Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

চুপি চুপি সাত পাক

শুধু রানি-আদিত্য নন। বলিউডের অনেকেই ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানকে প্রাইভেট করে রাখতে চাইছেন। খোঁজ নিলেন প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্ত।কিছু দিন আগে রানি মুখোপাধ

২৩ এপ্রিল ২০১৪ ০০:০০

কিছু দিন আগে রানি মুখোপাধ্যায়ের বাবাকে হঠাত্‌ নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছিল। তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচার করে পেসমেকার বসানো হয়েছিল। আর সেই অপারেশনের পর থেকে তিনি না কি একটাই কথা বারবার বলে গিয়েছেন। চেয়েছেন মেয়ের বিয়েটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক। রানির বিয়ে নিয়ে জল্পনা অনেক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে তিন সপ্তাহের মধ্যে, মানে গত পরশু, ২১ এপ্রিল ২০১৪-তেই যে এ ভাবে সুদূর ইতালির কান্ট্রিসাইডে গিয়ে দু’জনে বাঙালি মতে বিয়ে করবেন, সেটা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেননি। শনিবার রাতে রানির বাবা, মা আর দাদা চলে যান ইতালি। বরপক্ষে ছিলেন প্রয়াত যশ চোপড়ার স্ত্রী প্যাম চোপড়া, পুত্র উদয় চোপড়া। আর ছিলেন পরিচালক কর্ণ জোহর। সকাল-সকাল ট্যুইট করে কর্ণ জানান, ‘অ্যান্ড ফাইনালি মি. অ্যান্ড মিসেস চোপড়া...লভ ইউ বোথ...’
যশরাজ থেকে বিয়ে নিয়ে স্টেটমেন্ট প্রকাশিত হলেই শাহরুখ খান দম্পতিকে ট্যুইটারে অভিনন্দন জানান: ‘মে আল্লা ব্লেস মাই ফ্রেন্ডস রানি অ্যান্ড আদি। মে ইউ এনজয় দ্য স্মল থিংস মাই ফ্রেন্ডস ফর ইন দ্য এন্ড দে আর দ্য বিগ থিংস, হ্যাপি ইউনিয়ন...লভ ইউ।’ রানির দেওর অভিনেতা উদয় চোপড়াও ট্যুইটারে লেখেন, ‘উই ওয়েলকাম রানি চোপড়া টু দ্য ফ্যামিলি। লটস অব লভ টু দ্য নিউলি ওয়েডস।’

Advertisement



এমনও গুজব রটেছে, মুখোপাধ্যায় পরিবার না কি পুরোহিতকে সঙ্গে নিয়েই গিয়েছেন বিয়ে দিতে। রানির খুড়তুতো ভাই সম্রাট মুখোপাধ্যায়কে এ বিষয়ে ফোন করা হলে তিনি জানান, “কিছুই জানতাম না। বাড়িতে মা-কে জিজ্ঞেস করলাম আগে কিছু শুনেছিল কি না। মা বললেন উনিও কিছু জানতেন না।” এ দিকে কলকাতায় রানির মামাবাড়িতেও একই অবস্থা। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর দিদিমাকে ফোন করে বিয়ের খবরটা দেওয়া হয়।

“যাঁদের শুভকামনা এবং ভালবাসা এতগুলো বছর ধরে আমার পথচলার সঙ্গী, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সেই সব ফ্যানদের সঙ্গে আমি আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির মুহূর্তটি ভাগ করে নিতে চাই। এই দিনটির জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছিলেন। আমি জানি, তাঁরা এই খবরে দারুণ খুশি হবেন। বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে। ইতালিতে, শহর থেকে দূরে, পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ কয়েক জন বন্ধু হাজির ছিলেন। যশ আঙ্কলকে খুব মিস করেছি। তবুও তিনি যেন ছিলেন। আদি এবং আমার প্রতি তাঁর বরাবরের ভালবাসা এবং আশীর্বাদ নিয়েই। চিরকাল রূপকথায় বিশ্বাসী ছিলাম। ভগবানের আশীর্বাদে আমার জীবনটা তেমনই।
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করছি। আমি জানি রূপকথা চলতেই থাকবে।”

রানি মুখোপাধ্যায়

রানির মামা মৃগেন রায় জানান, “রানির মা, কৃষ্ণাদি, আমার মাকে ফোন করে জানায় যে রানির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। প্রথমে তো মায়ের একটু অভিমান হয়েছিল। পরে মা শান্ত হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই ওরা মুম্বইতে ফিরবে। তখন দেখা হবে।” মাসি পূর্ণিমা লাহিড়িরও একই বক্তব্য। “হঠাত্‌ করে সবটা হয়েছে। আমার বোন ফিরলে সব কিছু জানব,” বলছেন তিনি। তবে ইন্ডাস্ট্রির এক সূত্র জানায় যে রানি-আদিত্য চোপড়ার বিয়েটা নিছক একটা ফর্ম্যালিটি। “আদিত্যর প্রথম স্ত্রী-র সঙ্গে ডিভোর্স হতে সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। এর মধ্যে রানিরও সময় লেগেছিল চোপড়া পরিবারের সঙ্গে একাত্ম সম্পর্ক তৈরি করতে। যখন যশ চোপড়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রানিকেও দেখা গিয়েছিল আদিত্যর সঙ্গে পুজো করতে বসতে তখনই বুঝেছিলাম বিয়েটা আসন্ন,” বলে সেই সূত্র।



সিদ্ধার্থ-বিদ্যা (২০১২)

আদিত্য চোপড়া যে প্রিভেসি পছন্দ করেন, সে ব্যাপারটা তো সকলেরই জানা। তবে তিনি যে ভাবে নিভৃতে বিয়েটা সেরে নিলেন, তার নজির আজকাল কম নেই বলিউডে। এই তো কিছু দিন আগে জন আব্রাহাম তাঁর প্রেমিকা প্রিয়াকে বিয়ে করলেন আমেরিকাতে গিয়ে। সব অনুষ্ঠান সেরে ফেলার পর খবর এল ট্যুইটারে। মুম্বইতে বসেই বিদ্যা বালন বিয়ে করলেন। তবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে রেখা ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায়নি সেই অনুষ্ঠানে। সেই একই দস্তুর ছিল সেফ আলি খান আর করিনা কপূরের বৌভাতে। হাতে গোনা কিছু সেলিব্রিটি। আর বেশির ভাগ মিডিয়াই গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির বিয়েতে শুধু মিডিয়াই নয়, তাঁর টিমের অনেক সদস্য কিছুই জানতেন না।



জন-প্রিয়া (২০১৪)

‘চলো তুমকো লে কর চলে’-নাহ্‌, বিপস্‌ নয়, জনের প্রিয়তমা প্রিয়া-ই

শুধু বিয়ে কেন? শাহরুখ খানের পুত্র আব্রামের জন্মের খবরটাও আচমকাই এসেছিল মিডিয়ার কাছে। যে শাহরুখের সঙ্গে মিডিয়ার এত ভাল সম্পর্ক, তিনিও তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটা মিডিয়ার থেকে একেবারে আড়ালে রেখে দিলেন। আজ পর্যন্ত আব্রামকে নিয়ে বিস্তারিত ভাবে কোনও সাক্ষাত্‌কারই দেননি তিনি।

তা হলে কি সত্যি ভারতীয় সেলিব্রিটিরা পাল্টে গেলেন? বিদেশে চল আছে সেলিব্রিটি বিয়ের রাইটস পত্র-পত্রিকাকে বিক্রি করে দেওয়ার। কিন্তু এ দেশে তা এখনও শুরু হয়নি। তবে প্রিভেসির ব্যাপারে এ দেশের তারকারা এখন আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক। তার একটা কারণ হল সোশ্যাল মিডিয়াতে সারাক্ষণ তাঁদের বিষয়ে লেখালেখির বাড়াবাড়ি। জনের সঙ্গে পরিচালক সুজিত সরকারের দারুণ দোস্তি থাকলেও তিনি অভিনেতার বিয়ে নিয়ে কোনও কথাই বলতে চান না। “সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে আজকাল তারকাদের জীবনের সব খবর মুহূর্তের মধ্যে সবার কাছে পৌঁছে যায়। সেলিব্রিটিরা পাবলিক স্পেস-য়ে থাকলেও তাঁদেরও প্রিভেসির প্রয়োজন। এই প্রিভেসিকে সম্মান করা দরকার,” বলছেন সুজিত।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সীমা হিঙ্গোরানি জানাচ্ছেন, আজকাল তারকাদের ‘ইনফর্মেশন ফ্লাডিং’ ব্যাপারটা বেশ ভীতিপ্রদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমার মতে, আদিত্য-রানির বিয়ে নিয়ে অনেক দিন ধরেই বেশ জল্পনা করা হচ্ছিল। তাই হয়তো ওঁরা বিদেশে গিয়ে বিয়েটা সেরে ফেললেন। “এই ধরনের দম্পতিদের একজন একটু চুপচাপ এবং আড়ালে থাকা প্রকৃতির মানুষ হন। আদিত্যকে এমনিতে কখনও কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। দ্বিতীয় বার বিয়ে করতে গেলে অনেকেই বেশি সাবধানী হয়ে যান। সংস্কার থেকেই যায়। যাতে কারও নজর না লাগে। কেউ কেউ ভাবেন, বেশি লোক জানাজানি হলে হয়তো ব্যাপারটা ভেস্তে যেতে পারে,” বলছেন সীমা। তার মানে তারকারাও কি কুসংস্কারাচ্ছন্ন? হয়তো। তবে কুসংস্কারের থেকেও বড় ব্যাপার হল, এই প্রাইভেট অনুষ্ঠান করে কোথাও তারকারা ক্ষমতা জাহির করেন। যেন বলতে চান, যতই তোমরা ধাওয়া করো, শেষ পর্যন্ত সেটাই জানবে যা আমি তোমাদের জানাতে চাই।

আরও পড়ুন

Advertisement