নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত রাজ্যের এক জেলাশাসককে নিয়ে এ বার প্রশ্ন তুলল তৃণমূল। ছবি প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দাবি, নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ নেতার পুত্রকে উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক করেছে কমিশন।
গত ১৮ মার্চ রাজ্যের একঝাঁক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে অপসারণ করেছিল কমিশন। সেই পদে নতুন জেলাশাসকও নিয়োগ করে তারা। তালিকায় ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসকও। ওই জেলার নতুন জেলাশাসক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিবেক কুমার সিংহকে। তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, বিবেকের বাবা বীরেন্দ্রকুমার সিংহ জেডিইউ নেতা। শুধু তা-ই নয়, তিনি প্রাক্তন জেডিইউ সাংসদ। নীতীশের দলের বিধায়কও ছিলেন বীরেন্দ্র।
তৃণমূল যে বীরেন্দ্রের ছবি প্রকাশ করেছে, তিনি জেডিইউ-র হয়ে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ আসন থেকে লড়ে ১৯৯৬ সালে সাংসদ হন। পরে ২০১০ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের নবীননগর কেন্দ্র থেকে লড়ে জেতেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে বিধায়ক ছিলেন তিনি। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করে, বীরেন্দ্রের পুত্রই বিবেক। পারিবারিক একটি ছবিও প্রকাশ করে তারা। দাবি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের ঘনিষ্ঠ বীরেন্দ্র। নীতীশ-বীরেন্দ্রের একসঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ্যে আনে তৃণমূল। যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের চার পর্যবেক্ষককে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। সেই তালিকায় রয়েছেন— গাজোলের পর্যবেক্ষক ধীরজ কুমার, বনগাঁ দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অজয় কাটেসারিয়া, বালিগঞ্জের পর্যবেক্ষক গণ্ডম চন্দ্রুডু এবং মধ্যমগ্রামের পর্যবেক্ষক অরিন্দম ডাকুয়া। তৃণমূলের দাবি, কমিশন নিযুক্ত ওই পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কারও বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারি, আবার কারও বিরুদ্ধে পণকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। কেউ আবার বিজেপির ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করে রাজ্যের শাসকদল। তার আগে মালদহের চার কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত এবং তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করেছিল, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী।
তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে শোরগোল পড়তেই খতিয়ে দেখা শুরু করে কমিশন। শনিবার কমিশন জানিয়ে দেয়, মালদহের ওই চার কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন আইপিএস অফিসার হৃদয় কান্ত। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত