পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে এসে ফের ঝালমুড়ির স্মৃতি উস্কে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জিতলে সেই ‘বিজয়োৎসবে’ ঝালমুড়িই বিতরণ করা হবে। সঙ্গে মিষ্টিও বিতরণ করবে বিজেপি।
কিছু দিন আগে রাজ্যে প্রচারে এসে ঝাড়গ্রামের সভার পর রাস্তার ধারের দোকান থেকে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন মোদী। পকেট থেকে ১০ টাকার নোট বার করে দোকানির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ঝালমুড়ি খেতে খেতে দোকানির সঙ্গে এবং আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথাবর্তা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কারও কারও হাতে ঝালমুড়ি ঢেলেও দিয়েছিলেন। মোদীর সেই ‘ঝালমুড়ি পে চর্চা’-কে একাধিক বার কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, গোটা বিষয়টি সাজানো। আগে থেকে ওই দোকানে কী ভাবে ক্যামেরা লাগানো থাকল, কী ভাবে মাইক ‘সেট’ করা থাকল, প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা। মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন, ‘‘১০ টাকার নোট কখনও ওঁর পকেটে থাকে? কত নাটক! আমার পকেটেও ১০ টাকা থাকে না। বরং অনেক এক টাকার কয়েন থাকে। মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় ওগুলো লাগে।’’
আরও পড়ুন:
মোদী কৃষ্ণনগরের সভা থেকে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘‘‘৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়োৎসব হবে। মিষ্টি দেওয়া হবে, দেওয়া হবে ঝালমুড়িও। তবে আমি শুনেছি, ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোর ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে।’’
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলছে। রাজ্যের ১৫২টি আসনে মানুষের রায় যন্ত্রবন্দি হচ্ছে। সেই দিনই দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারে রাজ্যে এসেছেন মোদী। কৃষ্ণনগরের পর তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরেও একটি জনসভা করেন। সেখান থেকে কড়া ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। জানিয়েছেন, রাজ্যে পরিবর্তনের ‘তুফান’ চলছে। এ বারের নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোদী। তৃণমূলের ভয়ের বিপক্ষে এবং বিজেপির ভরসার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত