নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে সাংবাদিক বৈঠক করলেন রাজ্যের জেলা সকল নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসকেরা। সেখানে কী কী জানাতে হবে তা-ও ঠিক করে দিয়েছিল কমিশন। সেই মতো সোমবার জেলাগুলিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডিইও-রা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরাও। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করাতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তাঁরা জানান। ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে, জেলায় জেলায় এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কেমন বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলায় কত কেন্দ্রীয়বাহিনী রয়েছে। তারা কী ভাবে কাজ করবে। এ ছাড়াও জানানো হয়েছে, বিধানসভা প্রতি কতগুলি বুথ রয়েছে। সেখানে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ছাপ্পা, বুথ জ্যামিং এবং হুমকির মতো ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সাংবাদিক বৈঠকে ডিইও-রাও ওই সব বিষয়ে জানান।
ভোটের দিন যাতে লোডশেডিং না-হয় তা নিশ্চিত করতে বিদুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিইও-রা। এ ছাড়া জানানো হয়েছে, বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে পুলিশ এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কতটা সক্রিয় ভাবে কাজ করেছে। এখনও পর্যন্ত কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কত টাকার বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও জানানো হয়, ভোটের দিন ভয়, হুমকির মতো যে কোনও ঘটনায় ভোটারেরা ১৯৫০ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করতে পারবেন। টাওয়ার লোকেশন ধরে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার কল সেন্টারে ফোন চলে যাবে।
আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আপিল করছেন। অনলাইন এবং অফলাইনে দু’ভাবেই আবেদন করা যাচ্ছে। অফলাইনে জেলাশাসকের দফতরে আপিল জমা পড়ছে। এখনও পর্যন্ত কত আপিল জমা পড়েছে অনেক জেলা থেকে সেই তথ্যও জানানো হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জানিয়েছেন, কমিশন নির্দেশিত আটটি বিষয় নিয়েই এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি না ঘটে। কেউ যে কাউকে প্রভাবিত করতে না পারেন। বুথ জ্যামিংয়ের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সেটা নজরে রাখা হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, বাঁকুড়ায় সোমবার পাঁচ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। মোট ২৪ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। প্রত্যেক বিধানসভায় নাকা তল্লাশি চলছে। সেখানে সিএপিএফও থাকছে। তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়গুলি তাঁদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল— ভয়মুক্ত ভোট। হিংসামুক্ত ভোট। কেউ যেন প্রভাবিত করতে না পারে, কোনও প্রলোভন যেন কেউ না দেন, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। ছাপ্পা ভোটিং যেন না হয়। বুথ জ্যামিং না হয়। কোনও সোর্স জ্যামিং না হয়। ভোটের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীরা যেন ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করেন। যদি করেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরুলিয়ার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, জেলায় ৩০ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। প্রত্যেক বুথে পাঁচ থেকে ছয় বার পরিদর্শন করা হয়েছে। বুথের যাবতীয় তথ্যও সময়ে সময়ে রিপোর্ট দিচ্ছে তারা। তিনিও কমিশনের আটটি পয়েন্টের কথা সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন। বাকি জেলাশাসকেরাও কমিশনের আট পয়েন্টের কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন। জেলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা-ও উল্লেখ করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত