×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৮ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

বিকাশ-তদন্তে যোগ বলিউড খ্যাত দয়ার

সুজিষ্ণু মাহাতো
কলকাতা ১৩ জুলাই ২০২০ ০৪:০৮
দয়া নায়ক

দয়া নায়ক

সমাপতন এমনও হয়। এনকাউন্টার বললেই যে পুলিশ অফিসারের কথা মনে পড়ে, বিকাশ দুবে এনকাউন্টারের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও হাজির সেই তিনিই!

দয়া নায়ক। বলিউডি ফিল্প ‘অব তক ছপ্পন’-এর অনেকটারই ভিত্তি নাকি ছিল এই ইন্সপেক্টরের কার্যকলাপ। দয়া এখন মহারাষ্ট্র পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম স্কোয়াডের (এটিএস) অফিসার। শনিবার তাঁর নেতৃত্বেই ঠাণে থেকে ধরা হয় বিকাশের সঙ্গী অরবিন্দ ওরফে গুড্ডন ত্রিবেদী এবং তার গাড়ির চালক সোনু তিওয়ারিকে। রাতে অনেক চেষ্টার পর দয়ার নাগাল পাওয়া গেলেও এনকাউন্টার নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ দয়া। আনন্দবাজারকে সাফ বললেন, ‘‘আমি মুম্বইয়ে, আপনি কলকাতায়। উত্তরপ্রদেশ অন্য রাজ্য। সেখানে কী হয়েছে, তা সেই রাজ্যের বিষয়। তা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’’ বললেনও অবশ্য অনেক কিছু। তাঁর মতে, ‘‘পুলিশ নিজের কাজ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ। সে আইনের কাছে দায়িত্ববান। পুলিশকেও নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।’’ মনে পড়ে যাচ্ছিল ‘অব তক ছপ্পন’-তে নানা পাটেকর অভিনীত ইন্সপেক্টর সাধু আগাশের মুখে সেই সংলাপ, ‘হাম সব সিস্টেমকা হিসসা হ্যায়। সিস্টেম ডিসাইড করতা হ্যায়, আপুন ফলো করতা হ্যায়।’’

আপনার জীবন নিয়ে এমন সিনেমা হয়েছে, আপনি এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট, এনকাউন্টার নিয়ে কিচ্ছু বলবেন না? দয়ার গলা শুনে মনেই হয় না, সারাদিন দুই দুঁদে অপরাধীর পিছনে কেটেছে। একই রকম নিস্পৃহভাবে বলেন, ‘‘এ সব তকমা ইত্যাদি মিডিয়ার দেওয়া। তবে বলতে পারি মন দিয়ে ডিউটি করেছি। আমার কোনও অভিযান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: বাসে উজ্জয়িনী যায় বিকাশ

আরও পড়ুন: ২৮ হাজারের বেশি করোনা-আক্রান্ত গত ২৪ ঘণ্টায়

‘এনকাউন্টারে’ বিকাশ দুবের মৃত্যুর পর অবশ্য বহু প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ, শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য লুকোতেই ভুয়ো এনকাউন্টারে মারা হয়েছে ওই গ্যাংস্টারকে। এমন কি হয়? এ নিয়ে কোনও কথাই বলতে চান না দয়া। তবে এই এনকাউন্টার বা হায়দরাবাদের ধর্ষণ-কাণ্ডের পরে হওয়া এনকাউন্টার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেসে বললেন, ‘‘এখন সবাই মত দিতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া আছে। বিভিন্ন লোক তো বিভিন্ন রকম। দেখুন না, কারও করোনা হচ্ছে, কারও হচ্ছে না। কারও রোগের লক্ষ্মণ আছে, কারও নেই। তাই মতামতও তো বিভিন্ন হবে।’’

একটা বিষয়ে অবশ্য সবাইকে একমত হতেই হবে, মনে করেন দয়া। তা হল, মুম্বইয়ে অপরাধ কমা। তিনি বলছেন, ‘‘মুম্বই দেশের অন্যতম নিরাপদ শহর। গত ১০ বছরে গুলি চলেনি বললেই চলে। বহু অপরাধীকে গ্রেফতার করেছি আমরা। যতজন মারা গিয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি গ্রেফতার হয়েছে।’’ গ্রেফতারির খবর বেশি প্রচার পায় না, যতটা পায় গুলি চলার খবর, মত দয়ার।

তবে দয়া নায়কের পরিচিতি তো গুলি চালানোর জন্যই। এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। পাত্তাই দিতে চাইলেন না তিনি, ‘‘আরে এনকাউন্টার আবার কী! একজন আরেকজনকে একটা চড় মারল। সে পাল্টা চড় মারল। এই তো এনকাউন্টার!’’

Advertisement