প্রেম ভাঙলেও বন্ধুত্ব ভাঙেনি! বিচ্ছেদের পরেও প্রাক্তনের পাশে আছেন একঝাঁক বলি-তারকা
বলিউডে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে প্রেম টেকেনি, কিন্তু সম্মান আর বন্ধুত্ব টিকে গিয়েছে। আলো, ক্যামেরা আর গসিপের ভিড়েও কেউ কেউ প্রমাণ করেছেন— বিচ্ছেদ মানেই শত্রুতা নয়। রইল তাঁদের বন্ধুতার কাহিনি।
প্রেম ভাঙলে কি সব শেষ? বিচ্ছেদ মানেই কি শত্রুতা? প্রাক্তনেরা কি কখনও বন্ধু হতে পারে না? এমন কোনও আঁটোসাঁটো অনুশাসন নেই, যা মেনে চলতেই হবে। এমন কোনও নিয়মও নেই যেখানে চাইলেও বন্ধুতা করা যায় না। পরিপার্শ্বেই ছড়িয়ে রয়েছে এমন অনেক উদারণ, যেখানে এক কালে প্রেমের সম্পর্কে থাকা দু’টি মানুষ সারা জীবন বন্ধু হয়েই থেকে গেলেন। সম্পর্কের রং বদলেও থেকে গিয়েছে মানুষটি।
বলিউডে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে প্রেম টেকেনি, কিন্তু সম্মান আর বন্ধুত্ব টিকে গিয়েছে। আলো, ক্যামেরা আর গসিপের ভিড়েও কেউ কেউ প্রমাণ করেছেন— বিচ্ছেদ মানেই শত্রুতা নয়। রইল এমনই কয়েকটি পরিচিত সম্পর্কের গল্প, যেখানে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি কাগজকলমে থাকলেও বাস্তবে রয়ে গিয়েছে সৌজন্য, সহমর্মিতা আর বন্ধুত্ব।
এই বিষয়ে নজির গড়েছেন হৃতিক রোশন এবং সুজ়ান খান। কম বয়স থেকেই প্রেম ছিল তাঁদের। বলিউডে ‘পাওয়ার কাপ্ল’ হিসেবে সুখ্যাতি ছিল তাঁদের। কিন্তু এক সঙ্গে পথচলা দীর্ঘ হয়নি। ১৪ বছরের বিবাহিত জীবনে ইতি টানতে হয়েছে। তবুও সন্তানদের জন্য, পারিবারিক মুহূর্তে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখে কী ভাবে সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করা যায়, তার উদাহরণ এই জুটি। এখন তো একে অপরের বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গেও সময় কাটাতে স্বচ্ছন্দ তাঁরা।
রণবীর কপূরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিক অবসাদে ডুবে গিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। নতুন শহরে পা রাখার পর যে মানুষটির উপরই কেবল ভরসা করেছিলেন, সেই মানুষটি হাত ছেড়ে চলে যান হঠাৎ। বিচ্ছেদের তিক্ততা ছুঁয়েছিল বলিউডের এই যুগলকেও। সম্পর্ক ভাঙার পর দীর্ঘ সময় দূরত্ব ছিল তাঁদের মধ্যে। কিন্তু পরে দু’জনেই খোলাখুলি স্বীকার করেছেন, জীবনের সেই অধ্যায় তাঁদের পরিণত করেছে। পরবর্তী কালে আবার একসঙ্গে ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। অস্বস্তির বদলে দেখা গেছে স্বাভাবিক বন্ধুত্ব। একে অপরের বর্তমান জীবনকে সম্মান করতে শিখেছেন।
হঠাৎ বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা করেছিলেন আমির খান এবং কিরণ রাও। প্রতিশ্রুতি বিনিময় করেছিলেন, স্বামী-স্ত্রী নন, বন্ধু থাকবেন তাঁরা। অনেকে সে প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেও শেষমেশ পরিস্থিতির কারণে রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু বিচ্ছেদের পর থেকে বার বারই তাঁরা ক্যামেরার সামনে এসেছেন বন্ধু হিসাবে। নিজেদের সন্তান আজ়াদকেও সুস্থ পরিবেশে বড় করার চেষ্টা করে চলেছেন তাঁরা। আমির-কিরণ এমনকি সহকর্মীও বটে। এখনও নিজেদের একই বৃহৎ পরিবারের অংশ হিসেবে পরিচয় দেন আমির ও কিরণ।
আরও পড়ুন:
দু’বছরের মধ্যেই পথ আলাদা হয়ে যায় অনুরাগ কশ্যপ এবং কল্কি কেঁকলার। তারও কয়েক বছর পরে আইনি ভাবে বিচ্ছেদ হয় এই দম্পতির। বিচ্ছেদের ঘোষণাপত্রে বন্ধু থাকার উল্লেখও ছিল না তাঁদের। কিন্তু তার পরও জীবনের নানা ওঠাপড়ায় একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। এমনকি একাধিক সাক্ষাৎকারে অনুরাগ জানিয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত ভাল বন্ধু। এমনকি তাঁরা একে অপরের পেশাদারিত্ব, প্রতিভা নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিচ্ছেদের পরেও।
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই বিচ্ছেদ করেছিলেন ফারহান আখতার এবং অধুনা ভবানী। দুই সন্তানের লালনেও কাঁধে কাঁধ রেখে চলেন তাঁরা। পরবর্তী কালে দু’জনের জীবনেই দ্বিতীয় বার প্রেম এসেছে। অধুনা তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে ছবি দিয়ে প্রেমের কথা লিখেছিলেন একটি পোস্টে। সেখানে ফারহানের মন্তব্যই তাঁদের বন্ধুত্বের কাহিনিতে সিলমোহর দেয়। ফারহানের দ্বিতীয় বিয়েতে নিজে উপস্থিত না থেকেও দুই মেয়েকে সাজিয়েগুজিয়ে পাঠিয়েছিলেন অধুনা। তাঁরা যে একে অপরকে অগাধ সম্মান করেন, সে কথা বার বার সাক্ষাৎকারে বলতেও শোনা গিয়েছে।
তবে সকলের ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পরিণতি এক রকমের হয় না। কোথাও গত সম্পর্কের তিক্ততা এতই বেশি থাকে যে, প্রাক্তনের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। গার্হস্থ্য হিংসা, মানসিক হেনস্থা অথবা এমন প্রতারণা, যা ভুলে যাওয়া কঠিন— এমন কিছু ঘটনা যদি দু’টি মানুষের বিচ্ছেদের কারণ হয়ে থাকে, তা হলে সেই দু’টি মানুষের সম্ভবত দূরে থাকাই ভাল।