সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সুপ্রিম কোর্টে শুরু হল এসআইআর মামলার শুনানি। মালদহকাণ্ডে তদন্তের অন্তর্বতী রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তের কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তারা। এজলাসে এনআইএ জানাল, মালদহকাণ্ডে মূল চক্রান্তকারীকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলা শুরুর আগে এক আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, ট্রাইবুনালে আবেদন শোনা হচ্ছে না। সে কথা শুনে প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, “হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাকে জানিয়েছেন আজ সকাল থেকে ট্রাইবুনালে শুনানি শুরু হয়েছে। ট্রাইবুনালকে এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করা যাবে না। আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নেব না, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ট্রাইবুনালই নেবে।” মামলাকারীকে ট্রাইবুনালে আবেদন করার জন্য বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি বাগচীও বলেন, “এটা কোনও দায় ঠেলাঠেলি চলবে না। দুই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাঝে পড়ে ভুগতে হচ্ছে ভোটারদের।” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বাগচী বলেন, “কেউ যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন, সেই দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিকই নয়, এটি আবেগের বিষয়ও বটে।” তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি)-র মতো একটি বিষয় যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই রয়েছে, অন্য কোনও রাজ্যে নেই, সে বিষয়ের উপরেও আলোকপাত করেন বিচারপতি বাগচী।
বিচারপতি বাগচী বলেন, “যত ক্ষণ না বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ পড়ছেন বা ভোটের ফলের উপর তার বাস্তবিক কোনও প্রভাব পড়ছে, তত ক্ষণ নির্বাচন বাতিল করা সম্ভব নয়।” যদি ১০ শতাংশ ভোটার ভোটদানে বিরত থাকেন এবং জয়ের ব্যবধান ১০ শতাংশের বেশি হয়— সে ক্ষেত্রে কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বাগচী। প্রধান বিচারপতি জানান, এটি শুধুই একটি তাত্ত্বিক আলোচনা। বিচারপতি বাগচীর কথায়, “যদি এই হার ৫ শতাংশের কম হয়, সে ক্ষেত্রে আমাদের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। আগে একজন প্রার্থীকে ট্রাইবুনালে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কারণ কাউকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কিন্তু যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের কী হবে, সেই বিষয়টিও আমাদের মাথায় রয়েছে।”
বাতিল হওয়া ভোটারেরা নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন ট্রাইবুনালে। সেই ট্রাইবুনালের রায়ে যাঁরা ‘পাশ’ করবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এজলাসে। গত শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের নিয়ে বিবেচনা করা হবে।
রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভা ভোট রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় দফার জন্যই ভোটার তালিকা ফ্রিজ় হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফার জন্য ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ হয়েছে গত ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার জন্য ‘ফ্রিজ়’ হয়েছে গত ৯ এপ্রিল। ওই দু’দিনই ছিল দুই দফার ভোটের মনোনয়ন জমার শেষ দিন। আইন অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। সেই অনুযায়ীই ‘ফ্রিজ়’ হয়েছে ভোটার তালিকা। কিন্তু যাঁদের নাম বিবেচনাধীন ছিল, তাঁদের মধ্যে অনেকের নাম বাদ গিয়েছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy