১৪ বছর সংসার করার পরে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হৃতিক রোশন ও সুজ়ান খান। শুধু বলিউডই নয়, তাঁদের অনুরাগীরাও হতভম্ব হন সেই সিদ্ধান্তে। তবে বিচ্ছেদের পরেও সুসম্পর্ক রয়েছে হৃতিক ও সুজ়ানের। তবে তাঁদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার পরে সবচেয়ে বেশি যে বিষয় নিয়ে জলঘোলা হয়, তা হল খোরপোশের পরিমাণ। অভিনেতার কাছ থেকে নাকি প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খোরপোশ চেয়েছিলেন সুজ়ান। শোনা যায়, একসময়ে নাকি মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল তাঁদের। সত্যিই কি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছিলেন সুজ়ান? সত্যিটা ফাঁস করলেন তাঁর বোন ফরাহ খান।
আরও পড়ুন:
বিয়ে ভাঙার পরে অনেকেই হৃতিকের প্রাক্তন স্ত্রীকে ‘লোভী’, ‘গোল্ড ডিগার’-এর তকমা দেন। কখনও পাল্টা উত্তর দেননি সুজ়ান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সুজ়ানের বোন জানান, তাঁর দিদি স্বচ্ছল পরিবারের মেয়ে। ফলে তাঁর অন্যের অর্থের প্রয়োজন হয় না। শুধু তা-ই নয়, মায়ের কাছ থেকে তাঁরা টাকাপয়সা নয়, বরং সম্পর্ক আগলে রাখার শিক্ষা পেয়েছেন। ফরাহ বলেন, ‘‘সুজ়ান একেবারেই লোভী নয়। ৪০০ কোটি টাকা তো দূর অস্ত্, একটা টাকাও নেয়নি। সেই কারণেই কিন্তু ওঁর প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ি ও প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে এত ভাল সম্পর্ক। আমরা তেমন পরিবারের মেয়ে নই। আমাদের অন্যের অর্থের প্রয়োজন নেই। তবে সুজ়ান একা নয়। হৃতিকও খুব ভাল মানুষ।’’ সুজ়ান অবশ্য লোকের ‘ভুল’ ভাঙানোর চেষ্টা করেননি কখনও।
সুজ়ানের ভাই ও অভিনেতা জ়ায়েদ খানও এই নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, হৃতিক ও সুজ়ান যখন নিজেদের ভাল থাকার জন্য বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তাঁরা কেউই আপত্তি করেননি। জ়ায়েদ বলেন, “সমাজের চাপে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এমন মনে করে না আমাদের পরিবার। আমরা যথেষ্ট সচেতন ও শিক্ষিত এই সব বিষয়ে। ওদের মধ্যে এখনও সম্পর্ক ভাল— এই বিষয়টা অধিকাংশ মানুষই স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে পারেন না। যাঁরা বোঝেন না, তাঁদের কেউ কেউ অল্পবয়সি ও অপরিণত। বাকিরা তো নিজেদের জীবন নিয়েও অসুখী।”
বর্তমানে হৃতিক ও সুজ়ান দু’জনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। অভিনেতা বর্তমানে সাবা আজ়াদের প্রেমে মজেছেন। সুজ়ান রয়েছেন অভিনেতা আর্সলান গোনীর সঙ্গে সম্পর্কে।