Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

মোদী কেমন হিন্দু? পাল্টা প্রশ্ন রাহুলের

সংবাদ সংস্থা
উদয়পুর ও জোধপুর ০২ ডিসেম্বর ২০১৮ ০১:৪৬

নরেন্দ্র মোদী কেমন হিন্দু, প্রশ্ন তুললেন রাহুল গাঁধী। ভোটমুখী রাজস্থানে কংগ্রেস সভাপতির আরও দাবি, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে নরেন্দ্র মোদী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন।

আজ উদয়পুরে রাহুল বলেন, ‘‘হিন্দুত্বের সার কথা কী? গীতার মূল বক্তব্যই বা কী? হিন্দুত্বের মূল কথা হল সব প্রাণীরই কিছু না কিছু জ্ঞান রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন তিনি হিন্দু। কিন্তু হিন্দুত্বের সারমর্মই তিনি বোঝেন না। উনি কেমন হিন্দু?’’

সম্প্রতি রাহুলের গোত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি। তাঁর মন্দিরে যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করেছে নরেন্দ্র মোদীর দল। রাহুল রাজস্থানে পুষ্করের মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরে সেই মন্দিরের পুরোহিত জানান, রাহুল দত্তাত্রেয় গোত্রের কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ। মতিলাল নেহরু, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গাঁধী, সঞ্জয় গাঁধী, মেনকা গাঁধীও ওই মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন বলে জানান ওই পুরোহিত। এর পরেও বিজেপি গোত্র প্রশ্নে আক্রমণ থামায়নি। বিজেপি নেতাদের একাংশের দাবি, ওই গোত্র জওহরলালের। কিন্তু রাহুলের ঠাকুর্দা পার্শী ছিলেন। তাই তিনি দত্তাত্রেয় গোত্রভুক্ত নন। তার মধ্যেই আজ মোদীর হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি।

Advertisement

আরও পড়ুন: ফসল বিমায় দুর্নীতি! মোদীর বিরুদ্ধে নতুন তোপ দাগলেন রাহুল

রাহুলের মন্তব্যের পরেই মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মতো শীর্ষ নেতারা। সুষমার কটাক্ষ, ‘‘পৈতেধারী ব্রাহ্মণের জ্ঞান এত বেড়ে গিয়েছে যে এখন তাঁর কাছ থেকে আমাদের হিন্দুত্ব শিখতে হবে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন কখনও রাহুল গাঁধীর কাছে হিন্দুত্ব শিখতে না হয়।’’ রবিশঙ্কর প্রসাদের মতে, ‘‘রাহুল রাজনৈতিক প্রয়োজনে হিন্দুত্বকে বরণ করার চেষ্টা করেন। তিনি হিন্দুত্বে বিশ্বাস করেন না। তাই তিনি গুজরাতে শিবভক্ত হিন্দু, আবার রাজস্থানে ব্রাহ্মণ গাঁধী।’’ অমিত শাহের কটাক্ষ, ‘‘কংগ্রেসও এখন হিন্দুত্ব, গীতা নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছে।’’

হিন্দুত্বের পাশাপাশি এ দিন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সম্পর্কে মোদীর নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘উত্তরপ্রদেশের ভোটে হেরে যেত মোদীর দল। তাই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন

তিনি।’’ রাহুলের দাবি, ‘‘মনমোহন সিংহের জমানায় তিন বার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল সেনা। সেগুলির কথা কেউ জানেন কি? তখনও সেনা

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুমতি চেয়েছিল। তারা জানিয়েছিল, অভিযানের কথা গোপন

রাখা উচিত। আমরা তাদের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছিলাম।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘মোদী মনে করেন তিনি সেনা, বিদেশ বা কৃষি মন্ত্রকের কাজকর্ম সংশ্লিষ্ট কর্তাদের চেয়েও বেশি বোঝেন।’’

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের বক্তব্য, ‘‘রাহুল শহিদদের অপমান করছেন। সেনাদের মৃত্যুর বদলা নিতে প্রধানমন্ত্রী সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এখন রাহুল বলছেন, উত্তরপ্রদেশে ভোটে জেতার জন্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো হয়েছিল। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার সময়ে এমন পদক্ষেপ করার সাহস দেখায়নি।’’

আরও পড়ুন

Advertisement