মহিলাকে ‘কুপ্রস্তাব’, স্টিং অপারেশনের জেরে সিংহাসন হারিয়ে বৃত্তের বাইরে চলে যান অভিনেতা আমন বর্মা
মসৃণ গতির সুর কাটল ২০০৫ সালে। আমন বর্মার নামে কাস্টিং কাউচ-এর অভিযোগ উঠল। ইন্ডিয়া টিভির স্টিং অপারেশনে দেখা গেল, মহিলাকে তিনি কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন।
ছিলেন ছোটপর্দার অধীশ্বর। সেখানে থেকে চলে গেলেন একেবারে বৃত্তের বাইরে। কারণ, একটি স্টিং অপারেশন। এরপর ফিরে এলেন। কিন্তু অধরাই থেকে গেল হৃত সাম্রাজ্য। আমন বর্মা চিহ্নিত হলেন কলঙ্কিত বলেই।
মাত্র ষোলো বছর বয়সে আমনের টেলিভিশনে হাতেখড়ি। ১৯৮৭ সালে তাঁকে দেখা গিয়েছিল টিভি সিরিয়াল ‘পচপন খাম্বে লাল দিওয়ার’-এ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছোট পর্দায় নিজের রাজ্যপাট বিস্তার করতে থাকেন। ‘শান্তি’-র রমেশ, ‘সিআইডি’-র অনুজ, ‘কিঁউকি সাস ভি কভি বহু থি’-র অনুপম কাপাডিয়া, ‘দো লাফজোঁ কি কহানি’-র রাজ, ‘কেহতা হ্যায় দিল’-এর আদিত্য প্রতাপ সিংহ, ‘কুমকুম’-এর অভয় চহ্বাণ... বিভিন্ন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেন আমন।
অভিনয়ের পাশাপাশি সঞ্চালনাতেও টেলিভিশনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৪ অবধি মিনি মাথুরের সঙ্গে আমন বর্মা সঞ্চালনা করতেন অত্যন্ত জনপ্রিয় বিয়েলিটি শো ‘খুল জা সিমসিম’।
বড় পর্দাতেও আমনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি মূলত ছিলেন সহঅভিনেতা। ‘সংঘর্ষ’, ‘আন্দাজ’, ‘বাগবান’, ‘কচ্চি সড়ক’, ‘বাবুল’-এর মতো ছবিতে পার্শ্বচরিত্রেই তিনি নজর কাড়েন।
আরও পড়ুন:
মসৃণ গতির সুর কাটল ২০০৫ সালে। আমন বর্মার নামে কাস্টিং কাউচ-এর অভিযোগ উঠল। ইন্ডিয়া টিভির স্টিং অপারেশনে দেখা গেল, মহিলাকে তিনি কুপ্রস্তাব দিচ্ছেন।
এই স্টিং অপারেশনের জেরে ইন্ডাস্ট্রিতে আলোড়ন পড়ে যায়। কার্যত একঘরে হয়ে পড়েন আমন বর্মা। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন ইন্ডিয়া টিভি-র সিইও রজত শর্মা, পোগ্রাম ম্যানেজার সুহেব ইলাইসি, সাংবাদিক রুচি শর্মার বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি।
এর পরেও আমন বর্মা সুযোগ পেতে থাকেন। কিন্তু সবই ছোটখাটো চরিত্রে। যেখানে তিনি ছিলেন প্রধান মুখ, সেখান থেকে তাঁকে দেখা যেতে লাগল নামমাত্র ভূমিকায়।
২০১৫ সালে আমন বর্মা ছিলেন বিগ বস-৯-এর প্রতিযোগী। ৪২ তম দিনে তিনি ছিটকে যান।
আরও পড়ুন:
এরপরই আমন বর্মা এনগেজড হন বান্ধবী বন্দনা লালওয়ানির সঙ্গে। বন্দনা ছিলেন আমনের অনস্ক্রিন বোন। ‘শপথ’ নামের একটি হিন্দি সিরিয়ালে ভাই-বোনের অভিনয় করেছিলেন আমন-বন্দনা।
আমনের কথায়, ‘‘প্রথম শটটাই এমন ছিল যেখানে বন্দনা আমার হাতে রাখি বেঁধে দিয়েছিল। আর তখন থেকেই আমি ওর প্রেমে পড়েছি।’’
২০১৫-র ১৪ ডিসেম্বর আমন-বন্দনার এনগেজমেন্ট হয়। দু’জনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল পরের বছর মার্চ মাসে। কিন্তু সেই বিয়ে পিছিয়ে যায়। কারণ, গাড়ি-দুর্ঘটনায় অকালমৃত্যু হয় আমনের বাবার।
কয়েক মাস পিছিয়ে আমন-বন্দনা বিয়ে করেন ২০১৫-র ১৪ ডিসেম্বর। আমনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কলঙ্কের আঁচ লাগেনি তাঁদের দাম্পত্য।