ছোট থেকেই গান শেখা শুরু। প্রথম গুরু ছিলেন তাঁর মা। জিয়াগঞ্জের যে ছেলেটার এখন জগৎজোড়া নাম, তাঁর যাত্রা শুরু হয় একটি রিয়্যালিটি শোয়ের মঞ্চ থেকে। একের পর এক হিন্দি, বাংলা-সহ অজস্র ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। যে গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন, সেটাই হিট্। তিনি অরিজিৎ সিংহ। কিন্তু, একটা সময়ে নিজেকে নিজেই কষ্ট দিতেন। বদলাতে চাইতেন গলার স্বর! অকপটে স্বীকার করেছেন সে কথা।
আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়ার আনন্দ বা মন ভাঙার যন্ত্রণা— সব আবেগের জন্যই অরিজিতের কণ্ঠে কোনও না কোনও গান মজুত। প্রত্যেকটা আবেগ নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে গেয়েছেন প্রচুর গান। তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ‘আশিকী ২’ ছবি। কিন্তু, তার আগে একটা কঠিন লড়াই লড়তে হয়েছে অরিজিৎকে।
গায়ক জানান, তিনি যখন পেশাদার হিসাবে গান গাওয়া শুরু করেন, সেই সময়ে নিজের কণ্ঠই নাকি পছন্দ হত না তাঁর। অনেকে নাকি সমালোচনাও করেছেন তখন, এমনই দাবি অরিজিতের। এখন তাঁর কণ্ঠে যে দরদ, আবেগ, যন্ত্রণা আছে— তা নাকি ঈশ্বরপ্রদত্ত নয়। বরং অরিজিৎকে নাকি সেটা বানাতে হয়েছে।
গায়কের কথায়, ‘‘আসলে আগে আমার আওয়াজ অনেকেই পছন্দ করতেন না। সেই অর্থে আমি আমার গলাটাকে ভেঙেছি। বলতে পারেন, প্রায় একটা স্থাপত্য নির্মাণের মতো কেটে কেটে গলাটা তৈরি করেছি। অনেক অত্যাচার করেছি নিজের গলার পেশিগুলোকে এ ভাবে তৈরি করার জন্য। সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম। রাতে এত রেওয়াজ় করেছি যে, গলা ক্লান্ত হয়ে ভেঙে গিয়েছে।’’
অরিজিৎ আপাতত সিনেমার গান থেকে অবসর নিয়েছেন। নতুন ধরনের গান তৈরিতে মজেছেন তিনি। অরিজিৎ নতুন প্রতিভাদের তুলে ধরতে চান, নিজেই জানিয়েছেন সে কথা।