• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

জেলা হাসপাতাল মেডিক্যাল হবে, আশ্বাস স্বাস্থ্য অধিকর্তার

উত্তরবঙ্গের দুই জেলা হাসপাতাল-সহ রাজ্যের পাঁচটি জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের পাঁচটি জেলা হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। এগুলি হল কোচবিহার এমজে এন হাসপাতাল, রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতাল, পুরুলিয়া জেলা হাসপাতাল, রামপুরহাট হাসপাতাল, এবং ডায়মন্ডহারবার হাসপাতাল।’’

বছরখানেক আগে ওই সিদ্ধান্ত হলেও সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে ওই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা (ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট) চেয়ে পাঠানো হয়। সেই মতো মাসখানেক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে  তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। কবে থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজগুলি চালু হতে পারে, তার উত্তরে সুশান্তবাবু বলেন, ‘‘কেন্দ্রের তরফে বিপিআর অনুমোদন করে অর্থ মঞ্জুর করা হলেই আমরা পরিকাঠামো গড়ার কাজ শুরু করে দেব।’’ ওই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলি গড়ার ক্ষেত্রে তিন ভাগের দুই ভাগ টাকা দেবে কেন্দ্র সরকার। বাকি টাকা দেবে রাজ্য।

সম্প্রতি মেডিক্যাল কাউন্সিলর অব ইন্ডিয়া উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদশর্নের সময় ১৫০ আসনে পড়ুয়ার জন্য পরিকাঠামো না থাকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর পরেই তড়িঘড়ি সেই সমস্ত কাজ দ্রুত করার উদোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এখনও লেকচার থিয়েটার ও অডিটোরিয়াম তৈরি, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও হস্টেলের পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। লেকচার থিয়েটার-সহ কয়েকটি কাজের টেন্ডার করা হলেও কেউ অংশ নেয়নি। সুশান্তবাবু জানান, পূর্ত দফতর থেকে ওই সমস্ত নির্মাণ কাজের টেন্ডার করা হলেও কাজ হয়নি। ফের টেন্ডার করতে হবে। সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে টেন্ডার করতে গিয়ে ১ মাসের মতো সময় নষ্ট হচ্ছে। পরিকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত করার চেষ্টা চলছে। ক্যান্সার বিভাগ অত্যাধুনিক ভাবে ঝেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথাও এ দিন জানানো হয়।

এনসেফ্যালাইটিস, ডেঙ্গির মতো রোগের চিকিৎসায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অব কলেরা অ্যান্ড এনটারিক ডিজিজ (নাইসেড)-এর শাখা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্পাসের জায়গা নাইসেড কতৃর্পক্ষের হাতে তুলে দিতে না পারার জন্য সেই প্রক্রিয়াও পিছিয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা জানান, ক্যাম্পাসের জায়গা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের নামে নথিভুক্ত না থাকায় তা নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

এ দিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হলেও মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, অ্যানাটমি, প্রসূতি, ও শল্য বিভাগের প্রধানরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তাদের শো-কজ করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা। তবে তাঁরা অধিকাংশই ছুটি নিয়ে বাইরে গিয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের কয়েকজনের নিয়মিত অনিয়মও চলছেই। বিশেষ করে শল্য বিভাগের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে দীর্ঘদিন ধরেই। তাদের একজন অধিকাংশ সময়ই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন বলে অভিযোগ। এ দিন তাঁদের নাম নথিভুক্ত করে নিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন