Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

দেশ

বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ শহরের তালিকায় রয়েছে ভারতের এই শহরগুলি

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ০৪ জুন ২০১৯ ০৯:৩৯
শহর কলকাতায় গরম খানিকটা কমলেও স্বস্তি নেই দেশের অন্যান্য প্রান্তে। তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা-সহ উত্তর ভারতের। বিশ্বের ১৫টি উষ্ণ শহরের তালিকায় ঢুকে পড়েছে দেশের ১০টি শহর। তাপমাত্রার পারদ কোথায় কতটা চড়ছে? এ বছরে গরম কমার সম্ভবনা রয়েছে কি? সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে গ্যালারিতে।

দিন কয়েক ধরেই তীব্র তাপপ্রবাহে অস্বস্তি বে়ড়েছে রাজস্থানে। রবিবার রাজস্থানের চারু শহরে তাপমাত্রা ছিল ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইট এল ডোরাডো জানিয়েছে, সে দিন চারুতে ৪৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শ্রীগঙ্গানগর শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে দিন বিশ্বের উষ্ণতম শহর ছিল চারু।
Advertisement
রাজস্থানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপপ্রবাহ বেড়েছে উত্তরপ্রদেশে। রবিবার সে রাজ্যের বান্দা শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়েই বইছে দিল্লি, জয়পুর, কোটা হায়দরাবাদ বা লখনউতে তাপমাত্রার পারদ ঘোরাফেরা করেছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে।

বান্দা শহরের পরেই নাম উঠে এসেছে রাজস্থানের বিকানেরের। রবিবার ওই শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য দিকে, হরিয়ানার নারনাউল এবং রাজস্থানের জয়সলমের শহরের তাপমাত্রা ছিল ৪৭.২ ডিগ্রি করে এবং দিল্লিতে ৪৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
Advertisement
এই আবহে কেমন রয়েছেন দেশের শৈলশহরের বাসিন্দারা? আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, স্বস্তিতে নেই তাঁরাও। শিমলা, নৈনিতাল, শ্রীনগরের মতো শহরে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। যা স্বাভাবিকের থেকে ৪ ডিগ্রি বেশি। রবিবার শিমলা এবং নৈনিতালের তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩২ ও ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দিল্লির মৌসম ভবনের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত দু’দশকে হিল স্টেশনগুলিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে তাপমাত্রা বেড়েছে। ১ জুন উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে এক সময় তাপমাত্রা ছুঁয়েছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপপ্রবাহের ফলে অস্বস্তিতে ভুগলেও আশার বাণী শুনিয়েছেন মৌসম ভবনের কর্তারা। আগামী কয়েক দিনে উত্তর ভারতে গরম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, সমতল এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁলেই তা তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। অন্য দিকে, উপকূলবর্তী এলাকায় তাপমাত্রার পারদ ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠলে বা পর্বতাঞ্চলে তা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপারে গেলে তাকে তাপপ্রবাহ বলা যাবে।

তীব্র দাবদাহে নানা ধরনে অসুখবিসুখ তো হয়েইছে, এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও আকছার ঘটছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে পেশ করা একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০১৮-র মধ্যে তীব্র দাবদাহে ৬,১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাপপ্রবাহের ফলে কেবলমাত্র ২০১৫-তেই ২,০৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে প্রকাশ।

তবে কি এই তীব্র দাবদাহ থেকে রেহাই মিলবে না? আবহাওয়া দফতরের কথা শুনলে কিন্তু নিরাশ হতে হবে।  তারা জানিয়েছে, ১৯০১-এর পর থেকে উষ্ণতম বছর ছিল ২০১৮। এবং চলতি বছরে সে রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে যদি বর্ষা তার স্বাভাবিক সময়ে না আসে।