‘রোজ় ডে’ উদ্যাপন করছিলেন বেশ ঘটা করে। স্বামীকে চমকে দেওয়ার জন্য উপহারও এনেছিলেন। সমাজমাধ্যমে ছবি এবং ভিডিয়োও পোস্ট করেন। আর সেই ছবি এবং ভিডিয়ো পুলিশের কাছে পৌঁছোতেই মহিলার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। ঘটনাটি বিহারের মুঙ্গরের। আর এই ঘটনা থেকে স্বাভাবিক ভাবেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তা হলে কি নীতীশ কুমারের রাজ্যে ‘রোজ় ডে’ নিষিদ্ধ করা হল?
এর উত্তর হল, না। নীতীশের রাজ্যে ‘রোজ় ডে’ নিষিদ্ধ হয়নি। তা হলে সমস্যা কোথায়? কী এমন অপরাধ করলেন যে, এই দিন উদ্যাপনের পরই মহিলার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বাধ্য হল পুলিশ। ‘রোজ় ডে’ পালনে সমস্যা নায়, সমস্যাটা আসলে অন্য জায়গায়। মহিলার নাম কাঞ্চন দেবী। তাঁদের একটি ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কাঞ্চন দেবী তাঁর স্বামীকে একগুচ্ছ গোলাপ ফুল দিচ্ছেন। তাঁর স্বামী সেটি হাসিমুখে গ্রহণ করছেন। তার পরের ঘটনাটাই কাঞ্চন দেবীর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
স্বামীকে চমকে দিতে তাঁর জন্য একটি উপহারও এনেছিলেন কাঞ্চন। গোলাপ ফুল হাতে তুলে দেওয়ার পর স্বামীর হাতে উপহারও তুলে দেন। আর সেই উপহার ছিল মদের বোতল। এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতেই বিপত্তি বাধে। সেই সমস্যা বাড়িয়ে দেয় কাঞ্চনের আরও একটি ছবি। পিস্তল তাক করে দাঁড়িয়ে আছেন কাঞ্চন। তার পরই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। প্রসঙ্গত, বিহারে মদ নিষিদ্ধ। আর কাঞ্চন দেবী স্বামীকে সেই নিষিদ্ধ উপহার দিতেই বিপাকে পড়েছেন।
মুঙ্গেরের পুলিশ সুপার সৈয়দ ইমরান মাসুদ জানিয়েছেন, মহিলার বিরুদ্ধে এফাইআর দায়ের করা হয়েছে। ছবি পুলিশের হাতে পৌঁছোতেই এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। পুলিশের ওই দলটি মহিলার বাড়িতে তল্লাশি অভিযানেও যায়। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কাঞ্চন দেবীর আরও একটি ছবি তাঁদের হাতে এসেছে। আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে সেই ছবি তুলেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি দীনদয়াল চওকের বাসিন্দা বিশাল কুমারের। যদিও সেই আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে, কিন্তু সেই অস্ত্র অন্যের হাতে তুলে দেওয়া এবং সেই অস্ত্র নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করা বেআইনি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কাঞ্চন দেবী এবং আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্ত চলছে।