Advertisement
E-Paper

বাটলা হাউস এনকাউন্টারের মূল চক্রী আরিজ ধৃত

ডিসিপি প্রমোদ সিংহ খুশওয়া (দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল) জানিয়েছেন, বোমা তৈরি ছাড়াও জঙ্গি সংগঠনে আরও নানা কাজে সক্রিয় ছিল আরিজ। নাশকতার ছক কষতেও ওস্তাদ ছিল সে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ২০:৪৩
ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের অন্যতম সদস্য আরিজকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ছবি:রয়টার্স।

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের অন্যতম সদস্য আরিজকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ছবি:রয়টার্স।

২০০৮ সালের বাটলা হাউস এনকাউন্টারের অন্যতম মূল অভিযুক্ত আরিজ খান ওরফে জুনেইদকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই এনকাউন্টারের পরেই নেপাল পালিয়ে গিয়েছিল আরিজ। প্রায় দশ বছর পর খোঁজ মিলল তার।

জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনে বোমা তৈরির কাজ করত আরিজ। গত মাসে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের অন্যতম সদস্য আবদুল সুভান কুরেশিকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তার কাছ থেকেই আরিজের গতিবিধির যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায়। গতকাল, ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে আরিজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডিসিপি প্রমোদ সিংহ খুশওয়া (দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল) জানিয়েছেন, বোমা তৈরি ছাড়াও জঙ্গি সংগঠনে আরও নানা কাজে সক্রিয় ছিল আরিজ। নাশকতার ছক কষতেও ওস্তাদ ছিল সে। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে দিল্লি, আহমেদাবাদ, উত্তরপ্রদেশ এবং জয়পুরের নানা জায়গায় বোম সরবরাহ করে সে। বাটলা হাউস ছাড়াও, ২০০৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিস্ফোরণ, ২০০৮ জয়পুর ধারাবাহিক বিস্ফোরণ এবং ওই বছরই আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ কাণ্ডে নামে জড়ায় আরিজের। দেশের বিভিন্ন শহরে ঘটে যাওয়া এই বিস্ফোরণগুলিতে মোট ১৬৫ জন মানুষের প্রাণ যায়। আহত হন কমপক্ষে ৫৩৫ জন।

আরও পড়ুন:

খতম দুই জঙ্গি, সংঘর্ষ শেষ হল শ্রীনগরে

বিপুল টাকার জালিয়াতি মুম্বইয়ের পিএনবি শাখায়

আরিজকে ধরতে ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির জামিয়া নগরের বাটলা হাউসে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে, আরিজের সঙ্গে ছিল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের আরও চার জঙ্গি। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। চম্পট দেয় আরিজ। সংঘর্ষে নিহত হন দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক মোহন চন্দ শর্মা। ডিসিপি খুশওয়া জানিয়েছেন, জামিয়া নগর থেকে পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করেছিল আরিজ। তাকে ধরতে অনেক বার অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ। কিন্তু, প্রতিবারই পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যায় সে। পরে শোনা যায়, সালিম নাম নিয়ে নেপালের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করছে সে। এমনকী নেপালের বিভিন্ন স্কুলে আরিজ শিক্ষকতার কাজও করেছে বলে খবর পান তদন্তকারী অফিসারেরা। নেপালেই ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ ভটকলের সান্নিধ্যে আসে আরিজ। ফের একবার নাশকতার প্রবণতা মাথা চাড়া দেয় তার। ২০১৪ সালে সে পাড়ি দেয় সৌদি আরব। সেখানে জঙ্গি সংগঠনের নানা কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। ২০১৭-র মার্চে ফের নেপালে ফিরে আসে। তদন্তকারী অফিসারেরা জানিয়েছেন, পুরনো সঙ্গীদের সঙ্গে দেখা করতে গতকাল ভারত-নেপাল সীমান্তে আসে আরিজ। তখনই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের দাবি, আরিজ ওরফে জুনেইদের গ্রেফতারির ঘটনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গি সংগঠনের নানা বিষয়ে তার নখদর্পনে। এমনকী, দেশ থেকে পালানো আরও অনেক জঙ্গির সঙ্গেও আরিজের যোগাযোগ রয়েছে। সুতরাং, তার সূত্র ধরেই সেই সব জঙ্গিদের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।

Batla House Encounter Indian Mujahideen Ariz Khan Terrorist Delhi Police ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনে আরিজ খান
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy