E-Paper

অভিমানে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের ঘোষণা মঞ্জুর

অভিমানী মঞ্জু শনিবার বলেছেন, ‘‘প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই সরিয়ে দেওয়া হল। তবে এ ভাবে প্রকাশ্যে অপমান না-করলেই ভাল হত! ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার স্বামী বিকাশ বসুর খুনের বিচার হল না। শাসক-বিরোধী সব তালগোল পাকিয়ে গেল!’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৭:২৭
মঞ্জু বসু।

মঞ্জু বসু। — ফাইল চিত্র।

ধর্মতলার ধর্না-মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর প্রতি ‘ব্যবহার’ নজর এড়ায়নি দলের কর্মীদের। জল্পনা তৈরি হয়েছিল তিনি থাকছেন না। তিন বারের বিধায়কের নাম তার পরে কাটা গিয়েছে নোয়াপাড়া আসন থেকে। অভিমান প্রশমিত করতে ফোন করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে অবশ্য মান ভাঙেনি। মঞ্জু বসু জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি থেকেই সন্ন্যাস নিচ্ছেন।

অভিমানী মঞ্জু শনিবার বলেছেন, ‘‘প্রয়োজন ফুরিয়েছে। তাই সরিয়ে দেওয়া হল। তবে এ ভাবে প্রকাশ্যে অপমান না-করলেই ভাল হত! ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আমার স্বামী বিকাশ বসুর খুনের বিচার হল না। শাসক-বিরোধী সব তালগোল পাকিয়ে গেল!’’ তাঁর অনুধাবন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছে এত দিন। তাঁর দাবি, ‘‘এ বার টিকিট দিলেও আমি নিতাম না। এই অপমান সহ্য করে রাজনীতি করব না। কারণ, আমার কোনও ধান্দা নেই। আসলে আমি তোলা তুলতে পারি না! যারা পারবে, তাঁদের টিকিট দেবেন।’’ তাঁর দাবি, এক মন্ত্রী তাঁকে আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, তিনি টিকিট পাবেন না।

বাম জমানায় ২০০০ সালের ১ এপ্রিল এলাকাতেই চায়ের দোকানের সামনে খুন হয়েছিলেন তৎকালীন তৃণমূলের অবিভক্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার যুব সভাপতি বিকাশ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তখনকার তৃণমূল নেতা, নোয়াপাড়ার এ বারের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। সে বারের বিধানসভা ভোটে নোয়াপাড়া থেকে মঞ্জুকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। সেই স্মৃতি টেনেই মঞ্জু এ দিন বলেছেন, ‘‘স্বামীর মৃত্যুর পরে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আমার বাড়িতে হাজির হয়ে আমাকে ঘর থেকে বার করে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘প্রতি বারই ভোটের আগে আশ্বাস দেওয়া হয়, স্বামী খুনের ফাইল এ বার খোলা হবে। কিন্তু আমি জানি, ওই ফাইল কোনও দিন খোলা হবে না। কারণ, সর্ষের মধ্যে ভূত আছে!’’ সব মিলিয়ে পাঁচ বার প্রার্থী হয়েছিলেন মঞ্জু। তবে সাংগঠনিক জোর তাঁর ছিল না।

মঞ্জুর সিদ্ধান্তের পরে তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পার্থ ভৌমিকের বক্তব্য, ‘‘আমিও বিকাশ-হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশায় বসে আছি। রাগ-অভিমান থাকতেই পারে। আমি নিজে তাঁর সঙ্গে আবার কথা বলব।’’ আর নোয়াপাড়ার এ বারের তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘এই কেন্দ্রে আমার নাম ঘোষণা হতেই তাঁর (মঞ্জু) বাড়ি গিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছি। আশা করি, আগামী দিনেও নোয়াপাড়ার উন্নয়নে তাঁকে পাশে পাব।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Noapara

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy