক হয়ে চলার বার্তাও দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার। কিন্তু রবিবার সকালে একেবারে কামান দাগলেন তিনি। নিশানায় সেই হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, দলের সাংসদের জন্যই এ বার প্রার্থী হতে পারলেন তিনি। এমনকি, তারকা সাংসদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অসিত বলেছেন, চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য যদি ভোটে হারেন, তার একমাত্র কারণ রচনা!
ওই সব শুনে কড়া জবাব দিয়েছেন রচনাও। তিনি প্রথমেই বিরক্তির সুরে বলেন, ‘‘ওঁর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে!’’ তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে বিধায়ক হিসাবে নিজের কর্তব্য পালন করেননি অসিত। এখন হাস্যকর সমস্ত অভিযোগ করছেন। তবে ভোটের মুখে সাংসদ বনাম বিধায়কের বাগ্যুদ্ধে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল।
রবিবার চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশুকে সঙ্গে নিয়ে ‘মহামিছিল’ করেন সাংসদ রচনা। চুঁচুড়া এইচআইটি কলেজের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। পিপুলপাতি, হাসপাতাল রোড হয়ে মিছিল শেষ হয় ঘড়ির মোড়ে। অসিতের অনুযোগ, তাঁকে ওই মিছিলে ডাকাই হয়নি। তার পর সকালবেলা সাংবাদিক বৈঠক করে রচনাকে বেলাগাম আক্রমণ শুরু করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘রচনা গ্রুপবাজি করে দলকে শেষ করছে। স্কুলে স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি করে কাটমানি খেয়েছে।’’ উল্লেখ্য, ওই স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরি নিয়েই রচনা-অসিতের দ্বন্দ্বের শুরু। এখন অসিতের অভিযোগ, রচনা তাঁর এমপি ল্যাডের কাজ ফেলে রেখেছেন। কোনও কাজই সরকারি নিয়ম মেনে করছেন না। রচনাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’, ‘মিথ্যাবাদী’, ‘বিজেপির এজেন্ট’ ইত্যাদি বলে তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, ‘‘ও চায় না দেবাংশু জিতুক। সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা নেই ওর। আমি স্নো-পাউডার মেখে দল করিনি। আমরা গুলি খেয়ে দল করেছি।’’
দিন কয়েক আগে অসিতের নাম-না করে রচনা বলেছিলেন, তিনি যতটুকু বুঝেছেন, কোনও বিদায়ী বিধায়ককে আবার টিকিট দিতে গেলে তৃণমূল বেশ কিছু বিষয় দেখে। তার অন্যতম হল এলাকায় সেই বিধায়কের ‘গুডউইল’ (সুনাম)। রবিবার অসিতের কটাক্ষ, ‘‘ওর কি গুডউইল? চুঁচুড়ায় আট হাজার ভোটে ও হারে (লোকসভা ভোটে চুঁচুড়া বিধানসভা এলাকায় রচনা ৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন)। আমি তো হারি না। এখানে কাউন্সিলরেরা (তৃণমূলের) জেতে। পঞ্চায়েত সদস্যেরা জেতে। আর ও হারে (চুঁচুড়া বিধানসভায়)। কার গুডউইল?’’ চুঁচুড়ার বিধায়কের সংযোজন, ‘‘এই শহরে যেখানেই রচনা যাবে, সেখানেই হারবে। এদের মতো লোক দলে থাকলে দল শেষ হয়ে যাবে।’’ তার পরেই আরও বড় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘আমার টিকিট না পাওয়ার পিছনে রচনার হাত আছে। ও দিদির কান ভারি করেছে। যারা মুখ ধুয়ে দিদির কাছে যায়, তাদের দিদি বিশ্বাস করেন।’’
দেবাংশুর প্রচার করতে করতে অসিতের অভিযোগ শুনেই ভ্রু কুঁচকে গিয়েছে রচনার। পরক্ষণেই তিনি হাসতে থাকেন। হাসিমুখে বলেন, ‘‘পনেরো বছরে কিছু করেনি। চুঁচুড়ার মানুষ গত ১৫ বছর ধরে যে অভিযোগ করেছেন, যে কষ্টের মধ্যে তাঁরা বলে গিয়েছেন যে ‘আমরা বঞ্চিত। আমাদের পাশে কেউ থাকে না’, ওঁদের আমি বলে দিয়ে গেলাম, চুঁচুড়াবাসীর জন্য দেবাংশু আছে। আমি রচনা আছি। আমরা পাঁচ বছরে দেখিয়ে দিয়ে যাব, যেটা ১৫ বছরে দেখাতে পারেনি (অসিত)।’’
আরও পড়ুন:
তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ রচনা জানান, তিনি এই সব কথা কানেই নিচ্ছেন না। আগামী এক মাস হুগলির তৃণমূল প্রার্থীদের জন্য পরিশ্রম করবেন তিনি।
অসিত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন, তিনি এবং রচনা যদি তৃণমূলের ছাতা ছেড়ে নির্দল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, রচনাকে তিনি বলে বলে হারাবেন। না হলে ন্যাড়া হয়ে ঘুরবেন। রচনার জবাব, ‘‘বোকা বোকা কথা বলতে বারণ করুন তো। উনি অভিজ্ঞ মানুষ। ন্যাড়া হয়ে ঘুরবেন বলছেন? আমি শুধুই হাসছি।’’
বিধায়ক বনাম সাংসদের বাগ্যুদ্ধ সামলানোর চেষ্টা করেছেন তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু। তিনি বলেন, ‘‘যদি বিধায়ক সাহেব কিছু বলে থাকেন, সেটা আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। রাজনৈতিক লড়াইটা এখানে বিজেপির বিরুদ্ধে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত