Advertisement
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

খেয়ে রোগা হন, বলেন ফিটনেস ফ্রিক সায়ন্তিকা

টলিউডের ফিটনেস ফ্রিক নায়িকা সায়ন্তিকা শেয়ার করলেন তাঁর ফিট বডির সিক্রেটফিটনেস আমার কাছে একটা হ্যাবিট, সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করার মতো। ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখেছি খাওয়া-ঘুম না হোক, জিমে যেতেই হবে। তা না হলে দিনটা ইনকমপ্লিট।

পারমিতা সাহা
শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৭ ০০:৩৯
Share: Save:

প্র: আপনার এত সুন্দর চিকবোনের রহস্যটা বলবেন প্লিজ!

উ: এর জন্য কিন্তু আমাকে প্রচণ্ড-প্রচণ্ড-প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়। দু’বেলা জিম করি। আসলে, ফেস আমাদের জন্য ভীষণ ইম্পর্ট্যান্ট। মুখে সফ্‌টনেস ধরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ডায়েটিং। যার মানে কী খাওয়া উচিত এবং কী খাওয়া উচিত নয়। টাইম ফ্যাক্টর এবং খাবারের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। তিনটেয় লাঞ্চ, রাত বারোটায় ডিনার করলে, আপনি যতই কম খান, রোগা হবেন না। আবার সারাদিন না খেয়ে সন্ধেবেলায় একটা রোল বা বিরিয়ানি খেয়ে নিলাম। এতে সারাদিনের কষ্টটা জলে গেল!

প্র: আপনার কাছেই শুনেছিলাম, মর্নিং কলেজ ছিল বলে, ভোর চারটেয় উঠে জিম করে কলেজে যেতেন!

উ: ফিটনেস আমার কাছে একটা হ্যাবিট, সকালে উঠে দাঁত ব্রাশ করার মতো। ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখেছি খাওয়া-ঘুম না হোক, জিমে যেতেই হবে। তা না হলে দিনটা ইনকমপ্লিট।

আরও পড়ুন: আমি মানুষকে সম্মান দিতে জানি: শুভশ্রী

প্র: চরিত্রের প্রয়োজনে আপনাদের ওজন বাড়াতে বা কমাতে হয়। এটা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর বা আদৌ কি ক্ষতিকারক?

উ: দেখুন, আমি না খেয়ে রোগা হওয়ার ভীষণ বিরোধী। ওজন কমানো বা বাড়ানোটা একটা রেজিম। চট করে হয় না। তাড়াহুড়ো করতে গেলেই বিপদ। ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে গাল হয়তো ভাঙবে, কিন্তু স্কিন নষ্ট হবে, ইন্টারনাল সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাবে। তা ছাড়া, খাবার হজম করার জন্য যে এনজাইম বেরোচ্ছে, তা খাবার না পেলে স্টমাকের ওয়ালকে অ্যাটাক করে। তখনই হয় পেটব্যথা। তাই সব সময় বলি, খেয়ে রোগা হোন। আর বয়স ধরে রাখতে চাইলে, ভিতর থেকে হেলদি থাকা দরকার।

প্র: পুজোটা কি তা হলে সিদ্ধ-ওটস, এ সব খেয়ে কাটিয়েছেন?

উ: একেবারেই না। আমি কী ভাবে মেনটেন করি জানেন, সপ্তমীর দিন বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি ছিল, প্রচুর খাওয়াদাওয়া। সে দিন লাঞ্চে ভাত খাইনি। একটা রুটি খেলাম, সঙ্গে ডাল-মাছ-সবজি। ব্রেকফাস্টে একটা টোস্ট, যেখানে ইউজুয়ালি তিনটে খাই। খিদে পেলে, ফল বা ভেজিটেবলস। এক পিসের জায়গায় দু’পিস মাছ খেলাম।

প্র: এত আউটডোর শ্যুটে যান, মেনটেন করেন কী ভাবে? তখন তো জিম করা হয় না।

উ: জিমে গিয়ে যে আপনি রোগা হতে পারবেন, এটা কোথাও লেখা নেই। এমনও হয়েছে দু’মাস হয়তো জিমে যেতে পারিনি। তখন সকালে বা রাতে খাওয়ার পর আধঘণ্টা হাঁটি। কখনও যোগব্যায়াম করি বা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ। ব্যাডমিন্টন খেলা, সাঁতার কাটা... কত ফর্ম অফ ওয়র্কআউট আছে! জিম করছি না বলে যা ইচ্ছে তাই খেলাম, আবার জিম করলে সিদ্ধ খেয়ে থাকলাম, তা হলে ওজন কমানো যায় না! রোগা হওয়ার জন্য সেভেন্টি পারসেন্ট ডায়েট। মাত্র থার্টি পারসেন্ট জিম। আউটডোর শ্যুটে ভোর চারটের সময় মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ার স্টাইলিস্ট রুমে চলে আসে। সে সব ক্ষেত্রে শ্যুট শেষ হলে রুমে ফিরে পনেরো মিনিট সময় আমি নিজেকে দিই। জাম্পিং, স্কিপিং, পুশআপ করি বা রেজিসট্যান্স ব্যান্ড দিয়ে স্ট্রেচিং। ফলে ফুল বডি ওয়র্কআউট হয়ে যায়। আমার কাছে কিছু না থাকলে, একতলা থেকে চারতলা দৌড়ে ওঠানামা করি কয়েক বার। জিমে না গেলেও অনেক প্রসেস আছে ফিট থাকার। গুরুত্বপূর্ণ হল, আপনি চান কি না, ভাল দেখতে লাগুক।

প্র: আপনার ফিটনেস রুটিনটা কী রকম?

উ: সকালে উঠে জিম করে নিতে চেষ্টা করি। তবে আই কিপ চেঞ্জিং মাই বডি টাইপ। যেমন, ‘পাওয়ার’-এর সময় আমি প্যাকস বানিয়েছিলাম। আসলে টার্গেট এবং বডিওয়েট অনুযায়ী ডায়েট স্থির করি। কখনও সকালে উঠে ওটস খাই, কখনও ব্রাউন ব্রেড টোস্ট বা বয়েলড এগ খেয়ে জিম করি। জিম করে কয়েকটা ডিম বা ফল খেলাম। ডায়েটিংয়ের সময় কার্বোহাইড্রেটটা একটু চেক করতে হয়। তবে আপনি দিনে যতটা কার্ব খাচ্ছেন, হয়তো একবাটি ভাত, সেটা সকালে খেয়ে নেওয়াই ভাল। কারণ তা হলে সারা দিন কাজের মাধ্যমে তা বার্ন হয়ে যায়। কিন্তু রাতে খেলে তা বডিতে স্টোরড হয়। তাই অনেকেই বলেন, রাতে ভাত খেয়ে মোটা হয়ে যাচ্ছি। বিকেলে ফল বা এগ হোয়াইটস খেয়ে নিই বা মুড়ি। মুড়িতে তেল দিতে ইচ্ছে করলে এক ড্রপ অলিভ অয়েল দিলাম। ধনেপাতা, অল্প বাদাম দিয়ে মেখে খেলাম। আপনাকে ভেবে বের করতে হবে, কী দিয়ে পেট ভরাবেন। রাতে বেশি করে সবজি দিয়ে চিকেন স্টু খাই। কখনও ব্রাউন রাইস দিয়ে খিচুড়ি বানিয়েও খাই। খুব এনার্জি লস করলে রুটি খেলাম। তবে যখন ওয়েট লস প্রোগ্রামে থাকি, তখন রাতের দিকে লিন প্রোটিন খাই। আর হাতের কাছে হেলদি স্ন্যাক্সস যেমন, আমন্ড, ক্যাশু, ওটস বা শুকনো চিঁড়ে সব সময় রাখি। যাতে যখনই খিদে পাবে, তখনই যেন খেয়ে নিতে পারি।

প্র: বারো মাস নিজেকে এ ভাবে নিয়মে বেঁধে রাখা তো ভীষণ কঠিন!

উ: অবশ্যই। আমরাও তো মানুষ রে বাবা! তাই দিন পনেরো অন্তর একটা ব্রেক নিই। ধরুন, এক-দেড় সপ্তাহ ছুটি কাটাতে গেলাম, সেখানে কেন ডায়েটিং করব! তখন একটু ওজন বাড়ে। ফ্যাটও তো শরীরের জন্য প্রয়োজন। এই ব্রেকের পর যখন হেলদি ফুডের রেজিম শুরু করি, তখন তেল-ঝাল-মশলা দেওয়া খাবার খেতে ইচ্ছে করে বটে, কিন্তু সেগুলো তো আমি খাব না। ফলে একটা ইরিটেশন আসে। ওই ট্রানজিশন মোডে ঢুকতে একটু সময় লাগে। একবার ঢুকে পড়লে অবশ্য অসুবিধে হয় না।

প্র: খাবারের ব্যাপারে কোনও কিছুতে নো নো?

উ: একটাই জীবন। তাকে পুরোপুরি এনজয় করতে চাই। তবে হ্যাঁ, যখন আমি শ্যুটিংয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন পৃথিবী উলটে গেলেও আমাকে কেউ বিরিয়ানি খাওয়াতে পারবে না। সপ্তাহে একটা ‘চিট ডে’ রাখি, যে দিন কিচ্ছু বাদ নয়। কচুরি, জিলিপি দিয়ে দিন শুরু করি, রোল, বিরিয়ানি সব খাই। তবে আবারও বলব, চেহারা চাইলে লোভ সংবরণ করতেই হবে।

ছবি: সোমনাথ রায়

মেকআপ: অরুণ, হেয়ার: গণেশ

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE