Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

হাথরসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন রাহুল-প্রিয়ঙ্কা

সংবাদ সংস্থা
লখনউ ০৩ অক্টোবর ২০২০ ১৭:০৭
নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা।

নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা।

দিনভর ভোগান্তির পর হাথরসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গাঁধী। যোগী সরকারের কাছ থেকে অনুমতি আদায় করে শনিবার রাতে হাথরসের বুল গড়হী গ্রামে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের আরও তিন নেতা। সেখানে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। মন দিয়ে তাঁদের অভিযোগ শোনেন। নির্যাতিতার পরিবারের লোকজন প্রিয়ঙ্কাকে মেয়ের ছবিও দেখান।

সেখান থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘‘শেষ বারের মতো মেয়েকে দেখতেও পাননি ওঁরা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নিজের দায়িত্ব বোঝা উচিত। ন্যায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব আমরা। নির্যাতিতার পরিবার বিচারবিভাগীয় তদন্ত চান। অপসারণ চান জেলাশাসকের। ওঁদের নিরাপত্তাও দিতে হবে।’’

রাহুল বলেন, ‘‘পৃথিবীর কোনও শক্তি নির্যাতিতার পরিবারকে চুপ করিয়ে রাখতে পারবে না। ’’

Advertisement

হাথরস যাওয়া নিয়ে গত দু’দিন ধরে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন চলছিল বিরোধীদের। অবশেষে শনিবার বিরোধীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে হয় যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে। রাজনৈতিক চাপে পড়েই যোগী সরকার তাঁদের হাথরসে ঢোকার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি।

এ দিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ শশী তারুর-সহ দলের ৩০ জন সাংসদকে নিয়ে হাথরসের উদ্দেশে রওনা দেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। রূপোলি টয়োটা ইনোভার স্টিয়ারিং ছিল প্রিয়ঙ্কার হাতেই। রাহুল তাঁর পাশে বসেছিলেন। পিছনে একটি বাসে ছিলেন দলের সাংসদরা। কিন্তু দিল্লি-নয়ডা ফ্লাইওয়ে-তে ওঠার মুখে তাঁদের রাস্তা আটকায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বলা হয়, কংগ্রেস নেতারা ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করছেন। সেখান থেকে ফিরে যেতে হবে তাঁদের। কিন্তু এক পা-ও পিছোবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেখানেই সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা শুরু করেন রাহুল। তার ঘণ্টাখানেক পর তাঁদের হাথরসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।


এর আগে, বৃহস্পতিবার রাহুলকে গন্তব্যের অনেক আগেই আটকে দেওয়া হয়েছিল। হাথরসের বুল গড়হী গ্রামে নির্যাতিতার বাড়ি। সেই গ্রামে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ। ওইদিন সংবাদমাধ্যমকেও সেখানে আটকে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত গ্রামে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষেধ। হাথরসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রকাশ কুমার বলেছিলেন, ‘‘বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাইরের কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’’

আরও পড়ুন: হাথরস কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে মমতা, নিশানা বিজেপিকে​

আরও পড়ুন: এ বার বিহারে ‘ধর্ষিত’ হয়ে আত্মহত্যা দলিত কিশোরীর​

তাতে দিল্লি ফিরে আসতে বাধ্য হলেও, নির্যাতিতার জন্য ন্যায্য বিচারের দাবিতে সরব ছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। শুক্রবার সন্ধ্যায় যন্তর মন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন দলের যুব নেতারা। অন্য দিকে বাল্মীকি মন্দিরে নির্যাতিতার শোকসভায় যোগ দেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘ন্যায্য বিচার আদায় করেই ছাড়ব। তা না হওয়া পর্যন্ত হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। নির্যাতিতার পরিবারকে কোনও সাহায্যই করেনি সরকার। অত্যন্ত অসহায় বোধ করছেন ওঁরা। এমনকি, রীতি মেনে সৎকারটুকুও করতে দেওয়া হয়নি। সরকারের উপর চাপ বাড়াতেই হবে আমাদের।’’ তার পরেই এ দিন হাথরসে ঢোকার অনুমতি আদায় করে ছাড়েন তাঁরা।

আরও পড়ুন

Advertisement