ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি এখনও প্রেরণা নামেই জনপ্রিয়। ‘কসৌটি জ়িন্দেগি কে’ তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। অনেক দিন পরে ছোট পর্দায় ফিরছেন শ্বেতা। নতুন শো ‘মেরে ড্যাড কী দুলহন’-এ তাঁকে দেখা যাবে একদম অন্য রূপে।

কামব্যাক নিয়ে উত্তেজিত শ্বেতা। তবে তিনি যখন কাজ করতেন, তার চেয়ে ইন্ডাস্ট্রি এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর মত, ‘‘আমাদের বাড়িতে বেশির ভাগ সময়ে টিভি বন্ধই থাকে। তাই এখন কী ধরনের শো হয়, তা নিয়ে খুব বেশি ধারণা নেই। আসলে টিভির রিমোট থাকে আমার ছেলের দখলে। সে শুধু কার্টুন দেখবে। তবে টিভি না দেখার একটা সুবিধে হয়েছে, আমার বই পড়ার অভ্যেসটা বেড়ে গিয়েছে। আর আমাকে দেখে ছেলেও বই নিয়ে এসে পড়ে শোনাতে বলে। বাচ্চাদের কিছু শেখানোর উপায় হল, নিজেও সেটা করা।’’

শুধু অভিনয় নয়, ব্যক্তিগত জীবনের কারণেও খবরে থাকেন শ্বেতা। সম্প্রতি তিনি তাঁর স্বামী অভিনব কোহালির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ করেছেন। এর আগে শ্বেতার প্রথম স্বামী রাজা চৌধুরীও তাঁকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ ছিল। অভিনব শ্বেতার মেয়ে পালকের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন এই অভিযোগে, অভিনেত্রী পুলিশের কাছেও যান।  

ব্যক্তিগত জীবনে বারবার নাজেহাল হওয়ার প্রসঙ্গে খানিক উত্তেজিত হয়ে উঠলেন অভিনেত্রী, ‘‘দ্বিতীয় বিয়ে বলে কোনও সমস্যা হবে না, এমন কি কোথাও লেখা আছে? আমি অন্তত সাহস দেখিয়ে প্রতিবাদ করেছি। জানিয়ে দিয়েছি, ওর (অভিনব) সঙ্গে আর ঘর করব না। আমার সন্তানদের যাতে ভাল হয়, সেটাই করেছি। লোকে কী বলবে, তার ভয় পাই না।’’

মেয়ে পালক এবং ছেলে রেয়াংশই তাঁর দুনিয়া। দু’জনের শৈশবের মধ্যে পার্থক্য দেখতে পান? ‘‘পালকের শৈশব আমি নিজের চোখে দেখতে পারিনি। ওর চার মাস বয়স থেকে আমি ‘কসৌটি জ়িন্দেগি কে’র শুটিং শুরু করি। ও কখন হাঁটতে শিখল, কখন কথা বলতে পারল, কিছুই প্রত্যক্ষ করিনি। খারাপ লাগলেও কিছু করার ছিল না। তাই ছেলে হওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যতক্ষণ না রেয়াংশ হাঁটতে শিখবে আমি হাতে কাজ নেব না।’’ 

মেয়ে পালক অভিনয়ে আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সত্যিটা কী? ‘‘পালক তাই চায়। সেই কারণে আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেছে। বিভিন্ন জিনিস মন দিয়ে শিখছে। কিক বক্সিং, নাচ, জিম সব জায়গায় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। তার সঙ্গে পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ও নিজেই বলে, ‘মা আমি পড়াশোনা করে তবেই অভিনয়ে আসব।’ নিজেকে প্রস্তুত করাটাও তো গুরুত্বপূর্ণ,’’ মন্তব্য শ্বেতার। 

কেরিয়ারের শুরু থেকে যাঁরা শ্বেতাকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন ঠিক একই রকম দেখতে রয়েছে তাঁকে। চেহারা-বয়স ধরে রাখার রহস্যটা কী? ‘‘কোথায়? এই দেখুন চর্বি (নিজের পেটের দিকে তাকিয়ে)! আমাদের এখানে হিরোদের তো কেউ কিছু বলে না। যত চাপ নায়িকাদের। জিমে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই। চল্লিশ বছর বয়স হয়ে গিয়েছে। আর কী....’’ শ্বেতার মুখে ঝিলিক দিয়ে উঠল তাঁর সেই সিগনেচার হাসি।