মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির এক মুখপাত্রের বিরুদ্ধে! এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার বেলায় রাজ্যের শাসকদলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অজয় অলকের সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ দেওয়া হয়েছে।
ওই ‘স্ক্রিনশটে’ দেখা যাচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’
নামে খ্যাত উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট
করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়। মালবীয়ের পোস্ট শেয়ার করে অজয় হিন্দিতে লিখেছেন, “লাতো কে ভুত বাতোঁ সে নেহি মানতে। রেজ়াল্ট আনে তক কহিঁ নিপট না যায়ে। ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা।” এই বাক্যবন্ধের প্রথমে রয়েছে হিন্দির একটি বাগধারা। বাকি অংশের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়—ফলাফল বেরোনোর আগে যেন কোথাও গন্ডগোল না হয়— ভয় দেখালে কিন্তু পাল্টা তা ফিরে আসবে, দিদি। এক্স পোস্টে তিনি মমতাকে ট্যাগ করেছেন।
ওই স্ক্রিনশট পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে বিজেপি-কে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাজকর্মে এই ধরনের কুৎসিত সংস্কৃতি মান্যতা পাচ্ছে। তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীকে এ ভাবে ‘হুমকি’ দেওয়া হলে, পশ্চিমবঙ্গের অন্য মহিলাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের পোস্টে লেখা হয়েছে, “বিজেপি এই পরিবর্তনই বাংলায় চায়। ওরা বিহার-উত্তরপ্রদেশের মতো ওদের ‘গোলি মারো’ এবং ‘ঠোক দো’ সংস্কৃতি বাংলায় আনতে চায়।” যদিও পোস্টে কোথাও গুলি-র প্রসঙ্গ নেই। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, “রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন। আর কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক চটুল গানে নতর্কীর সঙ্গে নাচছেন। বুধবার ভোট দিতে যাওয়ার আগে রাজ্যের মানুষ দেখছেন, বিজেপি মহিলাদের সঙ্গে কী রকম আচরণ করে।”
নির্বাচন কমিশনের ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, সব কিছু দেখেও নীরব দর্শক হয়ে বসে আছে কমিশন। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কুরুচিকর মিম সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ‘হুমকির’ সঙ্গে ওই ঘটনাটিকেও যুক্ত করেছে তৃণমূল। কমিশন অবশ্য মিম-কাণ্ডে পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার তৃণমূলের পোস্ট শেয়ার করে হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অজয় সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আপনারা (তৃণমূল) কি হিন্দি বোঝেন না? সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। গুলি করা আপনাদের সংস্কৃতি, আমাদের নয়।” রাজ্য বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয়কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’দিন আগে, সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন অজয়। সেখানে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ। হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ওই ভিডিয়োই পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা অমিত। আর তা শেয়ার করে বিজেপির ওই মুখপাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। (যদিও এই ভিডিয়োটিরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত