×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৮ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

‘অশালীন পোশাকের’ জন্য চড়, অস্ত্রোপচারে বিসদৃশ ঠোঁট, সদ্য বিবাহিত গওহরের জীবন বিতর্কে ভরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ ডিসেম্বর ২০২০ ১২:১৭
মডেলিং দিয়ে শুরু করেছিলেন কেরিয়ার। তার পর ছবিতে। নিজেই স্বীকার করেন যত দিন ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন, সে তুলনায় ছবির সংখ্যা কম। কাজ এবং বিতর্ক হাত ধরাধরি করে চলেছে গওহর খানের জীবনে।

গওহরের জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৩ অগস্ট। পুণের মাউন্ট কারমেল স্কুলের পরে তাঁর পড়াশোনা নেস ওয়াদিয়া কলেজ অব কমার্সে। তাঁর বাবার নাম জাফর খান। রাজিয়া জাফর হলেন মা।
Advertisement
৪ ভাইবোনের সঙ্গে গওহর বড় হয়েছেন পুণে শহরে। তিনি সবথেকে ছোট। তাঁর দিদি নিগর খান অভিনেত্রী। আর এক দিদি কওসর খানের একটি স্পা আছে দুবাইয়ে।

বিভিন্ন নামী ডিজাইনার এবং সংস্থার হয়ে মডেলিং শুরু করেন গওহর। ২০০২ সালে ১৮ বছর বয়সে অংশ নেন ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায়। সেখানে তিনি চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন, পরে তিনি ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল কনটেস্ট’-এও অংশ নেন।
Advertisement
বম্বে ভাইকিংস-এর মিউজিক ভিডিয়ো ‘হাওয়া মেঁ উড়তি যায়ে’-তে তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছিল। টেলিভিশন শো সঞ্চালনার পাশাপাশি তিনি অংশ নেন ডান্স শো ‘ঝলক দিখলা যা’-তেও।

২০০৩ সালে ছবিতে অভিনয় শুরু তাঁর। অভিনয় করেছিলেন ‘মিস ইন্ডিয়া: দ্য মিস্ট্রি’ ছবিতে। এর পর ‘আন: মেন অ্যাট ওয়ার্ক’, ‘শঙ্কর দাদা এমবিবিএস’ ছবিতে ও বিশেষ ভূমিকায় তাঁকে দেখা গিয়েছে। প্রথম প্রচারের আলোয় আসেন ২০০৯ সালে, ‘রকেট সিংহ: সেলসম্যান অব দ্য ইয়ার’ ছবিতে। অভিনয় করেছিলেন রণবীর কপূরের বিপরীতে।

গওহরের নায়িকাজীবনে উল্লেখযোগ্য বাকি ছবি হল ‘ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন মুম্বই’, ‘গেম’, ‘ইশকজাদে’, ‘ক্যায়া কুল হ্যায় হম থ্রি’, ‘বদ্রীনাথ কি দুলহনিয়া’ এবং ‘বেগম জান’। হিন্দির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পঞ্জাবি ছবিতেও।

ছোট পর্দাতেও বার বার দেখা গিয়েছে তাঁকে। ‘ঝলক দিখলা যা’, ‘বিগ বস’, ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর: খতরোঁ কে খিলাড়ি’-সহ বিভিন্ন রিয়েলিটি শো-এ তিনি অংশ নিয়েছেন। ধারাবাহিক ‘গটবন্ধন’ এবং ওয়েবসিরিজ ‘দ্য অফিস’-এও গওহর অভিনয় করেছেন।

কাজের ক্ষেত্রে বার বার তাঁর সঙ্গী হয়েছে বিতর্কও। এক বার রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়াজ র’ স্টার’-এ জনৈক মহম্মদ আকিল মালিক তাঁকে চড় মেরেছিলেন। অভিযোগ ছিল সে সময় গওহর অশালীন পোশাক পরেছিলেন।

এক বার এক ফ্যাশন শো-এ পোশাক বিভ্রাটের মুখেও পরেছিলেন তিনি। তবে বাধা বিপত্তির পরেও তিনি মডেলিং ছাড়েননি।

জড়িয়ে পড়েছেন একাধিক সম্পর্কেও। শিল্পপতি সাহিল পীরজাদা এবং অভিনেতা নীহার পাণ্ড্য ও কুশল টন্ডনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়।

পরিচালক সাজিদ খানের সঙ্গে গওহরের এনগেজমেন্টও হয়ে গিয়েছিল ২০০৩ সালে। কিন্তু শেষ অবধি তাঁদের সম্পর্ক বিয়ে অবধি আর গড়ায়নি।

২০১১ সালে ঠোঁটে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন গওহর। কিন্তু তার ফলে নতুন বিপত্তির মুখোমুখি হন তিনি। অস্ত্রোপচারের পরে চেহারা এতটাই বিসদৃশ হয়ে গিয়েছিল, বাধ্য হয়ে ‘দ্য খান সিস্টার্স’ শো-এর শ্যুটিং বন্ধ রাখতে হয়।

পরে গওহর জানান, টেম্পোরারি লিপ অগমেন্টেশন করিয়েছিলেন। যার ফলে ৩-৪ ঘণ্টার জন্য ঠোঁটের আকার পাল্টে যায়। কিন্তু নতুন লুক পছন্দ হয়নি বলে তিনি ফিরে যান পুরনো চেহারাতেই।

২০১৯ সালে নিজের নামে একটি ক্লোদিং লাইন খুলেছেন। বলেন, অনেকেই ক্লোদিং লাইনের মুখ হচ্ছেন। সেখানে তাঁরা শুধুই ব্র্যান্ডটিকে রিপ্রেজ়েন্ট করছেন। এখানে কোম্পানির ভাবনা, ইনভেস্টমেন্ট, প্রোডাকশন— সব তাঁর নিজের।

মাঝে মাঝেই স্টিরিয়োটাইপড হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিনেত্রী বলছেন, ‘‘যৌনকর্মী, নৃত্যশিল্পী, সিঙ্গল মাদার— অনেক চরিত্র করেছি। যেমন চরিত্রই হোক, আমাকে সেই ধাঁচে ফেলা যায়।’’

শুক্রবার গওহর বিয়ে করলেন সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের ছেলে জায়েদকে। প্রথামাফিক নিকাহ-র পরে রাজকীয় পার্টিরও আয়োজন করেন তাঁরা। বলিউড তারকাদের চাঁদের হাট বসেছিল পার্টিতে

তাঁদের বিয়ের ডিজিটাল আমন্ত্রণপত্র ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। সেখানে তাঁদের প্রেমপর্বকে বলা হয়েছে ‘লকডাউন লভস্টোরি’ বলে। গওহর এবং জায়েদ জানিয়েছেন, তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়েছে বিয়ের কয়েক সপ্তাহ আগে।

তাঁরা জানান, তাঁদের আলাপ হয়েছিল শপিং সেন্টারে। দু’জনেই কেনাকাটা করছিলেন। তার পর ক্রমে ঘনিষ্ঠ হয় আলাপ। সেখান থেকে প্রেম। গান গেয়ে এবং আংটি দিয়ে গওহরকে প্রোপোজ করেন জায়েদ।

বিয়ের পরে গওহরের কেরিয়ারের কোনদিকে এগোয়, দেখার অপেক্ষায় তাঁর অনুরাগীরা।