অতিরিক্ত মদ্যপানে সংসারে নিত্য অশান্তি, দুই কন্যার টিউশনের খরচ জোগাতেও নাকি হিমশিম খেতেন কপূর-পুত্র!
কপূর পরিবারের পুত্রবধূ হওয়ার পর কেরিয়ার বিসর্জন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। প্রেম করে বিয়ে করলেও ১৭ বছরের বেশি এক ছাদের তলায় থাকতে পারেননি তারকা-স্বামীর সঙ্গে। সংসারের অশান্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আইনি বিচ্ছেদ না দিয়ে ছাদ আলাদা করে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী।
প্রেম করে বিয়ে। ১৭ বছর ধরে এক ছাদের তলায় ছিলেন। কিন্তু সেই সংসারে ভাঙন ধরে। আইনি বিচ্ছেদ না হলেও ৩৫ বছর ধরে আলাদা থাকতেন কপূর পরিবারের পুত্রবধূ এবং তাঁর তারকা স্বামী। স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণ হিসাবে অবশ্য অতিরিক্ত মদ্যপানকে দায়ী করেন কপূর পরিবারের পুত্র রণধীর কপূর।
রণধীরের স্ত্রী ববিতা কপূর ছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে কপূরদের পৈতৃক বাসভবন ‘কপূর ম্যানসন’-এ রণধীরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। প্রেমের সম্পর্ক হলেও রণধীরের বাবা রাজ কপূরের জোরাজুরিতেই ববিতাকে বিয়ে করেছিলেন রণধীর।
রাজ পরিচালিত ‘সঙ্গম’ ছবির সেটে ববিতার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল রণধীরের। প্রথম দেখায় ববিতার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন রণধীর। কম সময়ের মধ্যে দু’জনের বন্ধুত্ব গভীর হয়। কপূর পরিবারের ছেলের প্রেমে পড়ে যান ববিতাও। লুকিয়ে দু’বছর প্রেমও করেছিলেন তাঁরা।
ববিতা পেশায় ছিলেন অভিনেত্রী। কপূর পরিবারের পুত্রবধূ হলে যে অভিনয়জগতের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখা যাবে না সেই সম্পর্কে অবগত ছিলেন তিনি। কিন্তু রণধীরের প্রেমে তিনি এমন হাবুডুবু খাচ্ছিলেন যে, কেরিয়ার পর্যন্ত জলাঞ্জলি দিতে রাজি ছিলেন ববিতা।
দু’বছর সম্পর্কে থাকার পর ববিতা নিজেই রণধীরকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁকে বিয়ে না করলে যেন সম্পর্ক ভেঙে দেন অভিনেতা। ববিতাকে প্রেমিকা হিসাবে পরিচয় করালে যদি পরিবারের সকলে বিয়েতে নাকচ করে দেন, সেই ভয়ে ববিতার সঙ্গে আলাপ করানোর জন্য অন্য বুদ্ধি বার করেছিলেন রণধীর।
আরও পড়ুন:
১৯৭১ সালে ‘কাল আজ অউর কাল’ নামের একটি হিন্দি ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেন রণধীর। সেই ছবিতে রণধীরের বাবা রাজ এবং রণধীরের তৎকালীন প্রেমিকা ববিতা অভিনয় করেছিলেন। সেই সূত্রে ববিতার সঙ্গে চেনাশোনা হয়ে গিয়েছিল কপূর পরিবারের সদস্যদের। মুখে কিছু না বললেও ছেলে যে ববিতাকে মন দিয়ে ফেলেছেন, তা বুঝতে পেরেছিলেন রাজ।
রণধীর কখনওই ববিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেননি। সম্পর্কে রয়েছেন অথচ বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন না দেখে রণধীরের প্রতি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলেন রাজ। ধৈর্য হারিয়ে এক দিন নিজে থেকেই রণধীরকে বলে বসেছিলেন, ‘‘তোর কি বিয়ে করার কোনও ইচ্ছা রয়েছে, না কি ববিতা যখন বুড়ি হয়ে যাবে তখন বিয়ে করবি?’’
ছেলের বিয়ের জন্য নিজেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাজ। ববিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বিয়ের কথাবার্তা পাকা করে এসেছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে ধুমধাম করে বিয়ে হয় রণধীর এবং ববিতার। সেই বিয়ের অনুষ্ঠানের জাঁকজমক ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিয়ের পর অভিনয়জগৎ থেকে পুরোপুরি সরে গিয়েছিলেন ববিতা। করিশ্মা কপূর এবং করিনা কপূর খান— রণধীর এবং ববিতার দুই কন্যাসন্তান। শোনা যায়, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে রণধীরের অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সংসারে অশান্তি শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
১৯৮৮ সালে দুই কন্যাকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন ববিতা। ১৭ বছর এক ছাদের তলায় সংসার করলেও পরে ছাদ আলাদা হয়ে যায় রণধীর এবং ববিতার।
রণধীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। তবুও যেন পরস্পরকে চিনতে পারতাম না। আমি প্রচুর মদ খেতাম। দেরি করে বাড়ি ফিরতাম। ববিতা আমায় যে ভাবে চাইত, সে ভাবে কাছে পেত না। আমায় খারাপ মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল। আমিও ওর মনের মতো করে থাকতে চাইতাম না।’’
মদের জন্য প্রচুর খরচ করতেন রণধীর। করিশ্মা এবং করিনার টিউশনের খরচ জোগানোর জন্যও মাঝেমধ্যে চিন্তা করতে হত তাঁকে। সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেছিলেন, ‘‘এখনকার তারকাদের উপার্জনের জন্য নানা উপায় রয়েছে। বছরে একটি ছবিতে অভিনয় করলেও সংসারের খরচের জন্য চিন্তা করতে হয় না। অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে উপার্জন হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের সময় এত কিছু ছিল না।’’
রণধীরের কথায়, ‘‘আমি দামি মদ খেতাম। তার উপর সংসারের খরচ থাকত। ববিতার হাতখরচ, দুই মেয়ের টিউশনের খরচ— সব কিছু একা হাতে আমায় সামলাতে হত। এত রোজগার করব কী ভাবে তা ভেবেই দুশ্চিন্তা হত মাঝেমধ্যে।’’ ৩৫ বছর আলাদা থাকার পর আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন রণধীর এবং ববিতা।
২০২৩ সালে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব অতিক্রম করে আবার কাছাকাছি আসেন রণধীর এবং ববিতা। ২০২৫ সাল থেকে একসঙ্গে থাকাও শুরু করেন তাঁরা। ১৯৮৮ সাল থেকে ছাদ আলাদা করে নিলেও পারিবারিক যে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন ববিতা। ছবি তুলতেন ‘সুখী দম্পতি’র মতোই। শেষ বয়সে পৌঁছে আদতেই দাম্পত্যজীবন উপভোগ করবেন তাঁরা, এমনটাই আশা অনুরাগীদের।