E-Paper

ভাবনা নেই কোনও দলেরই, ক্ষুব্ধ যোগ্য চাকরিহারারা

এক চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক মেহেবুব মণ্ডল জানান, এই সরকার থাকবে, না চলে যাবে, কেউ জানেন না। সরকার যদি চলে যায়, তা হলে নতুন সরকার তাঁদের নিয়োগ নিয়ে কতটা দায়িত্ব নেবে? তারা কি এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাবে?

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ০৭:৫১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

মতে, নিয়োগের জটিল জালে আটকে গেছেন তাঁরা। কী হবে, জানেন না। এ দিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই চলে এল ভোট। চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আশঙ্কা, এ বারের ভোটে শাসক ও বিরোধী দু’দলই প্রচারে তাঁদের ঘুঁটি করতে পারে। কিন্তু এই নিয়োগ নিয়ে সত্যিই কি সরকার বা বিরোধী পক্ষ আগ্রহী? চাকরিহারাদের প্রশ্ন, এ বারের নির্বাচনী ইস্তাহারে রাজনৈতিক দলগুলি তাঁদের দ্রুত নিয়োগের কথা কিছু বলছে কি? যদিও তাঁদের সঙ্গে কোনও দলেরই কথা হয়নি বলে দাবি চাকরিহারাদের।

এক চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক মেহেবুব মণ্ডল জানান, এই সরকার থাকবে, না চলে যাবে, কেউ জানেন না। সরকার যদি চলে যায়, তা হলে নতুন সরকার তাঁদের নিয়োগ নিয়ে কতটা দায়িত্ব নেবে? তারা কি এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাবে? তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নিয়োগ নিয়ে কোনও দলকেই তাদের প্রচারে কিছু বলতে শুনছি না। যদি এই সরকারই আসে, নিয়োগ কত দিনে সম্পন্ন হবে, তারও দিশা দেখাচ্ছে না। অথচ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়সীমা প্রথমে ছিল গত ৩১ ডিসেম্বর। সেটা বেড়ে হয়েছে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট। কিন্তু যা অবস্থা, তাতে ৩১ অগস্টের মধ্যে নিয়োগ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। কয়েক জন একাদশ-দ্বাদশে সুপারিশপত্র পেয়েছেন। নবম-দশমের ইন্টারভিউ সবে শুরু হচ্ছে।’’

চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী তাঁদেরনিয়ে শুধুই একে অপরকে দোষারোপ করে দড়ি টানাটানি করছে।শাসকদলের অভিযোগ, আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানাভাবে বাধা দিচ্ছে বিরোধীরা। আর বিরোধীরা বলছে, শাসকদলের দুর্নীতির কারণে যোগ্য চাকরিহারারা এখনও রাস্তায়।

চাকরিহারা এক যোগ্য শিক্ষিকা রূপা কর্মকার বলেন, ‘‘আমরা এই সরকারে আস্থা রাখতে চেয়েছিলাম।কোর্টে গিয়ে সরকার আমাদের নিয়োগ নিয়ে সওয়াল করেছে ঠিকই, কিন্তু তাতেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে যে ১৫০০ জন যোগ্য চাকরিহারা নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে ছিটকে গিয়েছেন, তাঁদের কী হবে, সে কথা কোনও রাজনৈতিক দল বলছে না। অথচ এসএসসিতে যোগ্য হিসেবে পাশ করেই তাঁরা গত ছ’বছর স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। সিবিআই তালিকায় তাঁদের নাম ছিল না বলেই এ বার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। দুর্নীতি হয়েছিল বলে দ্বিতীয় বার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁদের। ফলে ওঁরা চাকরিহারা হওয়ায় সরকার কেন দায়িত্ব নেবে না?’’

ভোট দেওয়া নিয়ে কোনও উৎসাহই নেই চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষাকর্মীদের। এমনই এক শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডল বলেন, ‘‘প্রায় এক বছর হয়ে গেল বেতন নেই। তীব্র আর্থিক সঙ্কটে ভুগছি। কেউ মুদিখানায় কাজ করছেন। কেউ বা টিউশন পড়িয়ে সংসার টানছেন। আমাদের দ্রুত নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি ইস্তাহারে কিছু লিখেছে বলেও শুনিনি। এই অবস্থায় শাসক বা বিরোধী, কার উপরে ভরসা রাখব?’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election SSC West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy