Advertisement

নবান্ন অভিযান

বুথফেরত সমীক্ষায় নানা ‘ফল’ পশ্চিমবাংলায়! অধিকাংশতেই ‘জিতছে বিজেপি’, তবে সর্বত্রই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। অধিকাংশ সমীক্ষাতেই বিজেপি এগিয়ে। তারা জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। কোনও কোনও সমীক্ষায় আবার তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৮
TMC vs BJP Seat Predictions

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে নানা ইঙ্গিত বুথফেরত সমীক্ষায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমীক্ষাতেই বিজেপি এগিয়ে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। কোনও কোনও সমীক্ষায় আবার তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। তবে সর্বত্রই বিজেপি এবং তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু উদাহরণও রয়েছে।

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ম্যাট্রিজ়ের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যেরা ছয় থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে ম্যাট্রিজ়ের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। তবে বাম বা কংগ্রেস এ রাজ্যে খাতা খুলতে পারবে না বলে দাবি করা হয়েছে।

চাণক্য স্ট্র্যাটেজি পশ্চিমবঙ্গের যে সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে তারা। তৃণমূল পাচ্ছে ১৩০ থকে ১৪০টি আসন। অন্যেরা ৬ থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বাম এবং কংগ্রেসের আসন শূন্য।

পিপল্‌স পাল্‌স-এর সমীক্ষায় তৃণমূল এগিয়ে। তারা পাচ্ছে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্যদের মধ্যে কংগ্রেস ১ থেকে ৩টি আসন এবং বামেরা শূন্য থেকে একটি আসনে জয় পেতে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

পি-মার্কের সমীক্ষা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে এগিয়ে রেখেছে। তাদের মতে, এ রাজ্যে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে। অন্য দিকে, তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যদের কোনও আসন দেওয়া হয়নি এই সমীক্ষায়।

প্রজা পোল-এর সমীক্ষায় বিজেপি-কে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূল পেতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্য দলগুলি শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে।

পোল ডায়েরির সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি আসন। অন্যদের পাঁচ থেকে ন’টি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে এই সমীক্ষায়।

জনমত পোল্‌স-এর সমীক্ষায় আবার তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে দাবি করা হচ্ছে এই সমীক্ষায়। বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন। কংগ্রেসকে এক থেকে তিনটি আসন এবং বামেদের শূন্য থেকে একটি আসন দেওয়া হয়েছে। অন্যেরা পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন।

জেভিসি-র সমীক্ষায় তৃণমূলকে ১৩১ থেকে ১৫২টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন। কংগ্রেসকে শূন্য থেকে দু’টি আসন দেওয়া হয়েছে এই সমীক্ষায়।

বুধবার ছিল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় সাত জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়েছে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর এ বছর ভোটের হার অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গের ভোটদানের হার নজির গড়ে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে রাজ্যে। তবে এ রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটদানের চূড়ান্ত হার এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তার আগেই বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে দিল বিভিন্ন সংস্থা। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে ভোটগণনা হবে। ভোটের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে সে দিনই। শেষ মুহূর্তে বুথফেরত সমীক্ষার হিসাব উল্টে যাবে কি না, ওই দিনই স্পষ্ট হবে।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
সর্বশেষ
১৫ মিনিট আগে
Exit Poll TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy