Advertisement
E-Paper

হার্ট অ্যাটাকের পরে নিজে থেকেই বেঁচে উঠবে মৃত কোষ! ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগানোর নতুন পথের খোঁজ

আর পেসমেকার বসাতে হবে না? করাতে হবে না অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টির? জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়া নিজে থেকেই সারবে হার্ট? কী ভাবে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০১
New study has found that human heart muscle cells can regenerate after a heart attack

নিজে থেকেই সেরে যাবে হার্ট, বেঁচে উঠবে মৃত কোষ, কী ভাবে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

হার্ট অ্যাটাকের পরে অ্যাঞ্জিয়োপ্লাস্টি বা পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন ফুরোবে। জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই নিজে থেকেই সেরে উঠবে হার্ট। চনমন করে দৌড়বে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দীর্ঘ দিনের ধারণা ছিল যে, মানুষের হৃৎপিণ্ড একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর নিজে থেকে মেরামত হতে পারে না। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয় বলেই দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। হার্টের চারপাশে এমন কিছু কোষ থাকে, যেগুলিকে যদি উসকে দেওয়া যায়, তা হলে তারা নিজেই থেকেই মেরামতির কাজ শুরু করতে পারে। মৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষের পুনরুজ্জীবনও সম্ভব হতে পারে।

মানুষের হৃদ্‌যন্ত্র এক দিন তার নষ্ট হয়ে বা পচন ধরে যাওয়া কোষ, কলাগুলিকে নিজেই বাতিল করে দেবে। তাদের জায়গায় বানিয়ে ফেলবে নতুন নতুন তরতাজা কোষ। যাকে জীববিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে, ‘রিজেনারেশন’। এই ক্ষমতা ইঁদুর ও কয়েক রকম সরীসৃপের মধ্যেই দেখা গিয়েছিল। গবেষকদের আশা, মানুষের হার্টও তেমনটা পারবে। শুধু সঠিক পদ্ধতি প্রয়োজন। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরাও হার্টের কোষের ‘রিজেনারেশন’ নিয়ে গবেষণারত। হার্ভার্ডের স্টেম সেল ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানিয়েছেন, না। হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপিণ্ডের একটি বড় অংশের কোষের ক্ষতি হয়। তবে দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলির পাশাপাশি এমন কিছু কোষ থাকে যারা বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরির চেষ্টা করে। এই পদ্ধতিকে বলে ‘মাইটোসিস’। তবে এটি খুব সামান্য অংশেই হয়। যদি কোনও ভাবে এই পদ্ধতিকে সক্রিয় করে তোলা যায়, তা হলে হার্ট তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতি নিজেই করতে পারবে। নতুন করে সেখানে কোষ বিভাজন শুরু হবে ফলে হার্টের পাম্প করার ক্ষমতাও তৈরি হবে। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে।

তবে বললেই তো আর সে কাজ সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন স্টেম সেল থেরাপির। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, হৃদ্‌রোগ হয়েছে এমন ব্যক্তির ত্বক থেকে স্টেম কোষ নিয়ে বিশেষ উপায়ে যদি হার্টের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা হলে স্টেম কোষ নিজে থেকেই গায়ে-গতরে খেটে নতুন কোষ তৈরি করতে শুরু করে দেবে। হার্টের যে জায়গাগুলিতে ব্লকেজ হয়েছিল, সেগুলি খুলতে শুরু করবে। ফলে আলাদা করে জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না। তা ছাড়া আরও এক পদ্ধতি আছে। গবেষকেরা দেখেছেন, হার্টের এমন কিছু স্টেম কোষ আছে যারা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। নির্দিষ্ট জিন থেরাপি বা ওষুধের মাধ্যমে এই কোষগুলিকে সক্রিয় করে তুলতে পারলেই কেল্লাফতে। হার্ট তখন নিজের চিকিৎসার উপায় নিজেই খুঁজে নিতে পারবে।

হৃদ্‌যন্ত্র অকেজো হয়ে গেলে তার প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। অথবা আজীবন পেসমেকারের ভার বহন করে যেতে হয়। দাতার অভাব এবং অস্ত্রোপচারের জটিলতা সেখানে অনেক বেশি। যদি সে জায়গায় নতুন গবেষণা সফল হয়, তা হলে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন যেমন ফুরোবে, তেমনই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে।

Heart Attack Heart Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy