নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এসআইআরের যাচাই প্রক্রিয়া করছেন এখন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। তবে সেই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই অনলাইনে আবেদনগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই আবহে আবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে চিঠি দিল তৃণমূল। ট্রাইবুনাল সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে সেই চিঠিতে। তার মধ্যে অন্যতম, ট্রাইবুনালের শুনানিতে আবেদনকারীদের থাকতে দেওয়া হোক।
অনলাইন এবং অফলাইন— দুই পদ্ধতিতে ট্রাইবুনালে আবেদন করা যাবে। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে তৃণমূলের আবেদন, আপিল ব্যবস্থা সুষ্ঠু ভাবে করতে কিছু পদক্ষেপ করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হোক। কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। তৃণমূলের আবেদন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যদি কোনও নাম বাদ দেন, তবে কেন তা করা হচ্ছে, তার কারণ যাতে ওই ভোটারকে জানানো হয়। পরে তিনি যদি ট্রাইবুনালে আবেদন করেন, তবে সেই কারণের সপক্ষে যুক্তি দিতে পারেন।
অফলাইন ব্যবস্থা দ্রুত চালু করার বিজ্ঞপ্তি জারির আবেদনও করেছে তৃণমূল। তাদের আরও আবেদন, ডিএম এবং এসডিও ছাড়াও বিডিওর কার্যালয়ে আপিল গ্রহণ করা হোক। তৃণমূল চায়, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা বা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা সশরীরে বা ভার্চুয়ালি আপিলের শুনানিতে যেন উপস্থিত থাকতে পারেন। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অফলাইনে যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করছেন, তাঁদের আবেদন গ্রহণের পর রসিদ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে তৃণমূল। কবে ট্রাইবুনালে আবেদনকারীর শুনানি হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হোক— চিঠিতে উল্লেখ করেছে তৃণমূল।
আরও পড়ুন:
দিন চারেক আগেও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ইমেল পাঠিয়েছিল তৃণমূল। সেই চিঠিতেও বেশ কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম, তাদের ১১ জন প্রার্থীকে বিবেচনাধীন তালিকায় রেখে দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আর্জি। এ ছাড়াও, আবেদন করা হয়েছিল, বিবেচনাধীন তালিকার কত নিষ্পত্তি হচ্ছে, তার দৈনিক তালিকা প্রকাশ করা হোক। যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, কেন তাঁদের নাম বাদ পড়ল, তা জানাক কমিশন। যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁদের আবেদন করার প্রক্রিয়া সহজ করা হোক। যাতে কমিশনের ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালে আবেদন করা যায়, তার সংস্থান করা হোক। বাদ-পড়াদের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়ায় বিএলএ-দের যুক্ত করার আর্জিও জানানো হয়েছিল তৃণমূলের চিঠিতে।
উল্লেখ্য, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতেও ট্রাইবুনাল প্রসঙ্গ ওঠে। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বুধবারই সব প্রাক্তন বিচারপতিকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাঁদের অনলাইন ও অফলাইন— দুই ধরনের আপিল সম্পর্কেই আপডেট দিতে হবে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাম বাতিলের কারণ হিসাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তা ট্রাইবুনালগুলি যেন সম্পূর্ণ ভাবে দেখতে পায়। তার ভিত্তিতে মামলার নিষ্পত্তি করে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ বলেছে, “আমরা ট্রাইবুনালগুলিকে অনুরোধ করছি, যে নথিগুলি আগে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সামনে পেশ করা হয়নি, সেই নতুন নথি যেন তাঁরা গ্রহণ না-করেন। যথাযথ ভাবে নথির সত্যতা যাচাই না-করে, কোনও নতুন নথি গ্রহণ করা হবে না।’’