চরম আর্থিক সংকটের মুখে টেলি পাড়ার শিল্পী এবং কলাকুশলীদের একটা বড় অংশ। দীর্ঘদিন কাজ করিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুষ্টিমেয় প্রযোজকের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কর্ণধার রাণা সরকার। শনিবার আর্টিস্ট ফোরামের ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য সদস্য।

বিভিন্ন চ্যানেলে এই মুহূর্তে দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার চারটি ধারাবাহিক চলছে। ‘জয় বাবা লোকনাথ’, ‘আমি সিরাজের বেগম’, ‘খনার বচন’ এবং ‘মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’। এই সংস্থারই ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। অন্য চারটি প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলি গত ১৬ মার্চ থেকে হাতবদল করে অন্য প্রযোজকদের দিয়ে দিলেও অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের বড় অংশের পারিশ্রমিক এখনও বাকি বলে দাবি করছে আর্টিস্ট ফোরাম। তাদের অভিযোগ, রাণা সরকারের সংস্থা অতীতেও পারিশ্রমিক দিতে নিয়মিত ভাবে দেরি করেছে। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল, অন্যান্য প্রযোজক, ফেডারেশন, জে সি সি-সহ সকলেই ওয়াকিবহাল। তারা বারবার এ বিষয়ে চ্যানেলকে জানালেও সমস্যার কোনও সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে আর্টিস্ট ফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রসেনজিত্ বলেন, ‘‘টাকা পাওয়ার রাস্তা প্ল্যান করে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সে কারণেই আজ এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি। কেস হিস্ট্রি বলছে এরকম ঘটনা এর আগে ইন্ডাস্ট্রিতে হয়নি। আর্টিস্ট ফোরামে অনেকদিন ধরে আছি। গেমপ্ল্যান করে টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা আর্টিস্টদের বাকি। আমাদের পথগুলো সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’’

আর্টিস্ট ফোরামের দাবি, হাতবদলের সময় সংশ্লিষ্ট সব চ্যানেল প্রতিশ্রুতি দেয়, সদস্যদের বকেয়া টাকা তাদের কাছে সুরক্ষিত রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কোনও চ্যানেল বা দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার তরফে বকেয়া টাকা মেটানোর কোনও প্রয়াস দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন, জয় শ্রী রাম বা বন্দে মাতরম বলে মানুষকে বোকা বানানোর দরকার নেই: দেব

প্রসেনজিতের কথায়, ‘‘আজ যদি কোনও প্রযোজক চলে যান, ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েও চলে যেতে পারেন, নানা রকম কারণে। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, এন্ড অফ দ্য ডে কার কাছে গিয়ে পারিশ্রমিক চাইব, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। চ্যানেল লিখিত ভাবে জানিয়েছে, তাদের কাছে টাকা আছে। কিন্তু আড়াই মাস ধরে টাকাটা বেরচ্ছে না। সেখানে অনেক টেকনিক্যাল কারণ তারা দেখাচ্ছে। প্রযোজকের এনওসি লাগবে বলছে। এ বার সেই ভদ্রলোক যদি ছ’মাস ফিজিক্যালি না আসেন, তা হলে আমরা কী করব? এই ছ’মাসে ওই মানুষগুলো তো প্রায় আত্মঘাতী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেস্টলি। যে সব শিল্পীর সেই পপুলারিটি নেই, তাদের জন্য আমাদের কনসার্ন। তারাও কিন্তু কোনও প্রজেক্টে ইক্যুয়ালি কন্ট্রিবিউট করে। আমাদের বার বার বলে দেওয়া হচ্ছে আপনারা কোর্টে যান। সেটা আমরা যেতেই পারি। কিন্তু সেটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আমার মনে হয় না শিল্পীদের সেটা বোঝাতে পারব।’’


সাংবাদিক বৈঠকে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। ছবি: অ্যাডভার্বের সৌজন্যে।

এ বিষয়ে আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সদস্য অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া এবং আরও কিছু মানুষ অসত্ উদ্দেশ্য নিয়ে পারিশ্রমিক মেটানোর প্রক্রিয়ার বাধা দিচ্ছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থে। আর্টিস্ট ফোরাম এই অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ করছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’ সমস্ত অভিযোগের জবাব খুঁজতে প্রযোজক রাণা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ।   

আরও পড়ুন, ‘বাবাকে মুখ বন্ধ রাখতে বল, না হলে…’, অনুরাগের মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি!

২০১৮-তেও টেলি পাড়ার অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়। আর্টিস্ট ফোরাম সে সময়ও সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হয়েছিল। চলতি আর্থিক সংকটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে বড় আন্দোলনের পথে যেতে পারে আর্টিস্ট ফোরাম।

(টলিউডের প্রেম, টলিউডের বক্স অফিস, বাংলা সিরিয়ালের মা-বউমার তরজা -বিনোদনের সব খবর আমাদের বিনোদন বিভাগে।)