লোকসভায় আরও দুর্বল হল তৃণমূল। বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ছিলেন সুদীপ। এ বার সেই সুদীপও ছাড়লেন মমতার সঙ্গ। দফায় দফায় হল বৈঠক। দুপুরে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। পরে সাক্ষাৎ হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও।
লোকসভায় তৃণমূলের প্রাক্তন দলনেতা সুদীপ। বয়সের নিরিখেও প্রবীণতম। সেক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন বিদ্রোহী সাংসদেরা। রাজনীতিতে পোড় খাওয়া সুদীপ শিবির বদল করায় কি তা হলে বিদ্রোহী শিবিরে নতুন কোনও সমীকরণ দেখা যাবে? বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে সুদীপের সংযুক্তিকরণের পরে কোন পথে এগোবেন কাকলি-শতাব্দীরা? সেই প্রশ্নও ইতিমধ্যে উঁকি দিতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের সংসদীয় দলে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিতে পারেন বিদ্রোহীরা। তার আগে ফের একপ্রস্থ বৈঠকে বসতেন পারেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা।
গত সোমবার তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন-পর্ব প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর দাবি ছিল, প্রায় ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন। তাঁরা কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোট এনডিএ-কে সমর্থন দিতে চান। পরে শুক্রবার ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষরের একটি নথিও প্রকাশ্যে আসে। তবে তাতে কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপের নাম ছিল না।
এরই মধ্যে শনিবার সকালে কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন সুদীপ। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম বীরভূমের সাংসদ শতাব্দীও ওই একই বিমানে দিল্লিতে যান। দিল্লিতে অবতরণের পরে একই গাড়িতে চেপে বিমানবন্দর থেকে বেরোন সুদীপ-শতাব্দী। গন্তব্য ছিল সেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ি। গত কয়েক দিনে এই বিজেপি নেতার বাড়িতেই দফায় দফায় বসেছে তৃণমূলের বিদ্রোহীদের বৈঠক। শনিবার দুপুরেও ভূপেন্দ্রের বাড়িতে এক দফা বৈঠকে বসে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির এবং শতাব্দীর সঙ্গে গিয়ে সেই বৈঠকে যোগ দেন সুদীপ। ভূপেন্দ্রের বাড়িতে বৈঠকের পর শাহের সঙ্গেও দেখা করেন কলকাতা উত্তরের বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের অন্দরে দৃশ্যত এক ডামাডোল চলছে। এক অভূতপর্ব রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। বিধানসভার পরিষদীয় দল আগেই হাতছাড়া হয় মমতার। গত সোমবার লোকসভায় সংসদীয় দলেও ভাঙন প্রকট হয়। মমতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যান দলের সিংহ ভাগ সাংসদ। ঘটনাচক্র, গত সোমবার তৃণমূলে এই ‘সাংসদ-বিদ্রোহ’ যখন প্রকাশ্যে আসে, মমতা-অভিষেক তখন ছিলেন দিল্লিতেই। এক দিকে যখন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক সারছিলেন মমতা-অভিষেক, তখন লোকসভায় চলছিল দলের ভাঙন-পর্ব।
সোমবার কাকলি দাবি করেছিলেন, বিদ্রোহী শিবিরে প্রায় ২০ জন রয়েছেন। পরে শুক্রবার যে স্বাক্ষর-নথি প্রকাশ্যে আসে, তাতে প্রথম সইটিই রয়েছে কাকলির। দ্বিতীয় শতাব্দীর। তার পরে একে একে রয়েছে বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, কালীপদ সরেন, দেব, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ, মালা রায়ের স্বাক্ষর। পৃথক ভাবে সই রয়েছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষেরও। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি সূত্রের দাবি, রচনা এবং সায়নী পরে স্বাক্ষর করেছেন। যাঁদের ৯ জনের স্বাক্ষর তাতে দেখা যায়নি, সেই তালিকায় আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিংহ, প্রতিমা মণ্ডল, সাজদা আহমেদ এবং সুদীপ। তবে এ বার সুদীপও ঘেঁষলেন বিদ্রোহী শিবিরের দিকে।
ঘটনাচক্রে, বিদ্রোহীদের সঙ্গে সুদীপের বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদ থেকে সুদীপকে সরিয়ে নিয়োগ করা হয় কুণালকে। উল্লেখ্য, উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে কুণাল এবং সুদীপের এত দিনের যে ‘মধুর’ সম্পর্ক রয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। সুদীপ শিবির বদলাতেই তাঁকে বিঁধেছেন কুণাল। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমাদের অনেকের আপত্তি না শুনেও তিনি (মমতা) আস্থা রেখেছিলেন, পদ দিয়েছিলেন। যে ভাবে তিনি (সুদীপ) গিয়েছেন, যে বার্তাটা যাচ্ছে, তা খুবই খারাপ বার্তা।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বিধানসভার পরে লোকসভাতেও তৃণমূল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন বিদ্রোহী শিবিরে।
- জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে।
-
২২:১০
মমতার বাড়িতে বৈঠকের মাঝে বাগ্বিতণ্ডা অভিষেক-কুণালের! তর্কাতর্কি সামাল দিতে দলনেত্রী বললেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল -
১৪:৫৯
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে এ বার সুদীপও! শতাব্দীর সঙ্গেই দিল্লি পৌঁছে একই গাড়ি চড়ে গেলেন সেই ভূপেন্দ্রর বাড়িতে -
ফোন করেননি মমতা, কালীঘাট গেলেন না কল্যাণও! পিসিই থাকবেন, না কি দিদিকে ফিরে পাওয়া যাবে? চর্চা তৃণমূলে
-
কালীঘাটের অফিসে তখন তল্লাশি চালাচ্ছে সিআইডি, দিল্লিতে সনিয়ার কাছে মমতা, ১০ জনপথে একান্ত বৈঠক
-
তৃণমূলের ২০ সাংসদকে পাশে পাওয়ায় লোকসভায় এনডিএ ৩০০ পেরোল, আর কত দূরে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা?