×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১২ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

‘আমার সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে’

১১ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
রিয়া সেন।

রিয়া সেন।

প্র: অনেক দিন পরে কলকাতায় এলেন?

উ: খুব বেশি দিন নয়। মাঝে মধ্যে আসতেই থাকি। এ বারে কাজের জন্য এলাম।

প্র: বাংলায় এত কম কাজ কেন?

Advertisement

উ: যেমন প্রস্তাব পাই, তার মধ্য থেকেই বেছে নিয়ে করি। কে জানে কেন, আমার কাছে খুব বেশি প্রস্তাব আসে না (হাসি)!

প্র: সকলে হয়তো ভাবে, আপনাকে পাওয়া যাবে না।

উ: সেটা হতে পারে। আমি প্রচুর ঘুরে বেড়াই। কাজের জন্য ঘুরছি, বেড়াতেও যাই। একটা ছুটি কাটাতে কাটাতে পরের ছুটির প্ল্যান করে ফেলি (হাসি)!

প্র: বাংলায় এত দিন পরে সিনেমা না করে ওয়েব সিরিজ় করলেন...

উ: এটা ওয়েব সিরিজ়ের যুগ। ‘মিসম্যাচ টু-’এর কনসেপ্ট বেশ ভাল লেগেছে। এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ করতেও আমি বেশ কমফর্টেবল। হিন্দিতেও আমি শর্ট ফিল্ম, সিরিজ় করছি। ‘পয়জ়ন’, ‘পতি পত্নী অওর উয়ো’ করলাম। আরও কিছু সিরিজ়ের কথা চলছে।

প্র: রাইমা বলেন, আপনি খুব প্রাইভেট পার্সন।

উ: হ্যাঁ ঠিকই। পেশাগত, ব্যক্তিগত দুটো জায়গাতেই। এর জন্য অনেক সমস্যা হয়। বিশেষত কাজের জায়গায়। নিজেকে বদলানোরও চেষ্টা করছি, কিন্তু সেটা তো এত সহজে হয় না (হাসি)। আমার সম্পর্কে লোকের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আসলে আমি ঠিক কেমন, লোকে তা জানে না। চেষ্টা করি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কমিউনিকেট করতে। আমি যেমন, ঠিক সেটাই লোকের সামনে তুলে ধরতে চাই। কিন্তু সব সময়ে সেটা সম্ভব হয় না। এত গসিপ, এত গুজব চলতে থাকে যে, আপনি চাইলেও অনেক কিছু পারবেন না। কারও সঙ্গে কথা বললে সে হয়তো আমার কাছে গসিপের প্রসঙ্গ তুলবে। সারাক্ষণ গসিপ ক্ল্যারিফাই করতে ভাল লাগে না।

প্র: নিজের সম্পর্কে কোন গসিপ শুনে সবচেয়ে অবাক হয়েছেন?

উ: ভীষণ হাস্যকর সব জিনিস। (একটু থেমে) হাস্যকর বলা ভুল... বিরক্তই লাগে। কারও সঙ্গে একটা লিঙ্কআপ রটিয়ে দিলেই হল। কত বার যে এমন হয়েছে, গুনে বলতে পারব না। আমি লেসবিয়ান এটাও শুনেছি! কী লেখা হল, কে কী বলছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। ফিল্ম পরিবার থেকে এসেছি। বাবা-মা’কেও দেখেছি এ সবে পাত্তা না দিতে। তবে এখন চাই লোকে জানুক আমি আসলে কেমন।

প্র: প্রাইভেট পার্সন বলেই কি বিয়ের খবর কাউকে জানাননি?

উ: বলতে পারেন। খুব ঘনিষ্ঠদের কাছেই নিজেকে ওপেন করতে

পারি আমি।

প্র: বিয়ের পরে জীবন কতটা বদলেছে?

উ: সে রকম কিছু নয়। শিবম (তিওয়ারি) আমাকে সব রকম ভাবে সাপোর্ট করে। যথেষ্ট স্বাধীনতা দেয়। ও আমার মতোই বেড়াতে যেতে পছন্দ করে। শিবম মানুষটা খুব ভাল। আমাকে বলে, সব রকমের চরিত্রে অভিনয় করতে। অভিনেতা হিসেবে যাতে নিজেকে আরও এক্সপ্লোর করতে পারি।

প্র: শুনেছি আপনি মাঝেমধ্যেই নতুন কোর্স করেন?

উ: হ্যাঁ। আমি যোগব্যায়াম শিখেছি তিন জায়গা থেকে— বালি, হৃষীকেশ, ধর্মশালা। এখন অন্যদের প্রফেশনালি শেখাতেও পারি। ইচ্ছেও আছে। দেখি কবে করে উঠতে পারি। প্যারিস থেকে স্টাইলিংয়ের কোর্স করলাম। এ বার লন্ডন যাব ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করতে। শুটিং না থাকলে এ সব করতেই ভাল লাগে আমার। আর বেড়াতে যাওয়া তো আছেই (হাসি)। প্যারিস আমার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। টুরিস্ট স্পটগুলো ছাড়াও অলিগলিতে ঘুরে বেড়াই। ওখানকার বাড়িগুলোর স্থাপত্য আমাকে ভীষণ টানে। প্যারিস মানে আমার কাছে একটা ম্যাজিক!

প্র: স্বাধীনতার কথা বলছিলেন। আপনার মা মুনমুন সেন তো শুনেছি বেশ কড়া।

উ: আমার উপরে মা কখনওই খুব বেশি কড়াকড়ি করতে পারেনি। এখনও পারে না। আসলে আমি অনেক দিন ধরেই বাড়ির বাইরে থাকি। রাইমা বাবা-মায়ের কাছে অনেক বেশি থাকে। তাই মা ওর উপরে সব নিয়মকানুনগুলো চাপিয়ে দেয় (হাসি)!

প্র: আপনাদের দুই বোনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আছে?

উ: ওহ কাম অন! আমরা ঝগড়া করি আবার বন্ডিংও আছে।

দীপান্বিতা মুখোপাধ্যায় ঘোষ

Advertisement