দম ফেলার ফুরসত নেই অহনা দত্ত- দীপঙ্কর রায়ের। আজ যে তাঁদের একমাত্র কন্যা মীরার অন্নপ্রাশন। অভিনেত্রী মা আর রূপসজ্জাশিল্পী বাবার আনন্দ ধরে না!
সকাল থেকে সাজসাজ রব। কৃষ্ণপুজোর আয়োজন। মেয়েকে সাজানো, রান্না, আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং আমন্ত্রিতদের আপ্যায়ন। “তার মধ্যেই সকাল থেকে মেয়ের বাবার চোখ বারে বারে ভিজেছে। আনন্দের চোটে”, আহ্লাদি গলায় আনন্দবাজার ডট কম-কে বললেন অহনা। তাঁর স্বামী এ দিন খুবই অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়েছেন।
বাড়ির অমতে ছোট বয়সে বিয়ে। অন্ত:সত্ত্বা হয়েছেন তার পরেই। মায়ের আশীর্বাদ, সাহচর্য- কিচ্ছু পাননি অহনা। একার সাহসে এতটা পথ পেরিয়ে মেয়ের মুখেভাত। পিছন ফিরে দেখলে জীবনটাকে ‘সিনেমা’ মনে হয়? হাজার কষ্টেও মুখে হাসির কমতি নেই! ছোটপর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী বললেন, “খুব ভয় পেয়েছিলাম। খালি মনে হোত, পারব তো?” শেষপর্যন্ত পেরেছেন। তার পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন শ্বশুর, স্বামী, দুই ননদ আর মেয়ে মীরাকে। "বড্ড লক্ষ্মী মেয়ে আমার। ও এত ভাল বলেই তো পারছি সব।”
রবিবারের উদ্যাপনে অহনার আমন্ত্রিত তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্য আর কলকাতার ছবিশিকারির দল।
অনুষ্ঠানের আগে মন দিয়ে কৃষ্ণের আরাধনা সেরেছেন অহনা-দীপঙ্কর। এ দিন তাই নিরামিষ। মীরার গায়েহলুদ হয়েছে। মুখে প্রসাদের পর অন্নপ্রাশনের আয়োজন। "ফ্রাইড রাইস, চিলি পনির, আলুর দম, ভেজ চপ অতিথিদের জন্য। মেয়ের জন্যও নিরামিষ খাবার ", বললেন অহনা। জানালেন, মীরা বই ধরেছে। দীপঙ্কর মেয়েকে দিয়েছেন রুপোর বাটি-চামচ, পায়ের তোড়া। শ্বশুর, দুই ননদ দিয়েছেন সোনার গয়না। আর মা? "এত আনন্দ আয়োজন। বড় হয়ে মীরা দেখবে, ওর মুখেভাতে কত হুল্লোড় হয়েছে, দাবি অহনার। পেশাদুনিয়া আর বন্ধুদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন অন্য দিন।
আরও পড়ুন:
নাতনি হল, তার অন্নপ্রাশন সারা। অহনার মায়ের মন এ বার একটু নরম? বুকের ভিতর থেকে উঠে আসা দীর্ঘ শ্বাস ঢাকলেন মিষ্টি হাসিতে। অহনা বললেন, "যে বন্ধ দরজা কোনও দিন খুলবে না, তাতে ঘা দিয়ে লাভ?শ্বশুরবাড়ি আমার পাশে। আমি খুব সুখী।"