Advertisement
E-Paper

সারা ক্ষণ ক্লান্ত লাগছে? শীতের আলসেমি ভেবে অ্যানিমিয়ার উপসর্গগুলি এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?

শীতের আমেজে কোথাও যেন সারা দিনের কাজে অনীহা আসে, স্ফূর্তির অভাব দেখা যায় শরীরে। চেহারা ক্রমেই ফ্যাকাশে হয়ে যায়। খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছাটাও যেন চলে যায়। প্রবল শীতে এগুলিকে নিছক আলসেমি বলে অবহেলা করলে মস্ত ভুল করবেন। বরং এই লক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মানে আপনার শরীরে থাবা বসাতে পারে রক্তাল্পতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৭
আলসেমি ভেবে বড় অসুখের লক্ষণকে অবহেলা করছেন না তো?

আলসেমি ভেবে বড় অসুখের লক্ষণকে অবহেলা করছেন না তো? ছবি: এআই।

শীতকালে ঘুম থেকে উঠতে সকলেরই কমবেশি কষ্ট হয়। কম্বলের তলার আরমাদায়ক বিছানা ছেড়ে ঠান্ডার মধ্যে উঠে স্নান-খাওয়া সেরে কাজে বেরোনো বেশ কঠিন। এই মরসুমে আলসেমির কারণে অফিসে পৌঁছতে দেরিও হয়ে যায় অনেক সময়ে। তবে অফিসে গিয়েও যে খুব বেশি চনমনে লাগে, এমন নয়। শীতের আমেজে কোথাও যেন সারা দিনের কাজে অনীহা আসে, স্ফূর্তির অভাব দেখা যায় শরীরে। চেহারা ক্রমেই ফ্যাকাশে হয়ে যায়। খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছেও যেন চলে যায়। প্রবল শীতে এগুলিকে নিছক আলসেমি বলে অবহেলা করলে মস্ত ভুল করবেন। বরং এই লক্ষণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মানে, আপনার শরীরে থাবা বসাতে পারে রক্তাল্পতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে অ্যানিমিয়া।

রক্তাল্পতার লক্ষণ

ক্লান্তি বা দুর্বলতা হল রক্তাল্পতার সাধারণ লক্ষণ। শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। ফ্যাকাসে চামড়া, বুকে ব্যথাও রক্তাল্পতার উপসর্গ। রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তির অনেক সময় চুল ঝরতে পারে। মূলত আয়রনের অভাবে এমন হয়। রক্তাল্পতার ফলে অনেক সময় অবসাদ তৈরি হয়। অনেকের হৃদ্স্পন্দনের গতি বেড়ে যায় এই অসুখে।

কেন হয় এই অসুখ

মূলত রক্তে লোহিত কণিকা কমে গেলে বা নষ্ট হয়ে হলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, অর্শ ইত্যাদি সমস্যায় ভুগলেও রক্তাল্পতা দেখা যায়। ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, যকৃত বা কিডনির সমস্যাও এই রোগকে বয়ে আনে। আবার ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি থেকেও এই রোগ হতে পারে। ছোটদের ক্ষেত্রে কৃমি এর বড় কারণ। এই বিষয়ে সতর্ক না হলে শিশুদের শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে।

রোগ নির্ণয়

রক্তাল্পতা নির্ণয়ের সহজ উপায় রক্ত পরীক্ষা করানো। মূলত, রক্তের সিবিসি পরীক্ষা করে লোহিত কণিকা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জেনে নেওয়া হয়। তার পর চলতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। খেতে হবে আয়রন সাপ্লিমেন্ট।

ঘরোয়া উপায়

‘আমেরিকান সোসাইটি অফ হেমাটোলজি’-র গবেষণা বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খাদ্যাভাসের কারণেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয়। অথচ অনেকেরই জানা নেই যে, এক জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক ৮ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন। আর মহিলাদের প্রয়োজন দৈনিক ১৮ মিলিগ্রাম। অন্তঃসত্ত্বা মহিলার দৈনিক ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে অ্যানিমিয়া ছাড়াও নানা অসুখ হতে পারে। চিকিৎসক শুভম সাহা বলছেন, ‘‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রক্তাল্পতা লাইফস্টাইল জনিত রোগ। ঘরোয়া কয়েকটি খাবার রোজ ডায়েটে রাখলেই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দূরে থাকতে পারে। মুসুর ডাল, কুলেখাড়া পাতা, পালংশাক, আলু, কাজুবাদাম এর মধ্যে প্রধান। এ ছাড়াও কিশমিশ, টম্যাটো, মটরশুঁটি, শিমের বীজ ইত্যাদি অত্যন্ত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। এই খাবারগুলি রোজ ডায়েটে থাকলে রক্তাল্পতাকে দূরে রাখা যায় অনেকটাই।’’

Anemia Anemia Food Habits
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy