• স্রবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায়
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ছবি করার সময় রাজ যে আমার হাজব্যান্ড ভুলে গিয়েছিলাম: শুভশ্রী

একজন শ্বশুরবাড়ির ভীষণ প্রিয়।ছবির ইউনিটকে শাশুড়ি বলে রেখেছেন, তাঁর বৌমাকে যেন রোদে পুড়িয়ে শুট না করান হয়। অন্যজন বাড়ির ছোট মেয়ের আদরের জামাই। আগে ছিল রাজ-শুভশ্রী। এখন ‘রাজশ্রী’।বিয়ের পর রাজ-শুভশ্রী জুটির নতুন কেমিস্ট্রি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব ইন্ডাস্ট্রি। এই নতুন কেমিস্ট্রির নাম ‘পরিণীতা’। আর সেই ‘পরিণীতা’-র মেহুল হয়ে শুভশ্রী কথা বললেন আনন্দবাজার ডিজিটালের সঙ্গে।

Subhashree Ganguly
শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়

‘পরিণীতা’তো অনেক ভাল পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে আপনাকে!

মানে?

রাজ চক্রবর্তী এখন কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালের চেয়ারম্যান। আপনার কেমন লাগছে?

স্ত্রী হিসেবে খুব ভাল লাগছে। ও তো একজন পরিচালক। ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ। ওর স্বভাবেই একটা লিডারশিপ কোয়ালিটি আছে। আমি খুব ভাল করে জানি এই দায়িত্বটা ওর বেস্ট দিয়ে ও পালন করবে।

‘পরিণীতা’-য় আপনার দায়িত্ব কীভাবে পালন করলেন? শুভশ্রী ‘স্কুল গার্ল’হয়ে উঠল কী করে?

প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রায় ছয়-সাত মাসের প্রস্তুতি ছিল। ওয়ার্কশপ করেছি। চিত্রনাট্যের প্রথম ড্রাফ্ট থেকেই রাজ আর আমার আলোচনা চলত। সোহিনী সেনগুপ্ত-র কাছে ওয়ার্কশপ করেছি নিয়মিত।

আপনার বিপরীতে ঋত্বিক চক্রবর্তী! প্রথম শুনে কেমন লেগেছিল?

রাজ আমায় প্রথম জানায় ঋত্বিকের কথা। সাঙ্ঘাতিক মুহূর্ত। আমি ঋত্বিকদার ভীষণ বড় ফ্যান। আনন্দ যেমন হয়েছিল, ভয়ও ছিল। ঋত্বিকদা অত বড় একজন অভিনেতা। পাশ থেকেও সবাই বলতে শুরু করল, শোন ঋত্বিকের সঙ্গে কাজ করবি, অভিনয়টা শিখে যাস। কিন্তু ফ্লোরে যখন গেলাম তখন এ সব কিছুই আর মাথায় রইল না। মাথায় থাকলে এত সহজে অভিনয় করতে পারতাম না। ঋত্বিকদা আমায় খুব সাহায্য করেছে। ওকে ফ্লোরে মনে হয়নি, ও ঋত্বিকদা, বরং আমার সব সময় মনে হত ও ‘বাবাইদা’,তাই কোনও অসুবিধে হয়নি।

 

‘পরিণীতা’-য় শুভশ্রী

 

কিন্তু ‘পরিণীতা’তো উত্তর কলকাতার পাড়ার প্রেমের গল্প। নতুন কী আছে এ ছবিতে?

এ ছবির টুইস্ট, গল্প বলার ধরন সবার চেয়ে আলাদা। পরতে পরতে টুইস্ট কীভাবে আসছে সেটা দর্শককে হলে গিয়ে দেখতে হবে। এখনও বাঙালি দর্শক প্রেমের ছবি দেখতে পছন্দ করে। এখানে যেমন দুষ্টু মিষ্টি প্রেম আছে আবার ভীষণ পরিণত প্রেমও আছে।

 

মেহুলের সঙ্গে মিল পান?

নাহ্, সেটা মনে হয়নি।তবে এই ছবি করতে গিয়ে একটা বিষয় বুঝলাম, আপনি যদি চরিত্রের মধ্যে সরাসরি ঢুকে যান তাহলে নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়েই যে অভিনয় করতে হবে তা কিন্তু একেবারেই নয়।আমি এমন ভাবে চরিত্রর মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলাম যে নিজেকে ‘মেহুল’ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। শুট চলাকালীন রাতে ফিরতাম। ভোরে কলটাইম থাকত। আলাদা করে আমার পরিচালক, প্রযোজক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে বাড়িতে কথা বলব, এটাও হয়ে ওঠেনি।

‘পরিণীতা’-র সেটে রাজের সঙ্গে

ইন্ডাস্ট্রি শুভশ্রীকে কি ঠিকমতো ব্যাবহার করেছে বলে মনে হয়?

আমি অভিনয়ভিত্তিক চরিত্র তো অবশ্যই করতে চেয়েছি। সুযোগ পেলাম এ বার। দর্শকের আশা করি ভাল লাগবে। দর্শক এই রক্তমাংসের মেহুলকে দেখে বুঝতে পারবে আমি এই ধরনের অভিনয়টাই করতে চাই।

 

পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে কেমন লেগেছে? ওঁর ক্ষেত্রেও তো এটা অন্যরকম কাজ?

না, এটা আমি মানি না যে রাজের ক্ষেত্রে এটা অন্যরকম ছবি। পরিচালক হিসেবে ও তো সব ধারার ছবিই করবে। তবে ওর প্যাশনটা আমি এখন কাছ থেকে দেখতে পাই। একসঙ্গে থাকতে গিয়ে দেখি, রাজ কাজের জন্য কতটা পাগল। ও ছবি খায়, ছবি ঘুমোয়। কাজ পাগল একেবারে।

 

সেটে মতের মিল বা অমিল কতটা হয়েছে?

আমি সত্যি বলছি ছবি করার সময় ও যে আমার হাজব্যান্ড ভুলে গেছিলাম। চোখ বন্ধ করে আমার পরিচালককে ফলো করে গেছি।ওর ক্ষেত্রেও মনে হয়নি যে ও ওর স্ত্রীকে পরিচালনা করছে। তবে ভাল শট হলে ও আমাকে বলেছে।

রাজের সঙ্গে একান্তে

স্বামী হিসেবে রাজ চক্রবর্তী কেমন?

এটা তো খুব ব্যক্তিগত প্রশ্ন। আর এই উত্তর এখন পড়ার জন্য কেউ আগ্রহী হবে না। বরং আমরা যখন প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলাম তখন অনেক বেশি আগ্রহ ছিল মানুষের।

 

এখন তো আপনারা ‘রাজশ্রী’। এর আকর্ষণ তো চিরকালের...

প্রার্থনা করবেন সেটাই যেন থাকে।

 

রাজনীতির মঞ্চে আপনি নেই তো?

কেন, রাজনীতি করা কি বাধ্যতামূলক? আপাতত রাজের পরিচালনায় পরের ছবিটা করি? সেপ্টেম্বর থেকে তো শুট শুরু!

 

 

 

           

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন