Advertisement

নবান্ন অভিযান

দিল্লি থেকে রাজ্যে আসছেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেরা, দুই দলে ভাগ হয়ে ঘুরবেন জেলায় জেলায়

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই ওই দু’টি দল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবে। জেলায় জেলায় নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকেও বসার কথা রয়েছে দিল্লি থেকে আসা কমিশনের প্রতিনিধিদলের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪২
ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন। —ফাইল চিত্র।

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি থেকে রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদল। দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে কমিশনের দু’টি দল আসছে পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় ঘুরবেন কমিশনের ওই আধিকারিকেরা। একটি দল ঘুরবে কলকাতা-সহ পাঁচটি জেলা। সেই দলের নেতৃত্বে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। অন্য দলটি ঘুরবে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায়। সেই দলের নেতৃত্বে থাকবেন ডেপুটি ডিরেক্টর অপূর্বকুমার সিংহ।

সোমবার থেকেই তিন দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন ডেপুটি কমিশনার। তাঁরা ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রথমে যাবেন দুর্গাপুরে। তাঁদের সফরে রয়েছে পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতা। ওই একই দিনে ডেপুটি ডিরেক্টরের নেতৃত্বে অপর দলটি যাবে উত্তরবঙ্গে। সফর শুরু হবে আলিপুরদুয়ার থেকে। এ ছাড়া তারা যাবে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং। কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দলটি রাজ্যে পাঁচ দিন থাকবে।

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই ওই দু’টি দল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবে। জেলায় জেলায় নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকেও বসার কথা রয়েছে দিল্লি থেকে আসা কমিশনের প্রতিনিধিদলের। জানা যাচ্ছে, ভোটের আগে জেলাগুলিতে কী পরিস্থিতি, তা পর্যালোচনা করার জন্যই বৈঠকে বসবেন আধিকারিকেরা। একই সঙ্গে ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় বার্তা দিতে পারেন তাঁরা।

রাজ্যে সাধারণ ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোটগ্রহণকেন্দ্রে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পদক্ষেপও শুরু করেছে তারা। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য কী কী করণীয়, তা নিয়ে রাজ্যের পুলিশকর্তাদেরও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সিইও দফতর থেকে আগেই জানানো হয়েছে, প্রচারের সময়ে এবং ভোটের সময়ে পোলিং স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। কেউ যাতে ভোটারদের ভয় দেখাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। ভোটার, প্রার্থী এবং নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
ECI Election Commission West Bengal Politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy