দর্শক বলেন, সুন্দরী, বুদ্ধিমতী অভিনেত্রী গার্গী রায়চৌধুরী। তাঁদের অভিযোগ, আপনাকে অনস্ক্রিন এত কম দেখা যায় কেন?

গার্গী: (হাসি…) ক্লিশে শোনালেও এটাই ফ্যাক্ট যে আমি কোয়ান্টিটিতে বিশ্বাস করি না। কোয়ালিটিতে বিশ্বাস করি। ঈশ্বর আমাকে সেই সুযোগটা দিয়েছেন। ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোয়ান্টিটির কাজ করতে হয়নি কোনওদিন। তাও ২০১৪ মানে ‘রামধনু’ থেকে ধরলে ন’টা ছবি হয়ে গেল আমার।

সত্যিই কি তাই, নাকি অফার পান না?

গার্গী: প্রথম থেকেই আমার লক্ষ স্থির ছিল। আমি জানতাম আমি ঠিক কোন ধরনের কাজ করতে চাই। কোনটা আমার জায়গা।

এটা মনে হয়নি কখনও, আপনাকে নিয়েই কেন আরও বেশি চরিত্র লেখা হবে না?

গার্গী: হয়েছে তো। আমাকে নিয়ে লিখেছেন তো পরিচালকেরা। ‘রামধনু’, ‘খাদ’, ‘বিটনুন’…। ‘হেমন্ত’-এর জন্য তো অঞ্জন দত্ত বলেছিলেন তুমি ছাড়া হবে না।

আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল না?

গার্গী: ওই যে বললাম, কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। আমি যে চরিত্রটা করেছি সব সময়ই চেয়েছি সেটা যেন মানুষ মনে রাখেন। আমি সেই ছবি এখনও বেছে নিই যেটা কোনও মেসেজ দেবে। আমার মাইনাস পয়েন্ট কোনটা খুব ভাল ভাবে জানি। আর কিছুটা জানি প্লাস পয়েন্ট। সবটা নিয়েই নিজেকে প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করি।

আরও পড়ুন, ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা সবাই একে অন্যের পিঠ চুলকোচ্ছি

আপনি কি মুডি?

গার্গী: প্রত্যেকটা মানুষই তো মুডি। কিন্তু সেটা কাজের ক্ষেত্রে দেখানোর কোনও মানে হয় না। তবে আমি আনপ্রেডিক্টেবল নই।

আপনার পিআর তো দারুণ।

গার্গী: আমি প্রোমোশন নিয়ে খুব সিরিয়াস। প্রোমোশন নিয়ে প্রত্যেক শিল্পীর ডেডিকেটেড থাকা উচিত বলেও মনে হয় আমার। ‘রামধনু’র সময়ও প্রোমোশন নিয়ে অতটা সিরিয়াস ছিলাম না। তারপর থেকে মনে হয়েছিল, সিনেমাকেন্দ্রীক পিআর স্কিলটা বাড়ানোর দরকার।

এক সময় ছোটপর্দায় তো প্রচুর কাজ করেছেন। ফিরবেন আবার?

গার্গী: না। ওটা ছেড়ে এসেছি।

কেন?

গার্গী: এখন আমার নতুন পথ চলা শুরু।

ছোটপর্দার অনুষ্ঠান দেখেন?

গার্গী: এখন ছোটপর্দা খুব একটা দেখা হয় না। সময় পাই না।

সত্যিই কি তাই? নাকি ছোটপর্দায় এখন যে কাজ হয়, সেটা ভাল লাগে না?

গার্গী: সব সময় খারাপটাই কেন বলব, ভাল কাজও তো হচ্ছে। সেটা খুঁজে খুঁজে দেখি তো। টেলিফিল্ম দেখি মাঝে মাঝে। আমার কোনও রাগ নেই কিন্তু। বরং অনেক ভাললাগা আছে। সুনীল গাওস্করের একটা কথা খুব বিশ্বাস করি জানেন, ফর্মের শিখরে থাকা অবস্থায় সরে আসতে হয়। ওটাই রহস্য, ওটাই আকর্ষণ।

আরও পড়ুন, ‘পোশাক কোনও কোনও ক্ষেত্রে উত্তেজনা তৈরি করে, এটা মেয়েরাও জানে’

এ বার নতুন রহস্যের গল্প বলুন। ‘মেঘনাদবধ রহস্য’…

গার্গী: রহস্য তো আছেই। কিন্তু এটা কোনও ডিটেকটিভ ছবি নয়। একটা সমস্যা এবং তার সমাধানসূত্র। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রিলেটেড কিছুও নয়। তবুও ‘মেঘনাদবধ কাব্য’টা রহস্য হয়ে গেল কী করে? কিছু একটা যোগ আছে। কিন্তু যিনি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ পড়েননি, মধুসূদন দত্তর নামটাও জানেন না তাঁদেরও ছবিটা দেখতে বসে অসুবিধে হবে না।

আপনার চরিত্রটা কেমন?

গার্গী: এক রিজিওনালি ফেমাস অভিনেত্রী। যিনি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর ছবি করা ছেড়ে দেন। বিয়ে করেন তাঁর থেকে বয়সে বেশ খানিকটা বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক লেখক অসীমাভ বসুকে। এই চরিত্রটা করেছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। তারপর বিদেশে চলে যান। একটা বই রিলিজের জন্য ফিরে আসেন। এসে দেখা হয় সেই পরিচালকের সঙ্গে, যাঁর ছবিতে কাজ করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। হঠাত্ করেই অসীমাভ নিখোঁজ হন।


‘মেঘনাদবধ রহস্য’ ছবির একটি দৃশ্যে গার্গী। ছবি: ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের ইউটিউব পেজের সৌজন্যে।

তারপর?

গার্গী: যেহেতু গল্পের মোড়কে মোড়কে চমক রয়েছে তাই আমরা কেউই প্রায় এর থেকে বেশি কিছু বলছি না।

আপনিই কি রহস্য উদ্ঘাটন করছেন?

গার্গী: বলা বারণ…(হাসি)।

সব্যসাচী চক্রবর্তী, আবির চট্টোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়— তিন জন অনস্ক্রিন ফেলুদার সঙ্গে কাজ করছেন। নিজের গোয়েন্দা হতে ইচ্ছে হয় না?

গার্গী: সব মানুষই একটু না একটু গোয়েন্দা। খুব সম্ভবত তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটা বই আছে, ‘গোয়েন্দা গার্গী’। আমার তো খুব ভাল লেগেছিল ‘শুভ মহরত্’।  হয়তো কখনও ‘মিতিন মাসি’ করব। কিন্তু অফার এখনও পর্যন্ত নেই।

আরও পড়ুন, ‘যাঁরা সমালোচনা করছেন তাঁরাই নিয়মিত প্রত্যেকটা এপিসোড দেখছেন’

টালিগঞ্জে মহিলা গোয়েন্দারা কি মার্জিনালাইজ?

গার্গী: হ্যাঁ, এটা মনে হয় আমারও। তবে মানুষ ভাববেন, সময় আসছে।

অনীক দত্তর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

গার্গী: অনীকদা আমাকে খুব প্যাম্পার করেন। প্রথমে করেননি। সময় লেগেছে। আসলে অনীক দত্তর মধ্যে একটা ছেলেমানুষ বাস করে। সেই ছেলেমানুষটা নিজের ওপর খুব চিত্কার করে। যেটা বাইরে থেকে মনে হয়, সকলের ওপর চিত্কার করছে। কিন্তু দিনের শেষে আমি ওই রকম একজন পারফেকশনিস্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে খুব কম কাজ করেছি। যাঁরা পারফেকশনিস্ট তাঁরা একটু খুঁতখুঁতে হন। একজন শিল্পীর কাছে ওটাই লোভ। একজন ভাল মেকারের সঙ্গে কত বার কত ভাবে কাজ করা যায়।

আপনি লোভী?

গার্গী: আমি খুব লোভী। মানুষ যেখানে থাকে তার থেকে আরও বেশি চায়। তাই সবসময় মনে হয় আরও ভাল চরিত্র করব।

হঠাত্ করে রোগা হতে হল কেন?

গার্গী: রোগা হওয়া বলব না। বরং আমি টোনড হয়েছি। টোনড হলে একটু আলাদা কনফিডেন্স পাওয়া যায়। আগে আমি সব সময় শাড়ি পরতাম। তারপর মনে হল, আমাকে কি সব সময় শাড়িতেই দেখবেন দর্শক? আমি কি অন্য চরিত্র করব না? তখনই এক বছর গ্রুমিং সেশনে ছিলাম। সে সময় ভাল ভাল ছবি দেখেও নিজেকে তৈরি করেছি।

আরও পড়ুন, ব্যক্তিগত জীবনেও ‘অসমাপ্ত’ সম্পর্ক রয়েছে, রয়েছে খারাপ লাগাও

আগে আপনার কনফিডেন্স ছিল না, বলছেন?

গার্গী: আগে শাড়ি ছাড়া অন্য কোনও পোশাকে আমি কনফিডেন্ট ছিলাম না। এখন আমি কনফিডেন্ট। শর্টস পরে কী ভাবে নিজেকে গ্রেসফুলি মেনটেন করতে হয় সেটা আমি আগেও জানতাম। কিন্তু শর্টস পরার উপযোগী থাইটা তো করতে হবে, অন্তত নিজের কাছে।

টোনড চেহারা ছাড়াও দুরন্ত অভিনয় করছেন অনেকেই। আপনিও করেছেন। তা হলে?

গার্গী: বড়পর্দায় যতটা সুযোগ পাচ্ছি, ছোটপর্দায় ততটা সুযোগ পাইনি কিন্তু।

সেটার জন্য কি চেহারাটা দায়ী?

গার্গী: সেটা মনে হয়নি। তবে আমি ওয়ের্স্টান কস্টিউম পরব, আর এখানে ওখানে মেদ উঁকি মারবে সেটা ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দ নয়। কোনও চরিত্রের জন্য মানসিক ভাবে আমি যদি নিজেকে তৈরি করতে পারি, তা হলে শারীরিক ভাবেও নিজেকে তৈরি রাখা দরকার। আমি মন এবং শরীর থেকে মেদ সরানোর চেষ্টা করেছি।

আরও পড়ুন, ‘ইচ্ছেনদী’র পর ‘মেঘলা’ গেলেন কোথায়?

আপনার কোনও আক্ষেপ রয়েছে?

গার্গী: না। কোনও আক্ষেপ নেই। আমি যখন যেটা করি, সমস্তটা দিয়ে করি। যখন যেটা ছাড়ি সমস্তটা দিয়ে ছাড়ি। তবে অনেক মুহূর্ত হারিয়ে গিয়েছে। আবার অনেক ভাল মুহূর্ত পেয়েওছি।

‘মেঘনাদবধ রহস্য’-এ তো আপনি গানও গেয়েছেন। দর্শকদের শোনাবেন?

গার্গী: নিশ্চয়ই।

ছবি: অনির্বাণ সাহা।