×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২১ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বাইশ গজের ট্যাটু

০২ মার্চ ২০১৫ ০০:০১

বিরাট কোহলি

Advertisement

হেয়ারস্টাইল: ১০/১০

হাইট: ৬/১০

সেক্স অ্যাপিল: মাঠে, মাঠের বাইরে আবেগের আতিশয্যে যেন অন্য গ্রহের প্রাণী। সঙ্গে মন ছুঁয়ে যাওয়া ছেলেমানুষি।

ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের ‘হটেস্ট প্রপার্টি’। ব্যাটিংয়ের তুলনা হয় সচিন-ভিভের সঙ্গে। অনুষ্কা শর্মাকে প্রেমিকা বলেছেন খুল্লমখুল্লা, হাত-টাত ধরে ডিনারেও যাচ্ছেন। হাতের তরোয়াল-সহ সামুরাই যোদ্ধার ট্যাটু যেন তাঁর যুদ্ধং দেহি জীবন ও ক্রিকেট-দর্শনের প্রতীক।

ছোটবেলা থেকে যেটা তাঁকে ভোগাচ্ছে, সেই আগ্রাসন এখন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন বিরাট। ব্যাড বয় থেকে হয়ে দাঁড়িয়েছেন টিমের প্রধান ভরসা। একটা সময় যেমন তেন্ডুলকর আউট হলে ভারতের আশা শেষ ধরা হত, এখন কোহলির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা তাই। সেই অসহ্য প্রত্যাশার চাপ নিয়েই কোহলি টেনে চলেছেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এখন বাকি বিশ্বকাপে বিরাটের ব্যাট চললে?

যব তক বল্লা চলেগা, ঠাঁট হ্যায়!

শিখর ধবন

হেয়ারস্টাইল: ৮/১০

হাইট: ৭/১০

সেক্স অ্যাপিল: খুনে হাবভাব নিয়ে হাঁটাচলা। আদ্যন্ত শো-ম্যান। দেখলেই মনে হয়, এই লোকটার সঙ্গে কাটানো প্রতিটা সেকেন্ড দারুণ এক্সাইটিং হবে!

মোহালিতে টেস্ট অভিষেকে দ্রুততম সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিস্ফোরক অভিষেক। বিরাটের মতোই দিল্লির ছেলে, বিরাটের মতোই ‘ডরনা মনা হ্যায়’ অ্যাটিটিউড নিয়ে বাইশ গজে নামেন টিম ইন্ডিয়ার ‘গব্বর’। ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত গোঁফজোড়া আপাতত তাঁরই। এই তো দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে উঠে শিখরকে গোঁফে তা দিতে দেখল তাঁর শ্বশুরবাড়ির মাঠ, ঠাসা এমসিজি। বিশ্বকাপে রানের তালিকায় আপাতত বিরাটকেও পিছনে ফেলে দিয়েছেন। ব্রিটিশ-বাঙালি আয়েষা মুখোপাধ্যায়ের স্বামী শিখর নিজের ‘ঈশ্বর’দের প্রতিকৃতি খোদাই করেছেন দু’হাত জুড়ে। যে তালিকায় আছেন অর্জুন, শিব এবং শিখ যোদ্ধা বাবা দীপ সিংহ। শিখরের মুখও ‘ঈশ্বর’ হিসেবে তরুণ ক্রিকেটারদের হাতে ট্যাটু হতে আর কত দিন!

মিচেল জনসন

হেয়ারস্টাইল: ৭/১০

হাইট: ৯/১০

সেক্স অ্যাপিল: ভদ্রতার মিহি আস্তরণ ছিঁড়ে মাঝে মাঝেই বেরিয়ে পড়া আদিম আগ্রাসন।

বলে আগুন, শরীর জুড়ে ট্যাটুতে গনগনে আঁচ। ডান হাত জুড়ে ট্যাটু। বাঁ দিকে বুক থেকে কোমরের দিকে লাফাচ্ছে বিরাট একটা বাঘ! জার্সিতে বেশির ভাগ ট্যাটু ঢাকা পড়ে যায় তাই রক্ষে। না হলে তেড়ে আসা মিচেলের গায়ে ও সব সাঙ্ঘাতিক ট্যাটু দেখলে ক্রিজে দাঁড়ানো ব্যাটসম্যানের বুক কাঁপত না, কে বলতে পারে?

চেনা বধ্যভূমিতে পোড়খাওয়া শিকাির এখনও অতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেননি, কিন্তু কাপের এখন অনেক বাকি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া কত বড় ‘গোলিয়াথ’ হয়ে উঠবে, তার অনেকটাই নির্ভর করবে গাব্বা বা এমসিজি পিচ থেকে কতটা আগুন বের করবেন মিচ। আবার সঙ্গে আছে তাঁর দে ঘুমাকে ব্যাটিং। টেস্টে সেঞ্চুরি। ওয়ান ডে-টি টোয়েন্টিতে এখন তিনি চান উপরের দিকে ব্যাট করতে।

ওপেন করতে!

ক্রিস গেইল

হেলমেটের নীচে ব্যান্ডানা, দুলকি চালে হাঁটাচলায় ঝরে পড়ে উদাসীন ঔদ্ধত্য। ক্রিস গেইলের শরীরেও ট্যাটুর কার্নিভাল।

দু’হাত জুড়ে ট্রাইবাল নকশা, আকাশের তারা, ঈগল পাখি কী নেই! যেন তাঁর নিষ্ঠুর আভিজাত্য, আপাদমস্তক বন্যতার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। এই গেইলের ব্যাট যে দিন চলবে, কারও কিছু করার থাকবে না।

যেমন করতে পারেনি জিম্বাবোয়ে। ১৪৭ বলে ২১৫ বিশ্বকাপের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক এখন দানবীয় মেজাজে। যখন যেমন খুশি স্ট্রোক খেলার দক্ষতা, মারমার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আছে অফস্পিন বোলিংও। রাজার খেয়াল কবে কোন দিকে নিয়ে যাবে গেইলকে, বলা মুশকিল। কিন্তু তাঁকে ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিম করা? স্রেফ অসম্ভব!

ব্রেন্ডন ম্যাকালাম

হেয়ারস্টাইল: ৭/১০

হাইট: ৬/১০

সেক্স অ্যাপিল: আপাত সারল্য, অবিরাম চুইং গাম চিবনোয় চুঁইয়ে পড়া ডোন্ট-কেয়ার অ্যাটিটিউড কমপ্লিট প্যাকেজ!

জার্সি নম্বরটা ৪২। হওয়া উচিত ছিল ০০৭। ব্রেন্ডন ম্যাকালামের ডান হাতে তাঁর জার্সি নম্বর থেকে ছেলেমেয়ের জন্মতারিখ স্মারক হিসেবে সবই খোদাই করা আছে। আছে ক্রিকেটের বন্ডের জীবনের ‘প্রথম সব কিছু।’

দেখতে যতটা নিরীহ ভদ্রলোকের মতো, ব্যাট হাতে ততটাই নির্মম। শন টেটের ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটারের সুপার-সনিক ডেলিভারি একবার স্রেফ ফেলে দিয়েছিলেন উইকেটকিপারের মাথার উপর দিয়ে! নিজেকে ‘ব্র্যাশ’ বলতে ভালবাসেন ম্যাকালাম। কেন, ব্যাট হাতে সেটা বুঝিয়েও দেন। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ৪৯ বলে ৬৫। গ্রুপের সব ম্যাচই আবার তাঁর দেশের মাঠে। আর অকল্যান্ড বা ক্রাইস্টচার্চের বাউন্ডারির দিকে এক-একটা শট সপাটে খেলবেন যখন, হাতের দিকে খেয়াল রাখা ভাল।

ঢেউয়ের মতো ভেসে উঠবে ট্যাটু, চোয়াল চিবোবে চুইংগাম। অনবরত।

বোলার বনাম ব্র্যান্ড ব্রেন্ডন!

ডেল স্টেইন

উপমহাদেশীয় কোনও ব্যাটসম্যানকে নিয়ে যদি কেউ সিনেমা করে, চোখ বুজে এক নম্বর ভিলেন তিনি! ট্যাটুসমেত হাত থেকে বলটা যে গতিতে আছড়ে পড়ে স্টাম্প টার্গেট করে, ভয় পাওয়ানোর মতো। আর বলগুলো ঘণ্টায় একশো পঁয়তাল্লিশ পড়ে নিখুঁত নিশানায়, বুদ্ধির বিষ মিশিয়ে। সঙ্গে মারণ সুইং।

দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কতটা সেটা তো বিপক্ষ ব্যাটসম্যান বোঝেই, বুঝিয়ে দেয় তাঁর বাঁ হাতের পেশির ট্যাটুও। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় পতাকার রঙের ফুল, যে ফুলের নাম প্রোটিয়া। তার সঙ্গে আছে আফ্রিকার মানচিত্র জুড়ে থাকা এক যোদ্ধা আর বিশেষ মাছের ট্যাটু।

বিশ্বকাপটা ফেভারিট হিসেবে শুরু করে প্রথমেই হোঁচট খেয়েছে তাঁর টিম। কিন্তু স্টেইন-গান কত দিন চুপ থাকবে? উইকেট থেকে ‘বারুদ’ পেলে ঝাঁঝরা তো করবেই!



Advertisement