×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

সেলসম্যান, পার্লারে কাজ করে উপার্জন করা কাঞ্চন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা, কোটিপতিও

নিজস্ব প্রতিবেদন
২০ জুন ২০২১ ১৮:১২
অভিনয়ের জন্য বরাবরই তিনি চর্চায়। ছোট থেকেই অভিনয়কে লক্ষ্য করে এগিয়ে চলা কাঞ্চন মল্লিকের জীবনে অনেক মোড় এসেছে। সংসারে অনেক অভাব-অনটন দেখেছেন তিনি। সে সব কাটিয়ে প্রতিটি লড়াইয়েই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

কিন্তু ব্যক্তি কাঞ্চনের জীবন আজ আরও একবার চর্চায় উঠে এসেছে। সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। নিউ আলিপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরই স্ত্রী অভিনেত্রী পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়।
Advertisement
কাঞ্চনের জন্ম ১৯৭০ সালে কলকাতাতেই। কালীঘাট এলাকায় তিন পুরুষের বাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ারই লোক। একটা সময়ে ‘সক্রিয়’ বাম সমর্থক বলেই পরিচিত ছিলেন।

তার পর ক্রমশ দিদির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। তবে দলীয় রাজনীতিতে এর আগে পা বাড়াননি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পা রেখেই বাজিমাত! উত্তরপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি।
Advertisement
থিয়েটার দিয়েই অভিনয় শুরু করেছিলেন কাঞ্চন। কলকাতায়  ‘চেতনা’, ‘স্বপ্নসন্ধানী’র মতো একাধিক দলে নাটক করেছেন। প্রথম মঞ্চাভিনয় নয়ের দশকে ‘অচলায়তন’ নাটকে।

আর টলিউডে তাঁর হাতেখড়ি ২০০২ সালে। জিৎ-এর সুপারহিট ছবি ‘সাথী’ দিয়ে। ওই বছর জিৎ-এর সঙ্গে ‘সঙ্গী’ ছবিতেও তিনি অভিনয়ের সুযোগ পান।

কাঞ্চনের অভিনয় বরাবরই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে তাঁর হাস্যরস তৈরি করতে পারার ক্ষমতা।

কাঞ্চনের বাবা ছিলেন কারখানা কর্মী। তাঁর সামান্য রোজগারে সংসার চলত। বড় ছেলে হওয়ায় পরিবারের হাল ধরতে অনেক কিছুই করতে হয়েছে তাঁকে।

কষ্টের সংসার তাই অহং ছেড়ে বেরিয়ে সেলসম্যান, পার্লারের ম্যানেজার— কী না করেছেন একটা সময়ে! আবার অভিনয় জীবনেও জায়গা করে নিতে বহুদিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। তার পর প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন কাঞ্চন। কলেজে কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

তবে তাঁর প্রেমের শুরু কলেজ নয়, সেই অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই। সেগুলির সবটাই যদিও একতরফা প্রেম ছিল। তাঁর একতরফা প্রেমের সংখ্যা দু’অঙ্ক ছাড়িয়ে বলে এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন কাঞ্চন।

স্বামীর এই একতরফা প্রেম নিয়ে কোনওদিন মাথা ঘামাননি পিঙ্কি। পিঙ্কির সঙ্গে ২০১৭ সালে বিয়ে করেন কাঞ্চন। ওই সময় দু’জনে ‘সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে’ ধারাবাহিকে একসঙ্গে অভিনয় করতেন। শ্যুটিং সেটেই একে অপরকে ভাল লেগে গিয়েছিল তাঁদের।

অভিনয় করার সময়ই পিঙ্কিকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। পিঙ্কিকে তখন ভালবেসে পিঙ্কু বলে ডাকতেন কাঞ্চন। ‘পিঙ্কু, আমার সংসারও তো সুখের হতে পারে তোমার গুণে’, এই সংলাপেই পিঙ্কির মন জিতে নিয়েছিলেন কাঞ্চন।

পিঙ্কি যদিও তাঁর প্রথম স্ত্রী নন। তাঁর প্রথম বিয়ে টেকেনি। কাঞ্চনের প্রথম বিয়ে নিয়েও কোনওদিন মাথা ঘামাননি পিঙ্কি।

ছেলে ওসোকে নিয়ে জমজমাট সংসারের ছবিই বারবার ধরা পড়েছে নেটমাধ্যমে। ব্যক্তি কাঞ্চন এবং অভিনেতা কাঞ্চন—এত দিন এই দু’জনের প্রতিই অফুরন্ত সম্মান দেখিয়েছেন স্ত্রী পিঙ্কি। যতবারই স্বামীর প্রসঙ্গ উঠেছে অহংকারের সঙ্গে কাঞ্চনের নাম নিয়েছেন তিনি।

দু’জনের মিলিত সম্পত্তির পরিমাণও যথেষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনের আগে কাঞ্চনের জমা দেওয়া হলফনামা বলছে, স্ত্রী ও তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটির বেশি। ফলে সংসারে কোনও অনটনও ছিল না।

তবে গত কয়েকদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। কাঞ্চনের বান্ধবী তথা অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে নিয়েই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রে পিঙ্কিকে এও অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছে যে, কাঞ্চন ছেলের কোনও দায়িত্ব নেন না। আবার পিঙ্কিরও একাধিক সম্পর্ক ছিল বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর।

এ বার কাঞ্চনের বিরুদ্ধে সরাসরি থানায় মানসিক নির্যাতন এবং হেনস্থার অভিযোগ করলেন তাঁর স্ত্রী-ই। অভিযোগে নাম রয়েছে বান্ধবী শ্রীময়ীরও।

পিঙ্কির অভিযোগ, তাঁকে মানসিক নির্যাতন করেছেন কাঞ্চন। মত্ত অবস্থায় গালিগালাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, নিজের বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে কাঞ্চন গাড়ি থেকে তাঁকে নামিয়ে হেনস্থা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন পিঙ্কি।