×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

বিনোদন

বোমান ইরানি, কল্কিদের বলিউড এন্ট্রির এই গল্পগুলি জানতেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ জুন ২০১৮ ০৯:৫০
কারও বাবা চাইতেন, মেয়ে হোক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। কেউ আবার থিয়েটারের পাশাপাশি কাজ করতেন ওয়েটারের। এঁদের প্রত্যেকেই এখন নামকরা অভিনেতা। বলিউডে এঁদের শুরুটা কিন্তু একেবারেই ঢাকঢোল পিটিয়ে হয়নি। কেউ ছিলেন এক মিনিটের রোলে তো কেউ ৫ মিনিট। দেখে নেওয়া যাক তেমনই কয়েক জনকে।

বোমান ইরানি: ফটোগ্রাফার হিসেবেই কেরিয়ারের সূচনা করেছিলেন বোমান। পছন্দ করতেন থিয়েটারে অভিনয় করতে। পরে নানা অ্যাড কমার্শিয়ালের হাত ধরে রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ বোমানের। ২০০৩ সালে ‘ডরনা মানা হ্যায়’ ছবিতে খুব ছোট চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। সেখান থেকেই পড়ে জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠেন বোমান।
Advertisement
পত্রলেখা: বাবা চাইতেন মেয়ে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হোক। কিন্তু, মেয়ের মন পড়েছিল গ্ল্যামার দুনিয়ায়। রাজকুমার রাওয়ের বিপরীতে ‘সিটি লাইটস’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে পত্রলেখাকে কাস্ট করেন পরিচালক হংসল মেহতা। ছবিটিতে অনবদ্য অভিনয় দিয়েই শুরু হয় রূপোলি পর্দায় পত্রলেখার জার্নি।

কল্কি কোচলিন: থিয়েটার আর্টিস্ট হিসেবেই কাজ শুরু করেছিলেন কল্কি। পাশাপাশি চলছিল লেখালিখির কাজ। সপ্তাহান্তে রেস্তোঁরায় ওয়েটারের কাজও করেছেন কল্কি। ২০০৯ সালে অনুরাগ কাশ্যপের ‘দেব ডি’ ছবি দিয়েই বি-টাউনে এন্ট্রি নেন তিনি। তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে দর্শকদের। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রীর ঝুলিতে এখন একটি ফিল্ম ফেয়ার এবং দু’টি স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড রয়েছে।
Advertisement
মনোজ বাজপেয়ী: হিন্দি ছাড়াও তামিল ও তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছেন মনোজ। দু’বার জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও চারটি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বলিউডে তাঁর এন্ট্রি হয় অদ্ভুত ভাবেই। ১৯৯৪ সালে গোবিন্দ নিহালানির ‘দ্রোহকাল’ ছবিতে এক মিনিটের চরিত্রে নজর কাড়েন তিনি। ওই বছরই ‘ব্যান্ডিট কুইন’ ছবিতে তাঁকে কাস্ট করেন পরিচালক শেখর কপূর।

ঈশান খট্টর: ২০০৫ সালে ‘বাহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি’ ছবিতে শিশু অভিনেতা হিসেবে রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ। তার পর বলিউডে আর দেখা যায়নি ঈশানকে। ২০১৭ সালে মাজিদ মাজিদির ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউড’ ছবিতে ফের পর্দায় মুখ দেখান তিনি। এই ডেবিউ ছবিই ঈশানের কেরিয়ারের মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়ায়। লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভালে এই ছবিটির প্রিমিয়ার হয়।

ইমরান হাশমি: ফিল্মি ঘরানার হলেও সহ-পরিচালক হিসেবেই কেরিয়ার শুরু করেন ইমরান। ২০০২ সালে ‘রাজ’ ছবিতে অ্যাসিট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর কাজ ভাল লাগে বিক্রম ভট্টের। সেই বছরই ক্রাইম থ্রিলার ‘ফুটপাথ’ ছবিতে তাঁকে কাস্ট করেন বিক্রম। বক্স-অফিসে তুমুল সাফল্য পেয়েছিল ছবিটি।

