×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

মডেলিংয়ে ঝড় তুলেও ব্যর্থ অভিনয়ে, শশী কপূরের ছেলে এখন সিনেমা থেকে বহু দূরে

নিজস্ব প্রতিবেদন
১০ জুলাই ২০২০ ০৩:০০
তিনি যে পরিবারের অংশ, তার শাখাপ্রশাখা বিস্তৃত বলিউডের বহু দূর অবধি। কিন্তু তিনি নিজে কোনও দিন ওতপ্রোত ভাবে টিনসেল টাউনের অংশ হয়ে উঠতে পারেননি। তাই নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ নেই কর্ণ কপূরের। শশী ও জেনিফার কপূরের ছোট ছেলের শখ ছড়িয়ে আছে অভিনয় ছাড়াও আরও অনেক বিষয় জুড়ে।

কর্ণের জন্ম ১৯৬২ সালের ১৮ জানুয়ারি। চেহারায় অতিরিক্ত পাশ্চাত্য প্রভাবের জন্য প্রথম থেকেই বলিউডে তিনি খাপছাড়া। কোনও দিনই নায়ক হওয়ার দৌড়ে সামিল হতে পারেননি।
Advertisement
বরং, কর্ণ কপূর বিখ্যাত ছিলেন মডেল হিসেবে। পৃথ্বীরাজ কপূরের এই নাতি তরুণীদের হৃদয়ে ঝড় তুলেছিলেন একটি নামী জামাকাপড়ের ব্র্যান্ডের মডেল হয়ে।

১৯৮৬ সালে প্রথম বার সিনেমায় অভিনয় করেন কর্ণ। শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘জুনুন’ ছবি দিয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ হিন্দি ছবির জগতে। তিনি ছাড়াও এ ছবিতে ছিলেন তাঁর বাবা মা এবং দাদা কুণাল ও বোন সঞ্জনা।
Advertisement
শশী কপূরের প্রযোজনা ও অপর্ণা সেনের পরিচালনায় ‘৩৬, চৌরঙ্গি লেন’ ছবিতেও একটি ছোট ভূমিকায় অভিনয় করে কর্ণ।

এর পর কিছু দিন বলিউড থেকে বিরতি নিয়ে কর্ণ অভিনয় করেন ব্রিটিশ টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য জুয়েল ইন দ্য ক্রাউন’-এ।

তার দু’বছর পরে ফের বলিউডের বাণিজ্যিক ছবির মূলস্রোতে ফিরে আসেন শশীপুত্র। ১৯৮৬ সালে মুক্তি পায় ‘সালতানত’। ছবিতে তিনি ছাড়াও ছিলেন ধর্মেন্দ্র, জুহি চাওলা এবং সানি দেওল।

এর পর ‘লোহা’ এবং ‘অফসর’ নামে আরও দু’টি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। কিন্তু কোনওটাই সফল হয়নি। নায়ক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাননি কর্ণ কপূর।

বলিউডে মডেল হিসেবে তিনি যতটা জনপ্রিয় হন, নায়ক হিসেবে তাঁর অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে।

কর্ণের জীবনের দ্বিতীয় পর্ব জুড়ে আছে ফোটোগ্রাফি। তাঁর কথায় এই নেশা তিনি পেয়েছেন কপূর পরিবারের সদস্য হিসেবেই। তবে আলোকচিত্রী কর্ণের বেশির ভাগ অধ্যায়ই কেটেছে ইংল্যান্ডে।

ব্রিটিশ মডেল লোরনা টার্লিংকে বিয়ে করে কর্ণ থিতু হয়েছিলেন লন্ডনের চেলসিতে। কর্ণ-লোরনার মেয়ের নাম আলিয়া এবং ছেলের নাম জ্যাক। তবে কর্ণ আর লোরনা একসঙ্গে থাকেন না। বেশ কয়েক বছর তাঁরা সেপারেটেড।

আশির দশকে ভারতের বিভিন্ন অংশে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছিলেন কর্ণ। তাঁর ছবি এবং লেখা প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু পত্রপত্রিকায়। ইংল্যান্ডপ্রবাসী হলেও ভারতের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিন্ন হয়নি।

২০১৬ সালে প্রায় ২৫ বছর পরে ভারতে জনসমক্ষে আসেন কর্ণ কপূর। আয়োজন করেছিলেন একটি তাঁর আলোকচিত্রের একটি প্রদর্শনীর। দর্শকদের মধ্যে সমাদৃত হয় তাঁর লেন্সবন্দি ছবি।

কর্ণের দাদা কুণাল কপূর এক জন সফল বিজ্ঞাপন নির্মাতা। বোন সঞ্জনা যুক্ত থিয়েটারের সঙ্গে। যে থিয়েটার থেকে শশী-জেনিফারের আলাপ, সেই রঙ্গমঞ্চের সক্রিয় কর্মী সঞ্জনা।

কপূর পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে কর্ণের। নিয়মিত না হলেও তাঁকে দেখা যায় কপূর পরিবারের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে।