প্যান্ডোরার বাক্সটা সম্ভবত খুলে দিয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরই বলিউডে অভিনেত্রী, মহিলা প্রযোজক-পরিচালক থেকে কলাকুশলীরা ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে আনছেন। ‘#মি টু’ বিতর্কের তালিকার শেষ সংযোজন ‘সংস্কারি’ অভিনেতা অলোক নাথ। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন প্রযোজক-চিত্রনাট্যকার বিনতা নন্দ। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সোমবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করতেই অলোক নাথের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-ঘৃণা আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
১৯ বছর আগের ওই ঘটনায় বিনতা নন্দা অবশ্য কারও নাম না করেননি। তবে পোস্টের শেষের দিকে ধর্ষক হিসাবে বলিউডের ‘সংস্কারি’ অভিনেতা বলে উল্লেখ করেছেন। তাতেই অলোক নাথের নাম স্পষ্ট হয়। বর্ষীয়ান অভিনেতা সেই সুযোগ নিয়ে নিজের নাম ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছএন। তিনি বলেন, ‘‘আমি অস্বীকার বা স্বীকার কোনওটাই করছি না। ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে, তবে অন্য কেউ সেটা করতে পারে। তবে এই বিষয় নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ কথা বললেই আরও বিতর্ক বাড়বে।’’
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হতেই তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে সিনে টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিনটা)। সংস্থার অন্যতম সদস্য সুশান্ত সিংহ টুইট করে জানিয়েছেন, অলোক নাথকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিনতাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে লিখিত অভিযোগ জানানোর আর্জি জানিয়েছেন সুশান্ত।
বিনতা নন্দা ওই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সেই সময় তিনি ‘তারা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার ছিলেন। শুটিংয়ের ফ্লোরে নিয়মিত মদ্যপান করতেন অলোক নাথ। তিনি ছিলেন মাদকাসক্ত। ওই অবস্থাতেই শুটিংয়ের সময় এক দিন ওই ধারাবাহিকের মূল অভিনেত্রীর সঙ্গে অলোকনাথ অভব্য আচরণ করেন। তার জেরে অভিনেত্রী তাঁকে চড় মারেন। এর পরই অলোক নাথকে ওই ধারাবাহিক থেকে বাদ দিয়ে দেন বিনতা।
বিনতার দাবি, এর পরই শুরু হয় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। একদিন আচমকাই চ্যানেলের নতুন সিইও তাঁদের ডেকে পাঠান। তাঁকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেন কোনও কারণ ছাড়াই। তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ৫ বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থা শিক্ষকের, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকুরিয়ার স্কুল, ভাঙচুর
মূল ধর্ষণের ঘটনা জানিয়ে বিনতা লিখেছেন, এর পর একদিন অলোক নাথের বাড়িতে একটি পার্টিতে যান তিনি। অলোক নাথের স্ত্রীর সঙ্গে যে হেতু তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল এবং মাঝেমধ্যেই থিয়েটারের লোকজন একসঙ্গে পার্টি করতেন, তাই পার্টিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও অস্বস্তি হয়নি।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক সম্মেলনে নানা, মুখ খুললেন হৃতিকও
তাঁর অভিযোগ, ওই দিন পার্টিতে তাঁর মদের সঙ্গে অন্য কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাতে তিনি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়েন। কিন্তু আশ্চর্ষের বিষয়, অন্য দিনের মতো তাঁকে কেউ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেননি। তিনি হেঁটেই বাড়ির পথে রওনা দেন। কিছু দূরে যাওয়ার পরই অলোক নাথ গাড়িতে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। ওই অবস্থায় কোনও কিছু না ভেবে অলোক নাথকে বিশ্বাস করে তিনি গাড়িতে উঠে পড়েন।
বিনতা লিখেছেন, ‘‘গাড়িতে উঠেই আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ি। শুধু মনে আছে, গাড়িতে জোর করে আমার মুখে মদ ঢেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে বিছানায় জ্ঞান ফিরলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করি। সেই রাতে আমাকে শুধু ধর্ষণই করা হয়নি, প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না।’’
Dear @vintananda I am so so sorry. As @CintaaOfficial a show-cause Notice will be sent to @aloknath first thing in the mrng, why he shudnt b expld. Unfortunately we’ve to follow the due process. I urge u to file a complaint against this vile creature, we extend u full support.
— सुशांत सिंह sushant singh سشانت سنگھ (@sushant_says) October 8, 2018
কিন্তু এত দিন পর অভিযোগ কেন? বিনতা লিখেছেন, ‘‘সেই সময় বন্ধু বান্ধবীদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে মুখ খুলতে বারণ করেন। এর পরও যতদিন না আমার মনোবল ভেঙে গিয়েছে, ততদিন ধারাবাহিক ভাবে শুটিংয়ের সেটে আমাকে ক্রমাগত অপদস্ত করেছেন ওই অভিনেতা।’’
ফেসবুকে এই পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। প্রায় ৩০০০ ইউজার ওই পোস্ট শেয়ার করেছেন। কমেন্ট পড়েছে প্রায় দেড় হাজার। রিঅ্যাকশন পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। এ ছাড়াও টুইটারে এই নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। অলোক নাথকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন অধিকাংশই। তবে বর্ষীয়ান অভিনেতার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।