রাজীব খান্ডেলওয়াল: ছোট পর্দাতেই কেরিয়ারের শুরু রাজীবের। টিভি সিরিজ এবং ধারাবাহিকের বেশ জনপ্রিয় মুখ রাজীব খান্ডেলওয়ালের বলিউডের এন্ট্রি ২০০৮ সালে ‘আমির’ ছবি দিয়ে। তারপর একে একে ‘শয়তান’, ‘টেবিল নম্বর ২১’, ‘ফিভার’ ও একাধিক ডকুমেন্টারি ছবিতে নজর কাড়েন রাজীব।

হুমা কুরেশি: ২০১২ সালে ডেবিউ ছবি ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’–এ নজর কাড়েন হুমা। রূপোলি পর্দার আগে থিয়েটারের বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। টেলি কমার্শিয়ালে অভিনয় করার সময় অনুরাগ কাশ্যপের নজরে পড়ে যান তিনি। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

চিত্রাঙ্গদা সিংহ: মডেলিং দিয়ে কেরিয়ারের শুরু। সেখান থেকেই রূপোলি পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন চিত্রাঙ্গদা। ২০০৩ সালে সুধীর মিশ্রর ‘হাজারো খোয়াইশে অ্যায়সি’ ছবিতে তাঁর অভিনয় পছন্দ করেন দর্শক। ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’এ এই ছবিটির রিভিউতে চিত্রাঙ্গদা অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

কুণাল খেমু: ১৯৯০ সালে শিশু অভিনেতা হিসেবেই রূপোলি পর্দায় মুখ দেখিয়েছিলেন কুণাল। তার পর দীর্ঘ দিনের বিরতি। ফের ২০০৫ সালে ডেবিউ ছবি ‘কলিযুগ’-এ নজর কাড়েন তিনি। ‘ট্র্যাফিক সিগনাল’, ‘ঢোল’, ‘গোলমাল’, ‘গো গোয়া গন’—কুণালের অভিনীত ছবির তালিকাটা নেহাত কম নয়।

কঙ্কনা সেনশর্মা: অন্য ঘরানার ছবিতেই তাঁকে দেখতে বেশি স্বচ্ছন্দ দর্শকেরা। দু’বার জাতীয় পুরসকার প্রাপ্ত অভিনেত্রী বলিউডে পা রাখেন ২০০৫ সালে ‘পেজ থ্রি’ ছবি দিয়ে। ছবিটি জাতীয় পুরস্কার পায়। সাংবাদিকের চরিত্রে নজর কাড়েন কঙ্কনা। তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে ২০০৭ সালে হলিউড ছবি ‘দ্য নেমসেক’-এ কঙ্কনাকে কাস্ট করেন মীরা নায়ার।

জিমি শেরগিল: খলিস্তান আন্দোলন নিয়ে গুলজারের ‘মাচিস’ ছবি দিয়ে বলিউডে ডেবিউ জিমির। ১৯৯৬ সালে ছবিটি বক্স অফিসে বেশ ভাল ব্যবসা করে। পরে আদিত্য চোপড়ার ‘মহব্বতে’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান-সহ হাই প্রোফাইল অভিনেতাদের পাশে নজর কাড়েন জিমি।

রিচা চাড্ডা: পার্শ্ব চরিত্রেই বেশি দেখা গিয়েছে রিচাকে। ২০০৮ সালে ‘ওয়ে লাকি! লাকি ওয়ে’ কমেডি ছবিতে ছোট্ট চরিত্রে তাঁর অভিনয় পছন্দ করেন দর্শকেরা। রিচার সবচেয়ে বড় ব্রেক অনুরাগ কশ্যপের ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’। রিচা জানিয়েছিলেন, ছবিটিতে ‘নাগমা খাতুন’ চরিত্রটি তাঁকে আরও ১১টি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়।