গরমে হঠাৎ হঠাৎ মাথায়, পিঠে, ঘাড়ে, কোমরে কিংবা পায়ে ব্যথা হচ্ছে? যদি ভাবেন গরমের জন্য, তবে ভুল ভাবছেন না একেবারেই। সত্যিই গরমে ব্যথা বাড়তে পারে। কিন্তু গরমে শরীরে ব্যথা হবে কেন? ভেবে দেখেছেন কি? তার কারণ হল প্রদাহ।
এমনিতে প্রদাহ সারা বছরই হতে পারে। তবে গরমকালে সেই ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যায়। কারণ বাইরের অধিক তাপমাত্রায় শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী কোষের ক্ষতি হয়। আর তা থেকেই শরীরে এমন কিছু জৈবিক অণু তৈরি হয়, যা প্রদাহের কারণ।
প্রদাহ, যাকে ইংরেজিতে ইনফ্ল্যামেশন বলা হয়, তা বাড়লে শরীরে নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তবে প্রাথমিক ভাবে প্রদাহ হলে যে সমস্যাটি হয়, তা হল ব্যথা। কারও পেশিতে, কারও অস্থিসন্ধি বা গাঁটে, কারও মাথায়, ঘাড়ে, পিঠে এমনকি পেটেও ব্যথা হতে পারে প্রদাহ থেকে। প্রাবল্য এতটাই বাড়তে পারে যে বেদনানাশক ট্যাবলেট না নিলে কমবে না। তবে কেউ যদি ওষুধ এড়িয়ে ব্যথা কমাতে চান, তবে তা অসম্ভব নয়। বাড়ির রান্নাঘরে এমন বেশ কিছু উপকরণ রয়েছে যা প্রদাহ জনিত ব্যথায় খেলে দ্রুত আরাম পেতে পারেন।
মূলত রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার কারণেই প্রদাহের ব্যথা হতে পারে। ওই সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান দ্রুত রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং প্রদাহ কমিয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক আরাম দিতে পারে।
১. আদা
আদা প্রাকৃতিক ‘পেইনকিলার’। এতে রয়েছে ‘জিনজেরল’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। মাথাব্যথা বা ঘাড়ে ব্যথার সময় আদা চা পান করলে বা কাঁচা আদা চিবিয়ে খেলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোনের নিঃসরণ কমে, যা ব্যথার সংকেত বহন করে। এছাড়া এটি পেটে ব্যথা ও গ্যাস কমায়। ফলে, তার থেকে হওয়া পেটে বা মাথায় ব্যথাও কমাতে পারে।
২. হলুদ
হলুদের ‘কারকিউমিন’ প্রদাহ বিরোধী। দীর্ঘ দিন ধরে হতে থাকা ঘাড়ে ব্যথা বা গাঁটের ব্যথার সমস্যা থাকলে প্রতি দিন গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খেলে তা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। পেশিতন্তুর ফোলাভাব কমিয়ে দ্রুত স্বস্তি দেয় হলুদ।
৩. লবঙ্গ
লবঙ্গে থাকা ‘ইউজেনল’ তেল স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত করে। মাথাব্যথা কমাতে একটি বা দুটি লবঙ্গ মুখে রাখা যেতে পারে। এছাড়া পেটে ব্যথার সময়ে লবঙ্গ ভেজানো জল খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং প্রদাহ কমে।
৪. মৌরি
পেট ব্যথার সমস্যা হলে মৌরি অত্যন্ত কার্যকর। এটি অন্ত্রের প্রদাহ কমায় এবং হজমে সহায়তা করে। যদি মানসিক চাপের কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়, তবে মৌরি চিবিয়ে খেলে স্নায়ু শান্ত হয়, যা পরোক্ষে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৫. গোলমরিচ
গোলমরিচের ‘পিপেরিন’ রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। হলুদের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে কাজ হয় আরও দ্রুত। দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহের সমস্যা সারাতেও গোলমরিচ কাজ করে।
তবে যা মনে রাখবেন
তীব্র ব্যথা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে এই ধরনের টোটকা ভাল কাজ করে। তবে যদি ব্যথা বারবার ফিরে আসে বা অসহনীয় হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।