Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মমতাকে হুমকি’ দিয়ে বিজেপির মুখপাত্রের পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ তুলে ধরে তৃণমূলের নিশানায় কমিশনও

মঙ্গলবার তৃণমূলের পোস্ট শেয়ার করে হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অজয় সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আপনারা (তৃণমূল) কি হিন্দি বোঝেন না? সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। গুলি করা আপনাদের সংস্কৃতি, আমাদের নয়।”

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৮
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি মুখপাত্রের বিরুদ্ধে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ বিজেপি মুখপাত্রের বিরুদ্ধে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির এক মুখপাত্রের বিরুদ্ধে! এই অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার বেলায় রাজ্যের শাসকদলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র অজয় অলকের সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টের ‘স্ক্রিনশট’ দেওয়া হয়েছে।

ওই ‘স্ক্রিনশটে’ দেখা যাচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ নামে খ্যাত উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়। মালবীয়ের পোস্ট শেয়ার করে অজয় হিন্দিতে লিখেছেন, “লাতো কে ভুত বাতোঁ সে নেহি মানতে। রেজ়াল্ট আনে তক‌‌ কহিঁ নিপট না যায়ে। ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা।” এই বাক্যবন্ধের প্রথমে রয়েছে হিন্দির একটি বাগধারা। বাকি অংশের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়—ফলাফল বেরোনোর আগে যেন কোথাও গন্ডগোল না হয়— ভয় দেখালে কিন্তু পাল্টা তা ফিরে আসবে, দিদি। এক্স পোস্টে তিনি মমতাকে ট্যাগ করেছেন।

ওই স্ক্রিনশট পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে বিজেপি-কে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এব‌ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাজকর্মে এই ধরনের কুৎসিত সংস্কৃতি মান্যতা পাচ্ছে। তিন বারের মুখ্যমন্ত্রীকে এ ভাবে ‘হুমকি’ দেওয়া হলে, পশ্চিমবঙ্গের অন্য মহিলাদের সঙ্গে কী আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের পোস্টে লেখা হয়েছে, “বিজেপি এই পরিবর্তনই বাংলায় চায়। ওরা বিহার-উত্তরপ্রদেশের মতো ওদের ‘গোলি মারো’ এবং ‘ঠোক দো’ সংস্কৃতি বাংলায় আনতে চায়।” যদিও পোস্টে কোথাও গুলি-র প্রসঙ্গ নেই। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেন, “রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন। আর কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক চটুল গানে নতর্কীর সঙ্গে নাচছেন। বুধবার ভোট দিতে যাওয়ার আগে রাজ্যের মানুষ দেখছেন, বিজেপি মহিলাদের সঙ্গে কী রকম আচরণ করে।”

নির্বাচন কমিশনের ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, সব কিছু দেখেও নীরব দর্শক হয়ে বসে আছে কমিশন। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কুরুচিকর মিম সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ‘হুমকির’ সঙ্গে ওই ঘটনাটিকেও যুক্ত করেছে তৃণমূল। কমিশন অবশ্য মিম-কাণ্ডে পুলিশকে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার তৃণমূলের পোস্ট শেয়ার করে হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা অজয় সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আপনারা (তৃণমূল) কি হিন্দি বোঝেন না? সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। গুলি করা আপনাদের সংস্কৃতি, আমাদের নয়।” রাজ্য বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয়কে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করেছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার ভোটের দু’দিন আগে, সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন অজয়। সেখানে উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে তাঁকে হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ। হুঁশিয়ারি দেওয়ার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ওই ভিডিয়োই পোস্ট করেছিলেন বিজেপি নেতা অমিত। আর তা শেয়ার করে বিজেপির ওই মুখপাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। (যদিও এই ভিডিয়োটিরও সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১ ঘণ্টা আগে
Mamata Banerjee ECI BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy