Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

‘এই প্রথম বার আমি ভয় পেয়েছি’

মধুমন্তী পৈত চৌধুরী
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ০০:০০
যিশু।ছবি: সুপ্রতিম চট্টোপাধ্যায়।

যিশু।ছবি: সুপ্রতিম চট্টোপাধ্যায়।

প্র: গত বছর আপনার শ্বাস ফেলার সুযোগ ছিল না। এ বছরও কি তাই?

উ: মুম্বই থেকে সবে ফিরলাম। মৈনাকের (ভৌমিক) ছবির ডাবিং শুরু হবে। সুজয় ঘোষের নেটফ্লিক্সের জন্য ওয়েব সিরিজ়টার কাজ শেষ হল। আরও কাজের কথা চলছে।

প্র: হিন্দি, বাংলা ও তেলুগু তিন ভাষাতেই পিরিয়ড ছবি করলেন। এই ধরনের ছবিতে কাজ করার সুবিধে ও অসুবিধে কী?

Advertisement

উ: আমি এত কিছু ভাবি না। সবটাই নির্ভর করছে স্ক্রিপ্টের উপরে। ‘মণিকর্ণিকা’ ও ‘এক যে ছিল রাজা’ দুটোতেই রাজার চরিত্র করলাম। একটায় পোশাকের ওজন ১৫ কেজি আর অন্যটায় পোশাক প্রায় পরতেই হয়নি! অভিনয়ের দিক থেকে বললে, আমি রিহার্সাল করি না। সেটায় বেশি অসুবিধে হয়। আমি মূলত ‘অ্যাকশন-কাট’ অভিনেতা।

প্র: ‘মহালয়া’য় মহানায়কের চরিত্রে আপনার অভিনয় নিয়ে তুলনা হবেই...

উ: দর্শক উত্তমকুমার অভিনীত ছবি দেখেছেন। পর্দার বাইরে তিনি কেমন মানুষ ছিলেন, সেটা দর্শক জানেন না। তবে আমার সুবিধে, বাড়িতে শাশুড়ি (অঞ্জনা ভৌমিক) রয়েছেন, যিনি ওঁর সঙ্গে অনেক কাজ করেছেন। কাজের বাইরেও ওঁদের অনেক গেট-টুগেদার হতো। আমি সেখান থেকে একটা ধারণা পেয়েছি। কিছু ম্যানারিজ়ম রেখেছি। বাকিটা নিজের মতো করেছি। কেরিয়ারের কুড়ি বছর হয়ে গেলেও সব ছবির শুটিংয়ে আমার টেনশন হয়। এই প্রথম বার ভয় পেয়েছি। ভাগ্য ভাল, উত্তমবাবু অভিনীত ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘সন্ন্যাসী রাজা’র চরিত্র দু’টি করলেও তুলনা হয়নি। এ যাত্রাও বেঁচে যাব বলে মনে হয় (হাসি)।

প্র: গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সাফল্যের পরে ইন্ডাস্ট্রিতে একটা কথাই বলা হয়, যিশু ফিরে এসেছেন। এই সফরের টার্নিং পয়েন্ট কোনটা?

উ: সত্যিই জানি না। খুব ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করিনি। আমি একমাত্র অভিনেতা যে, ৩৬০ ডিগ্রি কাজ করেছি। এমন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি যে, ক্যামেরার ডান-বাঁ বোঝে না। এমন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি যে, প্রোডাকশন কন্ট্রোলারের সঙ্গে বসে টাকা গুনছে, আর তার সহকারী শট নিচ্ছে। ওই সময়েই শ্যাম বেনেগল, গৌতম ঘোষের মতো পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করেছি। যাত্রা, থিয়েটার, টেলিভিশনে সঞ্চালনা, টেলিফিল্ম সবই করেছি। ফিরে আসার কথা অন্যরা বলুক, আমি শুনি। ভাল লাগে। তবে ছবি না চললে যিশু আবার ফিরে যাবে!

প্র: কেরিয়ারের এই পর্যায়ে দু’একটা ছবি না চললে তার প্রভাব কতটা পড়বে?

উ: কোনও প্রভাব পড়বে না। আমার এমন ছবিও আছে, যা শুক্রবার রিলিজ় করে শনিবার হাফ টাইমে হল থেকে উঠে গিয়েছে। তাই এ সব ভাবি না। ছবি না চললে হয়তো আর কেউ ডাকবে না। তখন টিভিতে কাজ করব। টিভি না চললে যাত্রা করব! যাত্রা না চললে প্রোডাকশন বয়ের কাজ করব...

প্র: এত পজ়িটিভ থাকেন কী ভাবে?

উ: এটাই তো জীবন। কোনও দিন জীবনকে সিরিয়াসলি নিইনি। মেয়েরা হওয়ার পরে একটু অবশ্য সিরিয়াস হয়েছি। আমার বাবাকে দেখেছি যখন টাকা ছিল, তখন যে ব্র্যান্ডের সিগারেট খেতেন, প্রবল অর্থকষ্টের মধ্যেও সেই ব্র্যান্ড ছাড়েননি। এখন যা আছে, তা না থাকলেও আমার বা আমার স্ত্রীয়ের খুব একটা অসুবিধে হবে না।

প্র: পর্দায় যিশুকে সবচেয়ে ভাল এক্সপ্লোর করেছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ না সৃজিত মুখোপাধ্যায়?

উ: ঋতুপর্ণ ঘোষ শিখিয়েছেন অভিনয় কী, কেন, কী ভাবে করতে হয়। অভিনেতা হয়েছি ওঁর হাতে। তবে এক্সপ্লোর করার আগেই উনি চলে গেলেন। মনে হয়, এখনও ঋতুদা আমাকে দেখছেন আর বিভিন্ন ভাবে বকুনি দিচ্ছেন। তবে এক্সপ্লোর করেছে সৃজিতই।

প্র: ‘মণিকর্ণিকা’র সাফল্যে আপনি খুশি?

উ: মুম্বইয়ে আর এখানেও ছবিটা ভাল ফিডব্যাক পেয়েছে। মুম্বইয়ের অনেক অবাঙালি বন্ধু ফোন করে বলছে, ‘‘তু তো অচ্ছা অ্যাক্টিং করতা হ্যায়। ইতনা বড়া অ্যাক্টর হ্যায় তু!’’ (হাসি)

প্র: পরিচালকের ক্রেডিট নিয়ে বিতর্ক কি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছেছে?

উ: জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমার কাছে পরিচালক কে? আমি আগেও বলেছি আমার অভিনীত চরিত্রের ৭০-৮০ শতাংশের পরিচালক কৃষ। আর বাকিটা কঙ্গনা। যে পুরনো দৃশ্যগুলো কঙ্গনা আবার শুট করেছে, তার ক্রেডিট আমি কৃষকেই দেব। কারণ আমার অভিনয় বা চরিত্র তার জন্য বদলে যায়নি। আর যে নতুন দৃশ্যগুলো কঙ্গনার পরিচালনায় শুট করেছি, তার ক্রেডিট কঙ্গনাকেই দেব। যদিও আমার এই কথায় কঙ্গনা রেগে গিয়েছে ও আমাকে মেসেজ করে সেটা জানিয়েছে।

প্র: আর কাজ করবেন কঙ্গনার সঙ্গে?

উ: আমার করতে অসুবিধে নেই। ও না-ও করতে পারে (হাসি)।

প্র: নীলাঞ্জনাকে নাকি ভয় পান?

উ: বন্ধুদের সঙ্গে আমি যে ভাষায় কথা বলি, নীলাঞ্জনার সামনে তেমন কিছু বলব না। এটা আমার কাছে ওকে সম্মান করা। বাকিদের সেটা ভয় মনে হলে আমার কিছু আসে যায় না।

প্র: শ্রীকান্ত মোহতার গ্রেফতারি কেরিয়ারে প্রভাব ফেলবে?

উ: প্রফেশনালি নয়। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি, কাজ করব। বন্ধু হিসেবে অবশ্যই খুব খারাপ লেগেছে। আই অ্যাম হার্ট। ওর বিরুদ্ধে এখনও কিছু প্রমাণ হয়নি। তবে আইন তার মতো কাজ করবে।

আরও পড়ুন

Advertisement