Advertisement
E-Paper

এসে গিয়েছে এল নিনো! বর্ষায় আরও শক্তিশালী হতে পারে সেই উষ্ণ স্রোত, আশঙ্কা মৌসম ভবনের

জাপানের মৌসম ভবন (জেপিএ) জানিয়েছে, ১১ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে আর্বিভাব হয়েছে এল নিনোর। তারা ভারতের বর্ষা নিয়ে কিছুটা হলেও আশার কথাই শুনিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ২২:১৬
এসে গিয়ে এল নিনো।

এসে গিয়ে এল নিনো। — ফাইল চিত্র।

পূর্বাভাস ছিল। সেই মতো প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিক ভাবে আবির্ভাব ঘটেছে এল নিনোর। সতর্ক করে জানাল ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি)। তারা জানিয়েছে, চলতি বর্ষার মরসুমে আরও শক্তিশালী হবে এল নিনো।

ভারত মহাসাগরীয় দ্বিমেরুকরণ বা ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (আইওডি)-এর জুনের বুলেটিন উদ্ধৃত করে মৌসম ভবন জানিয়েছে, মধ্য এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়েছে, যা এল নিনো বলে ধরে নেওয়া হয়। বুলেটিনে বলা হয়েছে, ‘‘নিরক্ষরেখা সংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষার সময় তা আরও শক্তিশালী হবে।’’

পূর্বাভাস বলছে, জুন থেকে অগস্টে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। তার প্রভাবে ভারতে দুর্বল হতে পারে বর্ষা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও খরাও দেখা দিতে পারে। যদিও মৌসম ভবন জানিয়েছে, এল নিনো একা ভারতের বর্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে না। জাপানের মৌসম ভবন (জেপিএ) জানিয়েছে, ১১ জুন আনুষ্ঠানিক ভাবে আর্বিভাব হয়েছে এল নিনোর। তারা ভারতের বর্ষা নিয়ে আশার কথাই শুনিয়েছে। জানিয়েছে, জুলাইয়ে ইতিবাচক আইওডি তৈরি হতে পারে, যা এল নিনোকে প্রতিরোধ করতে। এর ফলে বর্ষার ঘাটতি দেশে না-ও হতে পারে।

এই আইওডি পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারত মহাসাগরের উষ্ণ পশ্চিমাংশ আর্দ্রতাপূর্ণ বায়ুকে অতিরিক্ত শক্তি দিয়ে উপমহাদেশের দিকে টেনে আনে। ফলে আসে বৃষ্টিও। এই পর্যায়ে পশ্চিম ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। পূর্বে সেই কারণেই জল থাকে শীতল। ভারত মহাসাগরের এই আইওডি শক্তিশালী হলে এল নিনো কাজ করতে পারে না।

এল নিনো কী

কয়েক বছর অন্তর প্রশান্ত মহাসাগরে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। পূর্ব থেকে পশ্চিমমুখী যে বাতাস সাধারণত উষ্ণ জলকে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়, সেই বাতাস হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে উষ্ণ জল আবার পূর্ব দিকে ফিরে আসে এবং দক্ষিণ আমেরিকার উপকূল ঘেঁষে বইতে থাকে। এই স্রোতের প্রভাবে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশ উষ্ণ হয়ে ওঠে। বইতে শুরু করে উষ্ণ স্রোত। একেই বলে এল নিনো। স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’র অর্থ ‘ছোট্ট ছেলে’। শত শত বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার মৎস্যজীবীরা প্রশান্ত মহাসাগরে এই অস্বাভাবিক স্রোত লক্ষ্য করেছিলেন। স্রোতের নামকরণও করেছিলেন তাঁরা।

El Nino
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy