রণবীর প্রথম নন! বলিউডে আগেও অনেককে নানা কারণে ‘কোণঠাসা’ করা হয়েছিল, সেই তালিকায় কারা
তাঁর বিরুদ্ধে ‘অসহযোগিতা’র বার্তা হোক বা ‘কোণঠাসা’ করার আহ্বান— গোটা বিষয়টি নিয়ে নিজে এখনও নীরব অভিনেতা রণবীর সিংহ। তবে তাঁর আগেও ছিল এমন দৃষ্টান্ত। ঘোষিত না হলেও পরোক্ষ ভাবেও কোণঠাসা করা হয়েছে বেশ কয়েক জন অভিনেতাকে।
‘ডন ৩’ ছবি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বিতর্কে জড়িয়েছেন রণবীর সিংহ। এমনকি, এফডব্লিউআইসিই বলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে অনুরোধ করেছে, কেউ যেন আপাতত রণবীরের সঙ্গে কাজ না করে। অভিযোগ, ফরহান আখতারের ছবি ‘ডন ৩’-র চুক্তিপত্রে সই করার পরেও তিনি ছবিটি থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, এর জেরে ক্ষতি হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে এফডব্লিউআইসিই (ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ়) রণবীরের সঙ্গে ‘সহযোগিতা না করা’র এ হেন বার্তা দিয়েছে।
এ ভাবে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত হলেও রণবীরের পরবর্তী ছবির কাজে তার কোনও প্রভাব পড়ছে না। পাশাপাশি, এই এফডব্লিউআইসিই সংগঠনটি কোনও আদালত বা বিচার প্রতিষ্ঠান নয়। ফলে তাদের এই তথাকথিত ‘নিষেধাজ্ঞা’য় আইনি সিলমোহর নেই। শুধু সাংগঠনিক বিধিনিষেধের নিরিখেই গোটা বিষয়টিতে তারা একটা বার্তা দিয়েছে মাত্র। যদিও রণবীরের অনুরাগীদের বক্তব্য, ‘ধুরন্ধর’-এর নজির গড়া সাফল্যের জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তবে রণবীরের আগেও ছিল এমন ‘নিষেধাজ্ঞা’র দৃষ্টান্ত। পরোক্ষ ভাবেও কোণঠাসা করা হয়েছে বেশ কিছু অভিনেতাকে।
কর্মজীবনের একেবারে শুরুতে সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে একটি ছবি করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু পরে আর সেই সংস্থার সঙ্গে কোনও কাজ করেননি তিনি। ‘স্ত্রী’ , ‘স্ত্রী ২’-এর মতো সফল ছবি থাকলেও, শ্রদ্ধার আর ডাক আসেনি সেই প্রথম সারির প্রযোজনা সংস্থা থেকে। যদিও অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল।
কর্মজীবনের একেবারে শুরুতে সেই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে একটি ছবি করেছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু পরে আর সেই সংস্থার সঙ্গে কোনও কাজ করেননি তিনি। ‘স্ত্রী’ , ‘স্ত্রী ২’-এর মতো সফল ছবি থাকলেও, শ্রদ্ধার আর ডাক আসেনি সেই প্রথম সারির প্রযোজনা সংস্থা থেকে। যদিও অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ওই প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল।
কার্তিক আরিয়ানের উপরে কোনও আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তবে শোনা যায়, কর্ণ জোহরের ‘ধর্ম প্রোডাকশন্স’ তাঁকে ‘দোস্তানা ২’ থেকে বাদ দেওয়ার পর তিনি অঘোষিত ভাবে ‘নিষিদ্ধ’ হয়ে যান। সংস্থার পক্ষ থেকে এর নেপথ্যে ‘পেশাগত কারণ’-এর যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
কর্ণের সংস্থার থেকে এ-ও জানানো হয়েছিল, ভবিষ্যতে আর আরিয়ানের সঙ্গে কাজ করা হবে না। যদিও পরে দু’পক্ষের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এর পরে সেই সংস্থার ছবি ‘তু মেরী ম্যায় তেরা ম্যায় তেরা তু মেরী’-তে অভিনয় করেন কার্তিক। বিপরীতে ছিলেন অনন্যা পাণ্ডে। তবে ছবিটি বক্সঅফিসে ব্যর্থ হয়। কার্তিকের অনুরাগীদের দাবি, ইচ্ছা করেই চাপ দিয়ে কার্তিককে বাজে চিত্রনাট্যের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে প্রকাশ্যে প্রমাণ করানোর চেষ্টা হল যে, আরিয়ানকে কাজ দেওয়া হল, তবে তিনি ব্যর্থ হলেন। কারও কথায়, “ঠিক সুশান্ত সিংহ রাজপুতকে যেমন ‘ড্রাইভ’-এর মতো ছবি করানো হয়েছিল, তেমনই কার্তিকের সঙ্গেও একই জিনিস করা হল।”
সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যু রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল বলিউডে। তাঁর মৃত্যুর পরে বিভিন্ন মহলে খবর ছড়ায়, কিছু প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থা নাকি তাঁকে অঘোষিত ভাবে কোণঠাসা করেছিল। পেশাগত মতবিরোধের কারণে নাকি তাঁকে নতুন ছবি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রথম সারির কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থা।
