বাঙালি কন্যার প্রেমে হিরের আংটি উপহারের গুঞ্জন! অম্বানী পরিবারের পুত্রের নাম জড়িয়েছিল বলি নায়িকা, বিশ্বসুন্দরীর সঙ্গেও
১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলি অভিনেত্রী টিনা মুনিমকে বিয়ে করেন অনিল। আশির দশকে বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন টিনা। বিয়ের পর অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যান তিনি।
বলি নায়িকাদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকলেও বাড়ির পুত্রবধূ যেন বড়পর্দার কোনও অভিনেত্রী না হন। কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বলি নায়িকারই প্রেমে পড়েছিলেন অনিল অম্বানী। এমনকি, তাঁকে বিয়ে করার পর অন্য বলি অভিনেত্রীদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে নামও জড়িয়ে পড়েছিল অনিলের।
১৯৯৪ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন বাঙালি কন্যা সুস্মিতা সেন। তখনও ব্রহ্মাণ্ডসুন্দরী অবশ্য বলিউডের অভিনেত্রী হয়ে ওঠেননি। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সুস্মিতা।
নক্ষত্রখচিত পার্টিতে অতিথি হিসাবে অধিকাংশ সময় আমন্ত্রিত থাকতেন সুস্মিতা। সেই সূত্রেই অনিলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু তাঁদের পরিচিতি পেশাগত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকলেও অনিল এবং সুস্মিতার পরকীয়া নিয়ে কম গুঞ্জন ছড়ায়নি।
কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে যে, বাঙালি কন্যা সুস্মিতার প্রেমে পড়েছিলেন অনিল। তাঁকে নাকি ২২ ক্যারাটের বহুমূল্য হিরের আংটিও উপহার দিয়েছিলেন।
অনিলের সঙ্গে সুস্মিতার সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা করতে কেউ কেউ আবার রটিয়ে দিয়েছিলেন যে, সুস্মিতার কন্যা রেনের বাবা নাকি অনিলই। এ সব কিছুই যে ভুয়ো খবর তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন সুস্মিতা।
আরও পড়ুন:
সুস্মিতা জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রেনেকে তিনি দত্তক নিয়েছেন। অনিলের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনও রকম সম্পর্ক নেই।
অনিলের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বসুন্দরী এবং বলি অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনেরও। এই খবর শুনে প্রচণ্ড রেগেও গিয়েছিলেন নায়িকা। এক সাক্ষাৎকারে তা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন ঐশ্বর্যা।
ঐশ্বর্যা বলেছিলেন, ‘‘লোকে রং চড়িয়ে কত কথাই না বলতে পারেন! অনিলের সঙ্গে আমার হাতে গুনে কয়েক বার দেখা হয়েছে। আমরা সম্পর্কে জড়ালাম কবে? আমি সত্যিই এ সব শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’’
ঐশ্বর্যার সঙ্গে নাকি অনিলের বিবাহপূর্ব চুক্তিও হয়ে গিয়েছিল— কানাঘুষোয় এমন কথাও কানে এসেছিল নায়িকার। সাক্ষাৎকারে তা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেছিলেন, ‘‘অনিলের সঙ্গে এক জন্মদিনের পার্টিতে দেখা হয়েছিল আমার। ওঁর স্ত্রীও ছিলেন। আমরা সকলে একই টেবিলে বসেছিলাম। সেখান থেকে এই ধরনের কথাবার্তা কী ভাবে ছড়ানো যায়? আমি খুব আঘাত পেয়েছি।’’
আরও পড়ুন:
বলিপাড়ার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, বলি অভিনেত্রী প্রীতি জ়িন্টার সঙ্গেও গাঢ় সম্পর্ক ছিল অনিলের। কিন্তু তার অস্তিত্ব ছিল রটনার স্তরেই।
১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলি অভিনেত্রী টিনা মুনিমকে বিয়ে করেন অনিল। আশির দশকে বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন টিনা।
এক বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠান উপলক্ষে গুজরাতে গিয়েছিলেন টিনা। সেখানেই অনিলের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর। প্রথম আলাপেই বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল দু’জনের।
সেই সময় সাহসী অভিনেত্রী হিসাবে জনপ্রিয় হয়েছিলেন টিনা। সে কারণে পরিবারের আপত্তি তীব্রতর হয়ে উঠেছিল। টিনাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন অনিল। কিন্তু পরিবারের অমতে বিয়ে করতে চাননি তিনি।
ভালবাসার সম্পর্ক কোনও পরিণতি পাবে না ভেবে সেই সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টিনা এবং অনিল। সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার পর বিদেশে চলে গিয়েছিলেন টিনা।
গুঞ্জন শোনা যায়, অনিলের বিয়ের জন্য অম্বানী পরিবারের তরফে বিবাহযোগ্যা পাত্রীর দেখাশোনা জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাউকেই মনে ধরছিল না অনিলের। তিনি যে টিনাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবেন না, তা স্থির করে ফেলেছিলেন।
অনিলকে দিনের পর দিন মনমরা হয়ে থাকতে দেখে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছিল অম্বানী পরিবার। টিনার সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন সকলে। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছিল টিনা এবং অনিলের। বিয়ের পর অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যান টিনা।