×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

বিকিনি বিতর্ক থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা, খুশবুর নামে রয়েছে শরবত-শাড়ি-কফিও!

নিজস্ব প্রতিবেদন
১২ অক্টোবর ২০২০ ১৬:৫৮
অভিনয়ে হাতেখড়ি শৈশবেই। কিন্তু তার পর হারিয়ে যাননি। পরবর্তীতেও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন খুশবু সুন্দর। অভিনেত্রী ছাড়াও তিনি প্রযোজক এবং সঞ্চালিকা। অভিনয় করেছেন দুশোর বেশি ছবিতে। অতীতে বহু বিতর্কের সাক্ষী খুশবু এখন ভারতীয় রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত নাম।

মুম্বইয়ের এক মুসলিম পরিবারে খুশবুর জন্ম ১৯৭০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। তাঁর জন্মগত নাম নাখত খান। ১৯৮০ সালের হিন্দি ছবি ‘দ্য বার্নিং ট্রেন’-এ ‘তেরি হ্যায় জমিন তেরা আসমান’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে খুশবুর আত্মপ্রকাশ। আশির দশকের শুরুতে তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন ‘নসিব’, ‘লাওয়ারিশ’, ‘কালিয়া’, ‘দর্দ কা রিশতা’, ‘বেমিসাল’-এর মতো ছবিতে।
Advertisement
১৯৮২ সালে ‘দর্দ কা রিশতা’ ছবিতে তাঁর উপর চিত্রায়িত ‘ম্যায়ঁ পরিয়োঁ কি শেহজাদি’ গান এখনও জনপ্রিয়। তার তিন বছর পরে মুক্তি পেয়েছিল ‘মেরি জঙ্গ’। এই ছবিতে ‘বোল বেবি বোল, রক অ্যান্ড রোল’ গানে জাভেদ জাফরির সঙ্গে খুশবুর নাচ দর্শকমনে দাগ কেটে গিয়েছিল।

নায়িকা হিসেবে খুশবুর আত্মপ্রকাশ ১৯৮৫ সালে। জ্যাকি শ্রফের বিপরীতে ‘জানু’ ছবিতে। এর পর ‘তন-বদন’, ‘দিওয়ানা মুঝ সা নহিঁ’, ‘নসিব’, বেমিসাল’-সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
Advertisement
বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে খুশবু অনেক বেশি পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত। তামিল, তেলুগু, মালয়লম ও কন্নড় ছবিতে তিনি ছিলেন প্রথম সারির অভিনেত্রী।

২০০০ সালে তিনি বিয়ে করেছেন অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজক সুন্দর সি-কে। তাঁদের দুই মেয়ে, অবন্তিকা ও আনন্দিতা। গত ৩৪ বছর ধরে তিনি চেন্নাইবাসী।

খুশবু জন্য ভক্তরা মন্দিরও তৈরি করেছেন। শুধু দেশেই নয়। খুশবুর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি ছড়িয়েছে বিদেশেও। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের রিচমন্ড ফুটবল ক্লাবের সাম্মানিক সদস্য খুশবু। ২০১৭ সালে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

তিনি প্রথম ভারতীয় সেলেব্রিটি এবং একমাত্র ভারতীয় নারী, যাঁকে এই বিরল সম্মান দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগ। তামিলনাড়ুতে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। খাবারের নাম থেকে শাড়ি, সর্বত্র তাঁর উপস্থিতি। ‘খুশবু ইডলি’, ‘খুশবু শাড়ি’, ‘খুশবু কফি’, ‘খুশবু শরবত’-এর চাহিদা তাঁর ভক্তদের কাছে বিশাল।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও সঙ্গী হয়েছে খুশবুর। তিনি বরাবর জল্লিকট্টুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে পশুপ্রেমীদের রোষের মুখে পড়েছেন তিনি।

ঐতিহ্যের সমর্থক খুশবু আবার অন্য রূপে ধরা দিয়েছিলেন বিবাহপূর্ব যৌনতা প্রসঙ্গে। তাঁর মতে, বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে গেলে মেয়েদের অবাঞ্ছিত গর্ভসঞ্চার এবং যৌনরোগ নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়।

তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। যদিও ২০১০ সালে সুপ্রিম কোর্ট সে সব মামলা খারিজ করে দেয়।

অশালীন ছবি বিতর্কেও জড়িয়েছেন খুশবু। ২০০৬ সালে ‘ম্যাক্সিম’ পত্রিকার ভারতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদে তাঁর বিকৃত ছবি প্রকাশিত হয় বলে অভিযোগ করেন খুশবু। নায়িকার অভিযোগ, বিকিনি পরা ছবির উপর তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল। এই চাপানউতোর পৌঁছেছিল আদালত অবধি।

২০১০ সালে ডিএমকে-তে যোগ দিয়ে খুশবুর রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা। ২০১৪-র নভেম্বরে তিনি কংগ্রেস যোগ দেন। এর কিছু দিন পরেই এআইসিসির মুখপাত্র পদ পান তিনি।

সম্প্রতি কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীকে চিঠি লিখে খুশবু দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘দলের উঁচু পদে এমন লোকেরা বসে রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি বা মানুষের কোনও যোগাযোগ নেই। আর যাঁরা দলের জন্য সত্যিই কাজ করছেন, তাঁদের দাবিয়ে রাখা হচ্ছে’।

এর পর দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়াশিবিরে শামিল হলেন এআইসিসি-র অন্যতম মুখপাত্র খুশবু।

অভিনয় ও রাজনীতির পাশাপাশি তামিল নাগরিক আন্দোলনেও বিভিন্ন সময়ে জড়িত ছিলেন খুশবু। হিন্দি ছাড়া অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার ছবির প্রসারের দায়িত্বেও বার বার সরব হয়েছেন তিনি।

তাঁর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের যোগদানে বিজেপি শিবিরের হাত আরও শক্ত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।