শোনা যায়, পর পর নাকি বেশ কিছু ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। ক্রমশ সব জায়গা থেকে তাঁকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছিল। যদিও কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল না। কিন্তু লাগাতার অঘোষিত অসহযোগিতার জেরে ক্রমশ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছিলেন সুশান্ত, এমনটাই শোনা যায়।
একসময় গোবিন্দ ছিলেন বক্সঅফিস-সফল তারকা। কিন্তু একটা সময়ে অঘোষিত ভাবে ইন্ডাস্ট্রির নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন। শুটিংয়ে খুব দেরি করে পৌঁছনো এবং পরিচালক ডেভিড ধবনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে বহু বড় পরিচালক ও প্রযোজক নাকি ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন:
২০০৯-’১০ নাগাদ ক্রমশ কাজ কমতে থাকেন গোবিন্দের। কিছু ছবি করলেও সেগুলিও বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে কখনও কোনও মন্তব্য করেননি গোবিন্দ। গত কয়েক বছরে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য ছবি নেই অভিনেতার।
সলমন খানের সঙ্গে ঝামেলার কারণে নাকি বহু দিন কাজ পাননি বিবেক ওবেরয়, শোনা যায় এমনই। ২০০৩ সালে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বিবেক জানিয়েছিলেন, তিনি হুমকি পাচ্ছেন সলমনের তরফ থেকে। তার পরে তাঁর কর্মজীবনে বড় ধাক্কা আসে। অনেকেই বিবেকের সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করে দেন। ওই ঘটনার পর অনেক প্রযোজক ও পরিচালক সলমন খানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ভয়ে বিবেকের সঙ্গে কাজ এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। ‘সাথিয়া’, ‘কোম্পানি’র মতো ছবিতে অভিনয় করার পরেও ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চাঙ্কি পাণ্ডে জানিয়েছেন, তিনিও একসময় ‘নিষিদ্ধ’ ছিলেন। তাঁকেও ফেডারেশনই ‘নিষিদ্ধ’ করেছিল। ১৯৮৭ সালে ‘আগ হি আগ’ নামে একটি ছবির সময়ে বিতর্কের সূত্রপাত। সেই সময়ে টানা এক সপ্তাহের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছিলেন অভিনেতা।
সেই ঘটনার কথা মনে করে চাঙ্কি বলেন, “১৯৮৭ সালে ‘আগ হি আগ’ ছবির শুটিং চলাকালীন পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে ধর্মঘট চলছিল। তখন কারও শুটিং করার কথা ছিল না। কিন্তু পহলাজ নিহালনি বেঙ্গালুরুতে শুটিং করছিলেন। পরে আমরা উটিতেও শুটিং চালিয়ে যাই। সেই কারণেই আমার এবং ছবির সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তখন সব ছবির শুটিং বন্ধ ছিল। ধর্মেন্দ্রজি এবং শত্রুঘ্ন সিন্হাজিও এই ছবির অংশ ছিলেন। কিন্তু ওঁরা এত বড় মাপের তারকা ছিলেন এবং একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০টা ছবি করতেন, তাই তাঁদের নিষিদ্ধ করা সম্ভব ছিল না। আমি তখন একেবারে নতুন ছিলাম। তাই শেষ পর্যন্ত আমাকে প্রায় এক সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।”
পাকিস্তানের অভিনেতা ফওয়াদ খান সাড়া ফেলেছিলেন বলিউডে। ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘খুবসুরত’, ‘কপূর অ্যান্ড সন্স’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে উরির সেনাঘাঁটিতে হামলার পরে পাকিস্তানের শিল্পীরা নিষিদ্ধ হন। তাই ‘নিষিদ্ধ’ হয়ে যান ফওয়াদও। ২০২৫ সালে ফের একটি ছবি করার কথা ছিল তাঁর বাণী কপূরের বিরুদ্ধে। কিন্তু পহেলগাঁও কাণ্ডের পরে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি হয় পাকিস্তানি অভিনেতাদের উপর।
ফওয়াদের মতো একই কারণে বলিউডে নিষিদ্ধ হয়েছেন মাহিরা খান। ‘রইস’ ছবিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানি এই অভিনেত্রী। সাড়া ফেলেছিল সেই জুটি। কিন্তু ২০১৬-র পরে তিনিও নিষিদ্ধ হয়ে যান।
রণবীর সিংহের বিতর্ক কেন্দ্র করে বলিউডে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা চলছে। বহু তারকাই ইতিমধ্যেই মুখ খুলছেন। পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রথম সারির তারকাকে নিষিদ্ধ করা মানে হাজার হাজার মানুষের জীবিকায় কোপ। তাই কাজ থামিয়ে রাখেননি অভিনেতা। শুরু করেছেন পরবর্তী ছবি ‘প্রলয়’-এর কাজ।