হেমন্তের বিকেল। বালিগঞ্জের ‘উত্সব’ বাড়ির লনে পর পর চেয়ার সাজানো। একে একে এসে বসলেন ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র কারিগররা। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়, সুরিন্দর সিংহ, নিসপাল সিংহ রানে, ইন্দ্রনীল ঘোষ।

‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ কী? ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ কে?

কৌতূহলের সূত্রপাত কিছুদিন আগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সুরিন্দর ফিল্মস’ এবং ‘এনআইডিয়াস’-এর পেজ থেকে একটি কার্ড পোস্ট করা হয়। যেখানে লেখা ছিল ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’। পর পর ঋতুপর্ণ ঘোষ, প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর।

তা হলে এটা ঋতুপর্ণর বায়োপিক? কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালনা করবেন? ঋতুপর্ণর ভূমিকায় কি প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়?

ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে এবং বাইরে এ হেন প্রচুর জল্পনা চলছিল। সোমবার বিকেলে তারই অবসান ঘটালেন ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র কারিগররা।

‘‘আমরা ভাবলাম ঋতুদা থাকলেও এমন একটা ঘরোয়া পরিবেশই বেছে নিতেন হয়তো। আর এ বাড়ির মূল দরজায় ‘উত্সব’ লেখাটাও ঋতুদার হাতের। ফলে প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িটাই ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র প্রথম ঘোষণার জন্য সঠিক বলে মনে হয়েছিল আমার’’ বললেন ক্যাপ্টেন অফ দ্য শিপ কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন, #মিটু? ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও কিছু ইচ্ছের বাইরে হয় না, বললেন শর্বরী

কৌশিক জানালেন, ‘আর একটি প্রেমের গল্প’ তৈরির সময় ঋতুপর্ণর ইন্দ্রাণী পার্কের বাড়িতে তিনি প্রতিদিন যেতেন। কাজ থাকলেও, কাজ না থাকলেও। সিনেমা এবং আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা মুখ্য ছিল তখন। সে সময়ই একটি ভাবনার কথা কৌশিককে বলেছিলেন ঋতুপর্ণ। তখন ‘অটোগ্রাফ’ তৈরি হচ্ছিল। সে কারণে এই ছবিটা করতে চাননি। পরে ঋতুপর্ণর পিতৃবিয়োগের সময় খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখেছিলেন কৌশিক।

‘‘একজন সেলিব্রিটি হলে যা হয়, বহু মানুষ এসেছিলেন সে দিন। আর চিঙ্কুদাকে (ঋতুপর্ণর ভাই) দেখেছিলাম একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আমার একটা খারাপ অভ্যেস আছে মুহূর্তগুলোকে মনে করে রাখি। পরে যখন মনে হয় এটা নিয়ে কাজ করা যাবে, তখন শুরু করি। এ গল্পের ভাবনা ঋতুদার। পরে বুম্বাদাকে বলেছিলাম। বুম্বাদাকেই ঋতুদা ভেবেছিল। ফলে সবটা জানত ও। আমি চিঙ্কুদার কাছে গিয়ে বলেছিলাম এটা আমি করতে চাই। চিঙ্কুদা আমার হাতে তুলে দিয়ে বলেছিল নিজের মতো করে কর। আর আজ আমার বলতে দ্বিধা নেই এর রয়্যালটি বাবদ একটা পয়সা নেননি’’ ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র শুরুর গল্প বলছিলেন কৌশিক।

 

 

অনস্ক্রিন ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়। এই একটা মাত্র কাস্ট করেছিলেন ঋতুপর্ণ স্বয়ং। এ ছবির কনিষ্ঠ পুত্রের ভূমিকায় দেখা যাবে ঋত্বিক চক্রবর্তীকে। এ বার মুখ খুললেন প্রসেনজিত্। ‘‘ঋত্বিকের সঙ্গে এর আগে কখনও কাজ করা হয়নি। অভিনেতা আমরা ভাল, খারাপ সবাই। ও একটা অন্য মাত্রার অভিনেতা। আমি কয়েকটা এক্সট্রা প্যাডিং অর্ডার দিয়েছি। সেটা পরে মাঠে নামতে হবে। কারণ সামনে ঋত্বিক আছে (হাসি)। আসলে আমার জীবন থেকেই ঋতুপর্ণর এই ভাবনাটা এসেছিল। ও করতেও চেয়েছিল ছবিটা। অনেকেই জানে। আমি তখন বলেছিলাম একটু পরে কর…। তার পর তো যা হওয়ার হয়ে গেল। আমরা খুব সচেতনতার সঙ্গে এ ছবিটা করব। আর ঋতু যা ইনজেক্ট করে দিয়ে গিয়েছে আমার মধ্যে, সেটা ভাঙিয়েই খাচ্ছি। আজীবন সেটা দিয়েই চলে যাবে আমার’’ শেয়ার করলেন অভিনেতা।

আরও পড়ুন, ঋতব্রত-সৌরসেনী কি এই জেনারেশনের অপু-দুর্গা?

এ ছবির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে খুশি নিসপাল সিংহ রানে। তিনি বললেন, ‘‘এই প্রজেক্টটা করতে পেরে, এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।’’ আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে বোলপুরে শুরু হবে এ ছবির শুটিং। তবে এই মুহূর্তে প্রসেনজিত্ এবং ঋত্বিক বাদে ছবির অন্য কোনও অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম প্রকাশ করেননি টিম ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-র সদস্যরা।


সাংবাদিক বৈঠকে টিম ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’।

ঋতুপর্ণ চলে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনও ছবির সঙ্গে তিনি ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকবেন। বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়়িয়ে থাকা একটা নাম ঋতুপর্ণ ঘোষ। তাঁর ভাবনা নিয়ে ছবি করাটা কি কোথাও ঝুঁকির? হেসে কৌশিক বললেন, ‘‘আমরা এই সময়ের পরিচালকরাও বাঙালির আবেগ। মূল ভাবনাটা ঋতুদার। ওঁর কিছু নোটও আমি পড়েছি। তবে কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ সবই আমার। না হলে এটা আমার ছবি হত না। আমি এমন একটা ছবি করার চেষ্টা করব যেটা দেখে ঋতুদারও ভাল লাগত। আর আগামী পয়লা বৈশাখে এ ছবির হোর্ডিং, পোস্টার, টাইটেলে ঋতুদার নাম থাকবে এটাই সবচেয়ে আনন্দের।’’

(সিনেমার প্রথম ঝলক থেকে টাটকা ফিল্ম সমালোচনা - রুপোলি পর্দার বাছাই করা বাংলা খবর জানতে পড়ুন আমাদের বিনোদনের সব খবর বিভাগ।)