Advertisement
E-Paper

‘জনতার দরবার’-এ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর পর ১২ ঘণ্টাও লাগল না সুরাহা মিলতে! বিস্মিত সরকারি কর্মী

রূপা জানান, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরে কাজ করছেন তিনি। বরাবর পিজি হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন। চুক্তিভিত্তিক কর্মী তিনি। রূপা ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি বিভাগে কাউন্সেলর তথা স্পেশ্যাল এডুকেটর হিসাবে কাজ করতেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০০:৩৫
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

‘জনতার দরবার’-এ গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানানোর পরে ১২ ঘণ্টাও কাটল না। তার আগেই মিলল সুফল। অভিযোগকারিণী রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মী। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বিধানগরের সেক্টর ৫-এ বিজেপির দফতরে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগটি জানিয়েছিলেন। ‘অনৈতিক ভাবে বদলি করা’ এবং ‘নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া’—এই দুই অভিযোগের কথা সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার পদে কর্মরত রূপা চক্রবর্তীর কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারেন। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটে যায়। রূপাকে তাঁর পুরনো কর্মস্থলে এবং পুরনো কাজেই ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন।

রূপা জানান, গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরে কাজ করছেন তিনি। বরাবর পিজি হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন। চুক্তিভিত্তিক কর্মী তিনি। রূপা ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি বিভাগে কাউন্সেলর তথা স্পেশ্যাল এডুকেটর হিসাবে কাজ করতেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে পিজি হাসপাতাল থেকে সরিয়ে হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারি (সিএমওএইচ)-এর দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়। রূপা জানান, হাওড়ার যেখানে তিনি কাজ করছিলেন, সেখানকার কাজের পরিবেশ নিয়ে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু যে কাজ তিনি গত ১৫ বছর ধরে করে আসছিলেন, সেই কাজ ওখানে ছিল না। অন্য কাজ করতে হচ্ছিল তাঁকে।

রূপার অভিযোগ, “পিজি হাসপাতালে যে বিভাগে আমি কাজ করতাম, সেই বিভাগের কিছু অভ্যন্তরীণ কারণে আমায় বদলি করে দেওয়া হয় এবং বদলির বিশদ কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি।” বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অনৈতিক বদলির নেপথ্যে ছিলেন বলেও তাঁর অভিযোগ। যদিও কারও নাম প্রকাশ্যে নিতে চাননি রূপা।

রাতে রূপা বলেন, “আমি সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে স্বাস্থ্য ভবন থেকে আমার কাছে ফোন চলে আসে। তার পর সন্ধ্যার মধ্যে সমস্যার সুরাহা হয়ে গেল।”

আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে রূপার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হয় তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। রূপা বলেন, “জনতার দরবারে আমি আমার বক্তব্য জানাতে গিয়েছিলাম ঠিকই কিন্তু এতটা আশা করে যাইনি। ১৫ বছর ধরে তো আমি সরকারি কাজেই রয়েছি। সরকারি কাজ খুব ধীর গতিতে হয়, এটাই দেখতে আমরা অভ্যস্ত। সকালে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানাব আর সন্ধ্যার মধ্যে তার সুরাহা হয়ে যাবে— এ রকমটা আমি ভাবতেই পারিনি।” তাঁর সংযোজন, “প্রথম এক ঘণ্টা আমার বিশ্বাসই হয়নি যে এতটা তাড়াতাড়ি আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানানো অভিযোগের সুফল পেলাম। ভাবতেই অবাক লাগছে! সরকারের কাজের গতি বদলে গিয়েছে।”

Suvendu Adhikari West Bengal government BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy