Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মেদিনীপুরের মাটি গদ্দারদের কখনও সমর্থন করে না, মানুষের উচ্ছ্বাসই তার প্রমাণ’! শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে কটাক্ষ অভিষেকের

অভিষেক পূর্ব মেদিনীপুরে সুর চড়িয়ে জানান, তাঁর সরকারের উন্নয়নের রেকর্ড তিনি দিতে রাজি। কিন্তু কাঁথির বিজেপি সাংসদ কি তা করবেন?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৬
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

মেদিনীপুরের মাটি গদ্দারদের, মীর জাফরদের সমর্থন করে না। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার এ ভাবেই নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব মেদিনীপুর অধিকারী পরিবারের ‘গড়’ বলে পরিচিত। সেখানেই দাঁড়িয়েই অভিষেক একের পর এক তোপ দাগলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগদান করা শুভেন্দুকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গে কটাক্ষ করলেন বিজেপি-কে।

বৃহস্পতিবার ভগবানপুরে ওই বিধানসভা এবং পটাশপুর বিধানসভার প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেন অভিষেক। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ভগবানপুরে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ মাইতি। অন্য দিকে, পটাশপুরে জয়ী হন তৃণমূলের প্রার্থী উত্তম বারিক। ওই বছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ন’টিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। সেই ভগবানগোলায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘আজ এখানকার মানুষের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, তা থেকে স্পষ্ট যে মেদিনীপুরের মাটি গদ্দার, বিশ্বাসঘাতক বা মীর জাফরদের সমর্থন করে না। এই মাটি নিজের মেরুদণ্ড বিক্রি করে না।’’ এর পরে অভিষেক আরও বলেন, ‘‘এই মাটি সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, ক্ষুদিরাম বোস, মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি। ১৯৪২ সালে এই মাটি পৃথক তাম্রলিপ্ত সরকার গঠন করে সারা দেশের সামনে উদাহরণ গড়েছিল।’’

অভিষেক এখানেই থামেননি। আরও সুর চড়িয়ে তিনি জানান, তাঁর সরকারের উন্নয়নের রেকর্ড তিনি দিতে রাজি। কিন্তু বিজেপি কি তা করবে, প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির কি ক্ষমতা আছে? ভগবানপুরের বিধায়ক কে? কাঁথির সাংসদ কে? তাঁদের রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে বলুন।’’ প্রসঙ্গত, কাঁথির সাংসদ হলেন সৌমেন্দু অধিকারী। অভিষেকের প্রশ্ন, ভগবানগোলা এবং কাঁথি কি এ বার দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে?

Advertisement

বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরেও সভা করেন অভিষেক। তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার কথা জানিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন জনজাতিরাই। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি বলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। আপনি নিজের ধর্ম কী ভাবে পালন করবেন, তা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে। আপনারা (জনজাতি) সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’’ তার পরেই অভিষেক কটাক্ষ করে জনানা, যে মাটির জন্য বাংলার বিপ্লবীরা প্রাণ দিয়েছেন, নবজাগরণের পথ দেখিয়েছিলেন, বশ্যতা স্বীকার করেনি, দিল্লি থেকে সেই মাটিকে পরিচালনা করতে চায় বিজেপি।

বিজেপি ইস্তাহারে জানিয়েছে, ক্ষমতায় কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেবে তারা। এই নিয়ে অভিষেক প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘আপনাদের দাবিকে আমরা মর্যাদা দিই। দু’মাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চিঠি দিয়েছে। দু’মাস হয়ে গেলেও নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের সরকার কিছু করেনি। এতদিন কেন কিছু করেননি? দু’মাস আগেই কুড়মালি ভাষাকে কেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি?’’

ঝাড়গ্রাম জেলার অন্তর্গত গোপীবল্লভপুর আসন ২০১১ সাল থেকেই তৃণমূলের দখলে। তৃণমূলের একটি সূত্র বলছে, এ বার সেখানে তৃণমূলের কুড়মি ভোটবাক্সে প্রভাব পড়তে পারে। সেখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজেশ মাহাতো। এই নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘তৃণমূল যখন ১০ বছর আগে বলতো, এই অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতোরা কুড়মি সমাজের আবেগ নিয়ে খেলছেন, মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন, আপনাদের অনেকেই বিশ্বাস করেননি। আজ প্রতিষ্ঠিত, দিল্লিতে কুড়মি সমাজের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ চাওয়ার নাম করে অজিত মাহাতো, রাজেশ মাহাতো চুক্তি করে চলে এসেছেন। অজিত মাহাতো নিজের ছেলেকে দাঁড় করিয়েছেন পুরুলিয়ায় আর রাজেশ মাহাতো এই আসনে (গোপীবল্লভপুর) লড়ছেন।’’ উল্লেখ্য, পুরুলিয়ার জয়পুর আসন থেকে বিজেপি-র প্রার্থী হয়েছেন অজিতের পুত্র বিশ্বজিৎ মাহাতো।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Abhishek Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy